প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা (PMFBY) প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা (PMFBY) হলো ভারত সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি বিমা প্রকল্প। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ বা রোগের কারণে ফসলের ক্ষতি হলে কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করার লক্ষ্যে ২০১৬ সালের ১৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই প্রকল্পটি চালু করেন। এটি ভারতের পূর্ববর্তী দুটি বিমা প্রকল্প— 'জাতীয় কৃষি বিমা প্রকল্প' (NAIS) এবং 'সংশোধিত জাতীয় কৃষি বিমা প্রকল্প' (MNAIS)-কে প্রতিস্থাপন করে তৈরি করা হয়েছে। প্রধান উদ্দেশ্য এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্যগুলো হলো: - প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা। - কৃষকদের আয় স্থিতিশীল করা যাতে তারা চাষাবাদ চালিয়ে যেতে পারেন। - কৃষকদের আধুনিক এবং উদ্ভাবনী কৃষি পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত করা। - কৃষি খাতে ঋণের প্রবাহ নিশ্চিত করা, যা কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক। প্রিমিয়াম কাঠামো এই প্রকল্পের অধীনে কৃষকদের অত্যন্ত স্বল্প হারে বিমা প্রিমিয়াম দিতে হয়। বাকি প্রিমিয়ামের অংশ কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার সমানভাবে বহন করে। - খরিফ শস্য: বিমাকৃত রাশির মাত্র ২% প্রিমিয়াম কৃষকদের দিতে হয়। - রবি শস্য: বিমাকৃত রাশির মাত্র ১.৫% প্রিমিয়াম নির্ধারিত। - বাণিজ্যিক ও উদ্যানপালন শস্য: বার্ষিক বাণিজ্যিক বা উদ্যানপালন ফসলের ক্ষেত্রে প্রিমিয়ামের হার ৫%। আওতাভুক্ত ঝুঁকি এবং সুরক্ষা PMFBY চাষের বিভিন্ন পর্যায়ে নিম্নলিখিত ঝুঁকিগুলো কভার করে: বপন/রোপণ প্রতিরোধ - প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে যদি কৃষক ফসল বপন বা রোপণ করতে ব্যর্থ হন, তবে বিমা কভারেজ প্রদান করা হয়। >চাষকালীন ঝুঁকি - খরা, বন্যা, প্লাবন, পোকা-মাকড় বা রোগের কারণে ফসলের ফলন কম হলে সুরক্ষা পাওয়া যায়। ফসল কাটার পরবর্তী ক্ষতি - ফসল কাটার পর মাঠেই শুকানোর জন্য রাখা অবস্থায় যদি ঘূর্ণিঝড় বা অসময়ের বৃষ্টির কারণে ক্ষতি হয়, তবে সর্বাধিক ১৪ দিন পর্যন্ত সুরক্ষা প্রদান করা হয়। স্থানীয় বিপর্যয় - শিলাবৃষ্টি, ভূমিধস বা মেঘভাঙা বৃষ্টির মতো নির্দিষ্ট এলাকার দুর্যোগের কারণে ক্ষতির ক্ষেত্রে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। প্রযুক্তিগত ব্যবহার প্রকল্পটিকে আরও স্বচ্ছ এবং দ্রুততর করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে: - ক্রপ ইন্স্যুরেন্স অ্যাপ: কৃষকরা এই অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি বিমার জন্য আবেদন করতে পারেন এবং ফসলের ক্ষতির তথ্য জানাতে পারেন। - রিমোট সেন্সিং ও ড্রোন: ফসলের ফলন দ্রুত মূল্যায়ন করতে এবং বিমা দাবি নিষ্পত্তিতে উপগ্রহ চিত্র ও ড্রোনের সাহায্য নেওয়া হয়। - জাতীয় ক্রপ ইন্স্যুরেন্স পোর্টাল (NCIP): সমস্ত তথ্য একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষণ করা হয়। সুবিধাভোগী এবং যোগ্যতা ভারতের যেকোনো কৃষক যারা বিজ্ঞাপিত এলাকায় বিজ্ঞাপিত ফসল চাষ করেন, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারেন। পূর্বে ঋণগ্রহীতা কৃষকদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক থাকলেও, বর্তমানে এটি সকল কৃষকের জন্য ঐচ্ছিক করা হয়েছে। অংশীদার কৃষক এবং বর্গাদাররাও এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারেন। চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনা প্রকল্পটি অত্যন্ত সহায়ক হলেও কিছু চ্যালেঞ্জ লক্ষ্য করা গেছে: - দাবি নিষ্পত্তিতে বিলম্ব: অনেক ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারগুলোর প্রিমিয়ামের অংশ প্রদানে বিলম্বের কারণে কৃষকদের বিমা টাকা পেতে দেরি হয়। - সচেতনতার অভাব: প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক কৃষক এখনও এই প্রকল্পের সুবিধা বা আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত নন। - ক্ষতি মূল্যায়ন পদ্ধতি: ছোট খামারের ক্ষেত্রে অনেক সময় ফলন কাটার পরীক্ষা (Crop Cutting Experiments) সঠিক ফল দেয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।