কেন পঞ্চায়েত ব্যবস্থা সরকারের ভূমিকা কেন্দ্রীয় বা রাজ সরকার পঞ্চায়েতের কাজে হস্তক্ষেপ না করলেও অর্থ বরাদ্দ করা বা বৃহত্তর প্রকল্পগুলির রূপরেখা তৈরি করা তাদের দায়িত্ব। একসময় ভাবা হয়েছিল টাকা পেতে যাতে কোনও অসুবিধা না হয় তার জন্য পঞ্চায়েতের টাকা সরাসরি জেলা শাসকের হাতে দেওয়া হবে।কিন্তু বিভিন্ন রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্তে তীব্র আপিত্ত জানায়। তাদের বক্তব্য, এভাবে কাজ করলে ঠিক হচ্ছে না ভুল হচ্ছে সে ব্যাপারে রাজ্য সরকারের ওকানও নজরদারি থাকবে না। স্বাধীনতার পর থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি বহু চেষ্টা করে দেখল গ্রাম জীবনে কাঙ্খিত উন্নয়ন হচ্ছে না। কারণ এই বিপুল জনসংখ্যার বিশাল দেশে কয়েক জন বিধায়ক ও সাংসদের পক্ষে সাধারণ সকল মানুষের উন্নয়নের ব্যাপারে খেয়াল রাখা, সমস্যার সন্ধান রাখা ও সমাধানের উপায় বের করা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের পক্ষেও দূরে রাজধানীতে তাদের সমস্যা আর সঙ্কটের খবর পৌঁছে দেওয়া ও তার প্রতিকারের দাবি পেশ করা সম্ভব নয়। শহরের ও গ্রামের নাগরিকদের জীবনযাপনের মান উন্নত করার জন্যই মিউনিসিপ্যালিটি এবং পঞ্চায়েত নামক স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। কেউ কারওর উন্নয়ন ঘটিয়ে দিতে পারে না, কেবল মানুষ নিজেই পারে নিজের উন্নতি করতে -- এই কথাটি দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বমূলক প্রক্রিয়া থেকে জানা গিয়েছে। প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা আর সংসদ-বিধানসভাকে দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হল আর তারা নাগরিকদের জীবনযাপনের মানোন্নয়ন ঘটিয়ে দেবে, এই ছিল ধারণা। কিন্তু বহু বৈচিত্র্যসম্পন্ন ১২০ কোটি মানুষের দেশে উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া এই প্রক্রিয়া তেমন কাজ করছে না। যদি উপরোক্ত পদ্ধতিতে উন্নয়ন সম্ভব হত তা হলে প্রত্যেকের থাকত নিজস্ব জমি, শক্তপোক্ত বাড়ি, অন্তত মাধ্যমিক স্তর অবধি শিক্ষা। অপুষ্টিতে কেউ ভুগত না। থাকত চিকিৎসার সুযোগ ও ক্ষমতা। প্রত্যেকের থাকত ন্যূনতম উপার্জন যাতে সম্মান ও স্বচ্ছলতার সঙ্গে জীবনযাপন করা যায়। থাকত সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া চর্চা ও কিছু আমোদ প্রমোদের ব্যবস্থা। কিন্তু তা কি সম্ভব হয়েছে? সুতরাং এ কথা বলাই যায়, বাইরে থেকে এসে উন্নয়ন করে দেওয়া বেশ কষ্টসাধ্য কাজ। মানুষকে নিজের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হয়। সরকার সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সেই কারণেই পঞ্চায়েত ব্যবস্থার জন্ম। গান্ধীজি পঞ্চায়েত ব্যবস্থার রূপরেখা দেওয়ার সময় বলেছিলেন, গ্রামগুলি যাতে আত্মনির্ভর হয়ে ওঠে তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অর্থাৎ শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্রকে প্রসারিত করা নয়, নৈতিক জীবনযাপেনর ক্ষেত্রেও ইতিন পঞ্চায়েতকে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। গান্ধীজি পঞ্চায়েত ব্যবস্থার রূপরেখা দেওয়ার সময় বলেছিলেন, গ্রামগুলি যাতে আত্মনির্ভর হয়ে ওঠে তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। অর্থাৎ শুধু রাজনৈতিক গণতন্ত্রকে প্রসারিত করা নয়, নৈতিক জীবনযাপেনর ক্ষেত্রেও ইতিন পঞ্চায়েতকে কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন। সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার স্তর পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার তিনটি স্তর ক) গ্রাম পঞ্চায়েত খ) পঞ্চায়েত সমিতি গ) জেলা পরিষদ এই তিনটি স্তরের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি নীচে দেওয়া হল যা আমাদের সকলের জানা উচিত। জেলা পরিষদ পঞ্চায়েত সমিতি গ্রাম পঞ্চায়েত গড়ে কত ভোটার একজন সদস্য নির্বাচন করেন ৬০ হাজার ৪৫ হাজার ৯০০ মূল সভা সাধারণ সভা সাধারণ সভা সাধারণ সভা সদস্য কারা নির্বাচিত সকল সদস্য নির্বাচিত সকল সদস্য নির্বাচিত সকল সদস্য পদাধিকার বলে সদস্য কারা স্থানীয় বিধায়ক ও সাংসদ (যদি মন্ত্রী না হন), ওই জেলার সকল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি স্থানীয় বিধায়ক ও সাংসদ (যদি মন্ত্রী না হন), ওই পঞ্চায়েত সমিতি থেকে নির্বাচিত জেলা পরিষদের সদস্য (যদি তিনি সভাপতি বা সহ সভাপতি না হন), ওই পঞ্চায়েত সমিতির সকল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ওই গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে নির্বাচিত সকল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য যদি তিনি সভাপতি বা সহ সভাপতি না হন। প্রধান প্রশাসককে কী বলে? (যেমন রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী) সভাধিপতি সভাপতি প্রধান কারা নির্বাচন করেন পদাধিকার বলে সদস্য বাদে সকল নির্বাচিত সদস্য পদাধিকার বলে সদস্য বাদে সকল নির্বাচিত সদস্য পদাধিকার বলে সদস্য বাদে সকল নির্বাচিত সদস্য তার দায়িত্ব কী? সধারণ সভার হয়ে দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করা। সাধারণ সভার হয়ে দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করা সাধারণ সভার হয়ে দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করা ক’টি দফতর ১০টি ১০টি ৫টি তাদের কী বলে? স্থায়ী সমিতি স্থায়ী সমিতি উপ সমিতি কাদের নিয়ে গঠিত? পদাধিকার বলে সদস্য সহ সাধারণ সভার সকল সদস্য দ্বারা নির্বাচিত ৩-৫ জন সদস্য নিয়ে গঠিত। স্থায়ী সমিতির এই সদস্যরা তাঁদের ভিতর থেকে এক জনকে সভাপতি নির্বাচন করেন পদাধিকার বলে সদস্য সহ সাধারণ সভার সকল সদস্য দ্বারা নির্বাচিত ৩-৫ জন সদস্য নিয়ে গঠিত। স্থায়ী সমিতির এই সদস্যরা তাঁদের ভিতর থেকে এক জনকে সভাপতি নির্বাচন করেন পদাধিকার বলে সদস্য সহ সাধারণ সভার সকল সদস্য দ্বারা নির্বাচিত ৩-৫ জন সদস্য নিয়ে গঠিত। স্থায়ী সমিতির এই সদস্যরা তাঁদের ভিতর থেকে এক জনকে সভাপতি নির্বাচন করেন কী কী স্থায়ী সমিতি অর্থ, পূর্ত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন, খাদ্য, বিদ্যুৎ, বন ও ভূমি, নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ অর্থ, পূর্ত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য ও পশুপালন, খাদ্য, বিদ্যুৎ, বন ও ভূমি, নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ অর্থ, শিল্প ও পরিকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, জীবিকা, নারী, শিশু ও সমাজ কল্যাণ স্থায়ী সমিতির প্রধানকে কী বলে? (রাজ্যে যেমন মন্ত্রী) কর্মাধ্যক্ষ কর্মাধ্যক্ষ সঞ্চালক তাদের দায়িত্ব কী? স্থায়ী সমিতির সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিজ নিজ বিষয়ের দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা করা। স্থায়ী সমিতির সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিজ নিজ বিষয়ের দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা করা। উপ সমিতির সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিজ নিজ বিষয়ের দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা করা। প্রধান স্থায়ী সমিতি কোনটি? অর্থ, সংস্থা উন্নয়ন ও পরিকল্পনা অর্থ, সংস্থা উন্নয়ন ও পরিকল্পনা অর্থ, সংস্থা উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কে কর্মাধ্যক্ষ, কারা তার সদস্য সভাপতি কর্মাধ্যক্ষ, বাকি ৯ জন কর্মাধ্যক্ষ সদস্য সভাপতি কর্মাধ্যক্ষ, বাকি ৯ জন কর্মাধ্যক্ষ সদস্য প্রধান সঞ্চালক, বাকি ৪ জন সঞ্চালক সদস্য তাঁর কী কাজ সংস্থা তথা জেলা প্রশাসনের অফিস পরিচালনা, সকল স্থায়ী সমিতির উন্নয়নের নীতি ও লক্ষ্য স্থির করা, বিভিন্ন স্থায়ী উপ সমিতির মধ্যে বাজেটের আগে বরাদ্দ বণ্টন ও পরিকল্পনা করানো এবং জেলা পরিষদের সমন্বিত পরিকল্পনা ও বাজেট করা সংস্থা তথা জেলা প্রশাসনের অফিস পরিচালনা, সকল স্থায়ী সমিতির উন্নয়নের নীতি ও লক্ষ্য স্থির করা, বিভিন্ন স্থায়ী উপ সমিতির মধ্যে বাজেটের আগে বরাদ্দ বণ্টন ও পরিকল্পনা করানো এবং জেলা পরিষদের সমন্বিত পরিকল্পনা ও বাজেট করা সংস্থা তথা জেলা প্রশাসনের অফিস পরিচালনা, সকল স্থায়ী সমিতির উন্নয়নের নীতি ও লক্ষ্য স্থির করা, বিভিন্ন স্থায়ী উপ সমিতির মধ্যে বাজেটের আগে বরাদ্দ বণ্টন ও পরিকল্পনা করানো এবং জেলা পরিষদের সমন্বিত পরিকল্পনা ও বাজেট করা প্রশাসনিক প্রধান কে জেলাশাসক তথা নির্বাহী আধিকারিক, অতিরিক্ত জেলাশাসক তথা অতিরিক্ত নির্বাহী আধিকারিক বিডিও তথা নির্বাহী আধিকারিক, জয়েন্ট বিডিও তথা যুগ্ম নির্বাহী আধিকারিক প্রধান এবং নির্বাহী সহায়ক সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া পঞ্চায়েত ব্যবস্থা সম্পর্কে আরও তথ্য ১) অন্যান্য আধিকারিক : বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের পঞ্চায়েত সমিতির কাজের জন্য উপনিয়োগ করা হয়েছে। ডিএম/এইও/বিডিও এ ভাবেই উপনিযুক্ত। তাঁরা স্বরাষ্ট্র দফতরের আধিকারিক, কিন্তু তাঁদের পঞ্চায়েত দফতরে নির্বাহী আধিকারিকের কাজে উপনিয়োগ করা হয়েছে। নির্বাচনের সময় তাঁরা স্বরাষ্ট্র দফতরের কাজ করেন, পঞ্চায়েতের নয়। সকল কর্মীই কোনও কোনও ভাবে অন্য দফতরের সঙ্গে যুক্ত। কিছু কিছু কর্মী আছেন যাঁরা পঞ্চায়েত দফতরেই কাজ করেন। যেমন গ্রাম পঞ্চায়েতের সকল কর্মচারী, পঞ্চায়েত সমিতির উপসচিব ইত্যাদি। ২) সাধারণ ধারণা : কী কী কাজ হবে সে সম্পর্কে নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং পদাধিকারীরা সিদ্ধান্ত নেবেন আর সরকারি কর্মীরা বিডিও/ডিএম-এর নেতৃত্বে সেগুলি নির্বাহ করবেন। ৩) সাধারণ ধারণার বাইরে যা : পদাধিকারীরাও নির্বাহ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবেন। কিন্তু সব জায়গায় সই করতে পারবেন না। সরকারি কর্মীরাও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পরামর্শ দেবেন, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। ৪) এই অধিকারের জায়গাগুলি কখনও কখনও অস্পষ্ট বলে আধিকারিক ও পদাধিকারীর মধ্যে এক ধরনের স্নায়ুর লড়াই ও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। ৫) কিন্তু উভয়েই যদি মনে রাখেন : ক) স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থায় মূল সিদ্ধান্তের অধিকারী মানুষ। খ) সংসদে বসে তাঁরা গ্রামোন্নয়ন সমিতির সাহায্যে সিদ্ধান্ত নেবেন। গ) মূল উদ্দেশ্য মানুষের জীবনযাপনের মানের উন্নয়ন। ঘ) তাঁরা সহায়তাকারী মাত্র, কাজ করার স্বার্থেই তাঁদের কিছু বিধিবদ্ধ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, ক্ষমতার জন্য ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। পঞ্চায়েতকে কেন স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা ১) সব স্তরের সরকারের ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট সংখ্যক নির্বাচক ভোট দিয়ে এক জন প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। ২) সব জায়গাতেই তাঁদের নিয়ে একটি সাধারণ সভা গঠিত হয়। তাকে আইনসভা বলে। এই সভা আইন তৈরি ও তাকে অনুমোদন করে। ৩) সব জায়গাতেই কিছু প্রতিনিধিকে নির্বাহের দায়িত্ব ও অধিকার দেওয়া হয়। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষেত্রে তাঁরা মন্ত্রী। তার পরের স্তরে সভাধিপতি ও কর্মাধ্যক্ষ, তার পরের স্তরে সভাপতি ও কর্মাধ্যক্ষ এবং শেষ স্তরে প্রধান ও সঞ্চালক। ৪) উপরের দুই স্তরে প্রশাসনকে কয়েকটি মন্ত্রক/দফতরে ভাগ করা হয়। নীচের তিনটি স্তরে কয়েকটি স্থায়ী সমিতি, উপ সমিতিতে ভাগ করা হয়। শেষ তিনটি স্তর স্বায়ত্তশাসিত কেন? সমস্যা জানানোর জন্য বা সমাধানের জন্য এই সরকারকেই সব চেয়ে কাছে পাওয়া যায়। সহজেই পাওয়া যায়। কিন্তু মূল কারণ, এই সরকারের যাবতীয় সিদ্ধান্ত সংসদে মানুষের প্রত্যক্ষ মতামতের ভিত্তিতে গ্রাম সংসদে বা ব্লক সংসদে বা জেলা সংসদে তৈরি হয়। অন্তত এমনটা হওয়াই আইন। নিজেদের উন্নয়নের দায়িত্ব ও অধিকার নিজেদের হাতেই। তাই স্ব-আয়ত্তে এই শাসনব্যবস্থার সরকার। পঞ্চায়েতের মূল দায়িত্ব বা কাজ ১) নিজেদের এলাকার অর্থনৈতিক ও মানুষের জীবনযাপনের মানোন্নয়ন। ২) নিজেদের এলাকায় সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা। এই কাজগুলি করার জন্য একটি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ও প্রতি বছরের জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। এই কথা আইনেই বলা আছে। মূলত নিম্নলিখিত বিষয়গুলিতে কাজ করলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। ১) দারিদ্র দূরীকরণ ও অসহায় মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা দেওয়া ২) পরিকাঠামো গড়ে তোলা ৩) শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান ও তার পরিমাণগত ও গুণগত মানবৃদ্ধি ৪) জীবিকার ব্যবস্থা করা ও আয় বৃদ্ধি এ সবের মাধ্যমে সকলের জীবন যাপনের মান বৃদ্ধি। কাজের বিভিন্ন স্তর ১-ক) নিজস্ব তহবিল গড়ে তোলা ১-খ) কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রকল্প নির্বাহ করে, হিসাব দিয়ে বরাদ্দ আনানো এবং অর্থসম্পদ গড়ে তোলা। ২) সংসদের মতামত পরিকল্পনা ও বাজেট তৈরি করা। ৩) পরিকল্পনা নির্বাহ করা ৪) তদারকি ও নিরীক্ষা করা ৫) মানুষের কাছে আর্থিক হিসাব ও নিরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা। নীতি বাস্তবায়িত করার উপায় পঞ্চায়েত যে মানুষের সরকার, এই নীতিকে বাস্তবায়িত করার জন্য গ্রাম সংসদ ও গ্রামোন্নয়ন সমিতি নামক দু’টি সংস্থা তৈরি করা হয়েছে। গ্রামোন্নয়ন সমিতি অবশ্য গ্রাম সংসদের অধীন একটি উপসংস্থা। সরকারের ভূমিকা কেন্দ্রীয় বা রাজ সরকার পঞ্চায়েতের কাজে হস্তক্ষেপ না করলেও অর্থ বরাদ্দ করা বা বৃহত্তর প্রকল্পগুলির রূপরেখা তৈরি করা তাদের দায়িত্ব। একসময় ভাবা হয়েছিল টাকা পেতে যাতে কোনও অসুবিধা না হয় তার জন্য পঞ্চায়েতের টাকা সরাসরি জেলা শাসকের হাতে দেওয়া হবে।কিন্তু বিভিন্ন রাজ্য সরকার এই সিদ্ধান্তে তীব্র আপিত্ত জানায়। তাদের বক্তব্য, এভাবে কাজ করলে ঠিক হচ্ছে না ভুল হচ্ছে সে ব্যাপারে রাজ্য সরকারের ওকানও নজরদারি থাকবে না। গ্রাম সংসদ পঞ্চায়েত আইনে বলা আছে- ১) একটি গ্রাম পঞ্চায়েত বুথ এলাকার সকল নির্বাচকদের নিয়ে গঠিত এই সংসদ। ২) একটি বাৎসরিক সভা করা হবে। ৩) গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে সভার সাত দিন আগে ঢোল পিটিয়ে কী কী বিষয়ে আলোচনা হবে কোথায় কবে আলোচনা হবে তা সদস্যদের জানানো হবে। ৪) যদি রাজ্য সরকার বিশেষ কারণে সভা করতে বলে বা উদ্ভুত পরিস্থিতিতে প্রয়োজন পড়ে তা হলে যে কোনও সময় বিশেষ সংসদ সভা করা যেতে পারে। ৫) সভার সভাপতি হবেন পঞ্চায়েত প্রধান। তাঁর অনুপস্থিতিতে উপপ্রধান। উভয়ের অনুপস্থিতিতে সদস্য বা দুই সদস্যের যে কোনও এক জন। ৬) সভার উপস্থিত নির্বাচকদের স্বাক্ষর ও আলোচনার বিষয়বস্তু লিপিবদ্ধ করবেন গ্রাম পঞ্চায়েতের কোনও কর্মী। তাঁর অনুপস্থিতিতে কোনও সদস্য। লিপিবদ্ধ বিষয়বস্তু জোরে সকলকে পড়ে শোনাতে হবে। তার পর সভাপতি তাতে স্বাক্ষর দেবেন। ৭) মোট ১০ শতাংশ নির্বাচক উপস্থিত না হলে সভা বৈধ বলে বিবেচিত হবে না। তার ঠিক সাত দিন পরে ওই স্থানে ওই বিষয়ে আলোচনার জন্য সংসদ সভা আবার হবে। গ্রাম সংসদ কী করবে ১) জীবনযাপনের মানোন্নয়নের জন্য যে সকল প্রকল্প গৃহীত হয়েছে বা হবে বলে প্রস্তাবিত হতে যাচ্ছে সেই সকল বিষয়ে উপদেশ ও পরামর্শ দেবে। ক) উন্নয়নের জন্য যে প্রকল্পগুলি করা দরকার সেগুলি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে চিহ্নিত করবে বা তার নীতি ঠিক করবে। খ) বিভিন্ন দারিদ্র দূরীকরণ প্রকল্পে উপভোক্তা নির্বাচন করবে। ২) গ্রামোন্নয়ন সমিতি গঠন করবে। ৩) সমাজউন্নয়ন প্রকল্পে, বয়স্ক শিক্ষায়, নারী ও শিশু কল্যাণমূলক কাজে জনগণের অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করবে। ৪) ধর্ম, জাতি, বিশ্বাস নির্বিশেষে সমাজের সকল অংশের মধ্যে সুসমন্বয় ও ঐক্যের প্রসার ঘটাবে। ৫) প্রধান বা সদস্যের কোনও উন্নয়নমূলক প্রকল্প নির্বাহের কাজ যথার্থ ভাবে না হলে অথবা মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে তা না হলে আপত্তি নথিভুক্ত করবে। গ্রাম সংসদের সভা মে মাসের বার্ষিকসভা এই সভায় গত আর্থিক বছরে (যা বিগত ৩১ মার্চ শেষ হয়েছে) ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট যা আয় হয়েছে তার হিসাব পেশ করা হবে। সেখানে ওই সংসদ থেকে কর বাবদ মোট যা আয় হয়েছে তার হিসাব দেওয়া হবে। কোন কোন পরিবারের কত কর দেওয়া বাকি আছে তা-ও সকলকে জানানো হবে। তার পর ওই সংসদে নিজস্ব তহবিল থেকে ও বিভিন্ন প্রকল্পে মোট কত টাকা ব্যয় করা হয়েছে, কোন কোন কাজের জন্য তা ব্যয় হয়েছে, কত শ্রমদিবস ওই প্রকল্পে সৃষ্টি হয়েছে ও কত টাকার মালপত্র খরচ হয়েছে তার বিস্তারিত সকল হিসাব দেওয়া হবে যাতে সাধারণ মানুষ তাঁদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তা মিলিয়ে বুঝে নিতে পারেন। কোনও উন্নয়নমূলক প্রকল্প নির্বাহের কাজ যথার্থ ভাবে না হলে অথবা মানুষের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মাধ্যমে না হলে আপত্তি নথিভুক্ত করা যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে কোন কোন পরিবার কী কী সুবিধা পেয়েছ তার বর্ণনা দেওয়া হবে যাতে সকলে সে সব কথা জানতে পারে। নভেম্বরের ষান্মাষিক সভা এই সভায় আগামী বছরে ওই সংসদে কোন কোন কাজ করা দরকার তার তালিকা পেশ করবে গ্রামোন্নয়ন সমিতি। কেন এই কাজগুলি করা প্রয়োজন তার তথ্য ও যুক্তি দেবে। কোন কোন পরিবারের কী কী উপকার বা ঋণ-অনুদান প্রস্তাব করা হচ্ছে তা-ও বলা হবে গ্রামোন্নয়ন সমিতির পক্ষ থেকে। যুক্তি ও তথ্যও প্রদান করবে। এই ভাবে এই সভায় গ্রাম সংসদের পরিকল্পনা তৈরি করে সেটি পঞ্চায়েতে প্রস্তাব আকারে পাঠানো হবে। গ্রাম পঞ্চায়েতকে সেই অগ্রাধিকার মেনেই সেই কাজগুলি করতে হবে। না করতে পারলে পরের সভায় কেন করা গেল না তা জানাতে হবে। দু’টি সভাতেই সরকারের নতুন নতুন প্রকল্প ও সুবিধা যা আসছে তা সকলকে ব্যাখ্যা করে বোঝানোর দায়িত্ব প্রধান, সদস্য ও সরকারি কর্মচারীদের। গ্রামোন্নয়ন সমিতি গ্রামোন্নয়ন সমিতি পঞ্চায়েতের চতুর্থ স্তর নয়। এটি গ্রাম সংসদ এলাকার ভোটারদের দ্বারা নিজেদের মধ্যে থেকেই নির্বাচিত একটি বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। এক কথায় এটি হল গ্রাম পঞ্চায়েতের সহায়ক সংগঠন। সংশ্লিষ্ট গ্রাম সংসদ থেকে নির্বাচিত গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য বা সদস্যগণ এবং বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বাধিক ভোট পেয়েছেন এমন এক বা একাধিক প্রার্থী নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে গ্রামোন্নয়ন সমিতি গঠন করবেন। গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সদস্যপদ দু’ ধরনের --- সংরক্ষিত ও অসংরক্ষিত। সংরক্ষিত সদস্য সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে নির্বাচিত গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য বা সদস্যগণ পদাধিকার বলে। বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বাধিক ভোট পেয়েছেন এমন এক বা একাধিক ব্যক্তি। এলাকায় কর্মরত সরকার স্বীকৃত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং অন্যান্য সমষ্টিভিত্তিক সংগঠন যেমন সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতি, গ্রাম শিক্ষা কমিটি, অঙ্গনওয়ারি কেন্দ্র, শিশু শিক্ষা কমিটি, জল বিভাজিকা কমিটি, জল ব্যবহার কমিটি, বনরক্ষা কমিটি ইত্যাদি থেকে সর্বাধিক তিন জন সদস্য, যাঁরা সংশ্লিষ্ট গ্রাম সংসদেরও সদস্য এবং যাঁদের কাজকর্ম সংশ্লিষ্ট সংসদ এলাকাতেও চলছে।। অন্তত ছ’মাস ধরে গ্রাম সংসদ এলাকায় কাজ করছে, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে এবং প্রত্যেক সদস্যই সংশ্লিষ্ট গ্রাম সংসদের সদস্য, এমন তিনটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী থেকে সর্বাধিক তিন জন সদস্য, যাঁর মধ্যে অন্তত দু’জন হবেন মহিলা পরিচালিত গোষ্ঠীর সদস্য। এলাকায় বসবাস করেন এবং সংশ্লিষ্ট গ্রাম সংসদের সদস্য এমন কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। এলাকায় বসবাস করেন এবং সংশ্লিষ্ট গ্রাম সংসদের সদস্য এমন এক জন কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। অসংরক্ষিত সদস্য গ্রাম সংসদের বাকি সদস্যদের মধ্যে থেকে আরও দশ জন বা মোট সদস্যের এক শতাংশের মধ্যে যেটি বেশি হবে গ্রাম উন্নয়ন সমিতির এক তৃতীয়াংশ সদস্য হবেন মহিলা। গ্রামোন্নয়ন সমিতির সভাপতি ও সচিব সংশ্লিষ্ট সংসদ থেকে নির্বাচিত গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যই হবেন গ্রামোন্নয়ন সমিতির সভাপতি। দু’জন সদস্য থাকলে যিনি বয়ঃজ্যেষ্ঠ তিনিই হবেন সভাপতি। গ্রামোন্নয়ন সমিতির প্রথম সভায় নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে থেকে এক জনকে সচিব হিসাবে মনোনীত করতে হবে। গ্রামোন্নয়ন সমিতির কার্যকরী কমিটি গ্রামোন্নয়ন সমিতি তিন থেকে চার জন সদস্য নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন কার্যকরী কমিটি গঠন করতে পারবে। কারিগরী জ্ঞান, দক্ষতা রয়েছে এমন কোনও সদস্যকে কোনও কার্যকরী কমিটিতে সাহায্য করার জন্য গ্রামোন্নয়ন সমিতি আমন্ত্রণ জানাতে পারবে। সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া গ্রামোন্নয়ন সমিতির কাজ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পঞ্চবার্ষিক ও তা থেকে বার্ষিক পরিকল্পনা তৈরির কাজে গ্রাম সংসদকে সহায়তা করাই গ্রামোন্নয়ন সমিতির মূল কাজ। এই উদ্দেশ্যে গ্রামোন্নয়ন সমিতি --- পরিবেশ দূষণের উপর নজরদারি করার ব্যাপারেও গ্রামোন্নয়ন সমিতির ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রকল্পগুলির কাজে পঞ্চায়েতকে জড়িয়ে নেওয়ার ব্যাপারে গ্রামোন্নয়ন সমিতির ভূমিকা রয়েছে। যেমন স্বচ্ছ ভারত নির্মল ভারত প্রকল্পে গ্রামোন্নয়ন সমিতি নজরদারির কাজ করতে পারে। রাজ্য সরকারি প্রকল্পের একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জল ধরো জল ভরো প্রকল্পে গ্রমোন্নয়ন সমিতিগুলি কোন কোন খাল,বিল, পুকুরকে চিহ্নিত করে সেগুলিকে সংস্কার করে জল ধরার কাজে লাগানো যায় সেদিকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। গ্রামোন্নয়ন সমিতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে গ্রাম পর্যায়ে জনপ্রিয় করার কাজ করতে কাজে লাগতে পারে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে তারা কাজে লাগাতে পারে। গ্রামবাসীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এলাকার প্রয়োজনগুলি চিহ্নিত করবে ও বাজেট তৈরি করবে, গ্রাম সংসদের হয়ে তহবিল গ্রহণ ও তার সদ্ব্যবহার করবে। গ্রাম সংসদের বার্ষিক ও অর্ধবার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব তৈরি ও সভায় তা পেশ করবে। গ্রাম পঞ্চায়েতের কর আদায়ের তালিকা তৈরি ও কর আদায়ে সাহায্য করবে। স্থানীয় সম্পদ আহরণে সাহায্য করবে। গ্রামবাসীদের পরামর্শক্রমে প্রকল্প সমূহের অগ্রাধিকারের তালিকা তৈরি করবে। এলাকার সকল প্রাপ্তবয়স্কের জীবিকা নির্বাহের উপায় ও সম্ভাবনাকে ত্বরান্বিত করতে সাহায্য করবে। খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ও তার প্রয়োগ ঘটানোর উদ্যোগ নেবে। স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা ও লিঙ্গবৈষম্যের অবসান, ঋণশোধ, পরিবেশ রক্ষা প্রভৃতি বিষয়ে গ্রামবাসীদের সচেতন করার কাজে সাহায্য করবে। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, মহামারি ইত্যাদি প্রতিরোধে ও সঙ্কটকালের জন্য খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য মানুষকে তৈরি থাকতে প্রচার করবে। -পরিবেশ দূষণের উপর নজরদারি করার ব্যাপারেও গ্রামোন্নয়ন সমিতির ভূমিকা রয়েছে। -বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রকল্পগুলির কাজে পঞ্চায়েতকে জড়িয়ে নেওয়ার ব্যাপারে গ্রামোন্নয়ন সমিতির ভূমিকা রয়েছে। যেমন স্বচ্ছ ভারত নির্মল ভারত প্রকল্পে গ্রামোন্নয়ন সমিতি নজরদারির কাজ করতে পারে। -রাজ্য সরকারি প্রকল্পের একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জল ধরো জল ভরো প্রকল্পে গ্রমোন্নয়ন সমিতিগুলি কোন কোন খাল,বিল, পুকুরকে চিহ্নিত করে সেগুলিকে সংস্কার করে জল ধরার কাজে লাগানো যায় সেদিকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। -গ্রামোন্নয়ন সমিতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে গ্রাম পর্যায়ে জনপ্রিয় করার কাজ করতে কাজে লাগতে পারে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে তারা কাজে লাগাতে পারে। সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া ব্লক সংসদ পঞ্চায়েত আইনের ১১৫ (ক) ধারায় প্রতি ব্লকে একটি করে ব্লক সংসদ গঠন করতে হবে। ব্লক সংসদের সদস্যরা হলেন সকল গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য এবং পঞ্চায়েত সমিতির সকল সদস্য। ব্লক সংসদের দায়িত্ব অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পঞ্চায়েত সমিতির পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাজেট তৈরি। বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণের কাজে পঞ্চায়েত সমিতিকে পরামর্শ দেওয়া। কোনও সদস্যের দাবির ভিত্তিতে সভাপতির অনুমোদন সাপেক্ষে নির্বাহী আধিকারিক পঞ্চায়েত সমিতির বার্ষিক পরিকল্পনা, বাজেট এবং অডিট রিপোর্ট ব্লক সংসদের সভায় দাখিল করবেন। ব্লক সংসদের সুপারিশ পঞ্চায়েত সমিতির পরবর্তী সভায় আলোচনা ও গৃহীত ব্যবস্থা ব্লক সংসদের পরবর্তী সভায় পেশ। ব্লক সংসদের অধিবেশন বছরে দু’বার ব্লক সংসদের সভা হবে বাৎসরিক সভা, সাধারণ ভাবে জুন মাসে ষান্মাষিক সভা, সাধারণ ভাবে জানুয়ারি মাসে সভার সময় ও তারিখ ঠিক করবে পঞ্চায়েত সমিতি ব্লক সংসদের মিটিং মোট সদস্যের এক দশমাংশ উপস্থিত থাকলে কোরাম কোরাম না হলে সভা মুলতুবি হবে। মুলতুবি সভা সপ্তম দিনে একই স্থানে একই সময়ে হবে। মিটিংয়ে সভাপতিত্ব করবেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, অনুপস্থিতিতে সহকারী সভাপতি। ব্লক সংসদের কর্তব্য ব্লক সংসদ সবসময় ব্লকের প্রকল্পগুলি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করবে। বিশেষ করে কোনও প্রকল্প অর্থকরী হলেও তা সামাজিক প্রয়োজন কতটা মেটাবে তা নিয়ে ব্লক সংসদের নজরদারি চালানো প্রয়োজন। কোথাও সরকারি আধিকারিক স্তরে দুর্নীতির ঘটনা প্রকট হলে তা ব্লক সংসদ পর্যায়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। যথাযথভাবে সরকারকে জানানো সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ইকনা তা ব্লক সংসদ নজরে রাখবে। প্রয়োজনে এ ব্যাপারে তারা ইনজেরাই সক্রিয় হয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে। ব্লক সংসদের কাজ ‘মিনিটস’ আকারে নথিভুক্ত করা নিতান্ত প্রয়োজনীয়। বিভিন্ন কারণে তা কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে কোনও বিতর্ক উপস্থিত হলে। সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া পঞ্চায়েতি স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার মূল নীতি ১) গ্রাম সংসদে ভোটাররা তাঁদের উন্নয়নের বিষয়ে নিজেদের মতামত ও সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনা বা প্রয়োজনে তালিকা দেবেন। উপভোক্তার তালিকাও দেবেন। সেটি গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য গ্রাম পঞ্চায়েতে পেশ করবেন। ২) কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ দেবেন। ৩) ক) গ্রাম পঞ্চায়েতের উপসমিতির সঞ্চালকের নেতৃত্বে কর্মচারীরা সেই অর্থ থেকে হিসাব করে প্রয়োজনগুলির পরিকল্পনা ও এস্টিমেট বা হিসাব করে প্রকল্পের রূপ দেবেন। খ) উপভোক্তার তালিকা তৈরি ও অনুমোদন করে বা করিয়ে চূড়ান্ত রূপ দেবেন। ৪) তার পর সেই এস্টিমেট বা হিসাব ও উপভোক্তা-তালিকা কর্মচারী ও সদস্য গ্রামোন্নয়ন সমিতির মাধ্যমে সংসদে গ্রামের মানুষকে জানাবেন। জানাবেন কী কাজ হবে, তার পরিমাণ কী, তার জন্য কী কী মালপত্র কতটা পরিমাণে লাগবে, তার দাম কত, কত মজুর লাগবে ও তাঁদের মজুরি কত। জানাবেন, কে কে কত টাকার কী উপকার কোন শর্তে পাবেন। ৫) সাধারণ মানুষ কাজ চলাকালীন মিলিয়ে দেখবেন যে সেই পরিমাণে মালপত্র ব্যবহার হচ্ছে কি না, সেই সংখ্যক মজুর কাজে লাগানো হচ্ছে কি না,সঠিক পরিমাণে মজুরি পাচ্ছে কিনা। অর্থাৎ কাজের তদারকি করবেন গ্রমোন্নয়ন সমিতি গ্রামের মানুষের হয়ে। গ্রামোন্নয়ন সমিতির শংসাপত্র পেলে তবে ঠিকাদারকে বা মালপত্র সরবরাহকারীকে বা মজুরদের অর্থপ্রদান করবেন প্রধান বা ব্লক নির্বাহী আধিকারিক। পঞ্চায়েতি সায়ত্ত্ব শাসন ব্যবস্থার মধ্যে কোনও রকম স্বৈরতান্ত্রিক কাজ যাতে প্রাধান্য না পায় সেদিকে নজর দিতে হবে। উত্তর ভারতের কিছু নির্বাচিত পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রেও এই ধরনের প্রবণতা দেখা গিয়েছে। সেখানে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সামাজিক প্রভাব কাজে লাগানো হয়। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা গ্রামের মোড়ল বা সবচেয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তির কথা শুনে চলেন। একে প্রকৃত পঞ্চায়েত ব্যবস্থা বলা যায় না। সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া পঞ্চায়েত সরকার পঞ্চায়েত সরকার সাধারণ মানুষের সরকার। পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষই গ্রাম সংসদে বসে ঠিক করবেন কোন কোন উন্নয়নমূলক কাজ কোন প্রকল্পের অর্থে হবে কিংবা কোন কোন মানুষ কোন প্রকল্পের উপকার বা সাহায্য পাবেন। এটাই পঞ্চায়েতের মূল নীতি এবং আইন। এ কারণেই পঞ্চায়েত স্বশাসিত সরকার। এই অধিকার মানুষে্র জানা প্রয়োজন। এবং শুধু জানলেই হবে না, অধিকার প্রয়োগ করতে তার উপযুক্ত হওয়া দরকার। এখন সাধারণ মানুষ যদি নিজের গ্রাম সম্পর্কে না জানেন, সরকারের সব প্রকল্প সম্পর্কে অবহিত না হন এবং সে ব্যাপারে মত দেওয়ার উপযুক্ত না হন তা হলে নিজের গ্রামের উন্নয়নের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত করবেন কী ভাবে? না জানলে, না সিদ্ধান্ত নিলে উপভোক্তা নির্বাচনে ভুল হবে, কাজে ভুল হবে, কাজের গুণগত মান খারাপ হবে, কাজ করতে বিভিন্ন সমস্যা হবে, দেরি হবে, উন্নয়ন যথাযথ হবে না। চার দিকে অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হবে। কথা শোনা হয় না বলেই সাধারণ মানুষ গ্রাম সংসদে যেতে চান না। শুনলেও সেই অনুসারে কাজ হয় না বলেই গ্রাম সংসদে তাঁরা যান না। উপযুক্ত হতে গেলে সাধারণ মানুষকে জানতে হয়, গ্রামোন্নয়নের জন্য যত প্রকল্প আছে সেগুলোর উদ্দেশ্য কী? নিয়মনীতি কী? কোন কোন কাজ কী প্রকল্পে করা যায় ও কারা কারা তার উপকার পেতে পারে। তা যদি তাঁরা না জানেন তা হলে তাঁরা গ্রাম সংসদে মতামত দেবেন কী করে? সিদ্ধান্তই বা নেবেন কী ভাবে? কিন্তু সাধারণ মানুষ পঞ্চায়েত সরকার ও সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বিষয়ে কোনও প্রশিক্ষণ পান না। তাঁরা প্রায়ই কিছুই জানতে পারেন না। সুতরাং সাধারণ মানুষকে সরকার, সরকারি ব্যবস্থা ও সকল গ্রামোন্নয়ন প্রকল্প বিষয়ে জানতে হবে। কী ভাবে তাঁরা জানবেন? এই সকল বিষয়ে প্রচার-প্রসারের মাধ্যমে। কোথায় মত দেবেন? গ্রাম সংসদে। পঞ্চায়েত ব্যবস্থা : সংস্থা থেকে সংসদ ১) এটি কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন দফতরের একটি উদ্যোগ। প্রকল্প নয়, উদ্যোগ। ভারতের প্রত্যেক রাজ্যে অন্তত একটি ব্লকে এই উদ্যোগ শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে শান্তিপুর ব্লক এর জন্য নির্বাচিত হয়েছে। দু’বছর এই উদ্যোগ চলবে। সার্থক হলে এই নীতি অন্যান্য ব্লকেও ভবিষ্যতে প্রয়োগ করা হতে পারে। ২) এটি একটি পরিকল্পিত গ্রামোন্নয়ন উদ্যোগ। ৩) কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন দফতর, রাজ্য পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর, রাজ্য পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন সংস্থা, জেলা, ব্লক ও গ্রাম পঞ্চায়েত প্রশাসন এই উদ্যোগের দায়িত্বে রয়েছে। ৪) রাজ্য পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন সংস্থা এর মূল পরামর্শদাতা সহায়কের দায়িত্বে রয়েছে। ৫) এই উদ্যোগের ছ’টি স্তর বা মূল কাজ ক) প্রশিক্ষণ খ) প্রচার ও প্রসার গ) সমীক্ষা ও তথ্য বিশ্লেষণ ও মানুষকে নিজের গ্রামের তথ্য জানানো। ঘ) গ্রাম সংসদ সঠিক ভাবে করা ও গ্রামোন্নয়ন সমিতির দ্বারা পরিকল্পনা করা। ঙ) রূপায়ণের সময় সকল তথ্য মানুষকে জানানো ও তাঁদের দিয়ে তদারকি করানো। ৬) সংস্থার দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধির সামাজিক অভিভাবকত্ব করার কোনও দায় নেই তবুও কয়েকটি ক্ষেত্রে দেখা যায় পঞ্চায়েত সদস্যদের প্রগতিশীল ভূমিকার ফলে মানুষের উপকার হচ্ছে। বিশেষ করে নারী পাচার বা নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে অনেক সময় পঞ্চায়েত সদস্যরা গুরূত্বপূর্ণ প্রগতিশীল ভূমিকা নেন। তাঁরা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে বোঝানো এবং পরবর্তীকালে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। বহু ক্ষেত্রে পঞ্চায়েতের এই ভূমিকার কথা সরকার স্বীকার করে নিয়েছ। তাদের প্রতিবেদনে এই প্রসঙ্গ স্থান পেয়েছে। ‘সংস্থা থেকে সংসদ’ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ও তার প্রতিষ্ঠানগুলিকে শক্তিশালী করা। এটি পঞ্চায়েত সমিতি এবং গ্রাম পঞ্চায়েতেরই উদ্যোগ। রাজ্য পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন সংস্থা পরামর্শদাতা সহায়ক সংস্থা মাত্র। সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া ‘সংস্থা থেকে সংসদ’-এর মূল কথা ১) ‘সংস্থা থেকে সংসদ’ উদ্যোগে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন সংস্থা পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতকে সহায়তা দিয়ে এই প্রচার-প্রসারের কাজ করার উদ্যোগ নেবে। গ্রামের কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তিকে নিয়ে কর্মশালা, গ্রামোন্নয়ন সমিতির পাঁচ জন করে সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, গ্রামের শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের মধ্যে পুস্তিকা বিতরণ, ফ্লেক্স বোর্ড টাঙানো, নাটক, ফিল্ম দেখানো, কুইজ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রচার-প্রসার করা হবে। ২) সাধারণ মানুষ জানলেই যে উন্নয়নের গুণগত ও পরিমাণগত মান বৃদ্ধি হবে তা নয়। কাজটি যাঁরা করবেন অর্থাৎ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও তাঁদের মধ্যে যাঁরা পদাধিকারী যেমন প্রধান, উপসমিতির সঞ্চালক, সভাপতি, কর্মাধ্যক্ষ এবং সকল সরকারি আধিকারিক ও কর্মচারী তাঁরা যদি দক্ষ না হন, আন্তরিক না হন, দায়বদ্ধ না হন তাঁদের যদি জানার ঘটাতি থাকে তা হলে উন্নয়নের মান ভালো হবে না। সে কারণে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেবে ‘ল্যাব টু ল্যান্ড’ উদ্যোগ। ৩) আবার সাধারণ মানুষ ও পঞ্চায়েত কার্যালয় বা অন্য কার্যালয়গুলির মধ্যে রয়েছে অনেক দূরত্ব -- ভৌগোলিক দূরত্ব, ভয়ের দূরত্ব, মানসিকতার দূরত্ব। সে কারণে কিছু মানুষ দরকার যাঁরা গ্রামেরই মানুষ, একটু শিক্ষিত। তাঁরা এই দুই পক্ষের মধ্যে সেতুর মতন কাজ করবেন। সাধারণ মানুষ ও পঞ্চায়েত ব্যবস্থা -- এই দু’ পক্ষের হয়েই কাজ করবেন। প্রত্যেক সংসদ থেকে দুই/তিন জন করে শিক্ষিত যুবক-যুবতী নির্বাচিত করেছে সংসদ। রাজ্য পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন সংস্থা তাঁদের এই কাজের জন্য প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করেছে। তাঁদের নাম দেওয়া হয়েছে ভারত নির্মাণ স্বেচ্ছাসেবক। ৪) গ্রামের মানুষের প্রথমে জানা দরকার নিজের গ্রামকে। গ্রামে কী কী আছে, কোন কোন সমস্যা আছে ও কী ভাবে তা দূর করা যায়। তার জন্য প্রত্যেক পরিবারকে এবং গ্রাম সংসদের সকল বিষয় সমীক্ষা করা দরকার। ভারত নির্মাণ স্বেচ্ছাসেবকরা এই সমীক্ষা করবেন। এটি গ্রামের মানুষেরই করা নিজের গ্রামের সমীক্ষা। ৫) সমীক্ষার তথ্য বিশ্লেষণ করে কোন কোন ব্যক্তির কী সাহায্য দরকার, জীবিকার কী উন্নতি কী ভাবে করা যায়, কী কী পরিকাঠামো কী ভাবে গড়ে তোলা যায়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের জন্য কী করা দরকার, এই সব বিষয়ে গ্রামোন্নয়ন সমিতিতে আলোচনা করে একটি কাজের তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন। ভারত নির্মাণ স্বেচ্ছাসেবকরা গ্রামোন্নয়ন সমিতিকে সহায়তা দিয়ে এই পরিকল্পনা করবে। ৬) সব থেকে বেশি দরকার সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করে গ্রাম সংসদে আনা। সংসদে বাৎসরিক বরাদ্দ মোট কত করেছে গ্রাম পঞ্চায়েত, ওই কাজে কী কী খাতে কত খরচ করেছে, কত শ্রমদিবস সৃষ্টি হয়েছে, কত কর আদায় হয়েছে ও সেই করের টাকায় কী কী কাজ হয়েছে, ওই সংসদে সেই সব তথ্য সাধারণ মানুষকে ভালো করে বোঝাতে হবে। তার পর আগামী বছরের কাজের তালিকা আর উপভোক্তাদের তালিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সরকারের সকল প্রকল্প মানুষকে জানানো। সংস্থা থেকে সংসদ উদ্যোগে গ্রাম সংসদকে সার্থক করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবেন স্বেচ্ছাসেবকরা। তাঁরা পঞ্চায়েত প্রশাসনকে পরামর্শও দেবেন। ৭) গ্রামোন্নয়ন সমিতি যাতে পরিকল্পিত কাজগুলি করানোর জন্য উদ্যোগ নেয় তার জন্য উৎসাহ ও পরামর্শ দেবে সংস্থা থেকে সংসদ। ৮) রূপায়ণের সময় সাধারণ মানুষ যাতে কী কাজ, কত টাকা, কী কী মালপত্র এই সব জানতে পারে এবং রূপায়ণের সময় বুঝে নিতে পারে তার জন্য উৎসাহ ও পরামর্শ দেবে সংস্থা থেকে সংসদ। এইভাবে প্রচার, প্রসার, প্রশিক্ষণ, সমীক্ষা সঠিক ভাবে গ্রাম সংসদ করে পরিকল্পনা তৈরি, মানুষের মাধ্যমে রূপায়ণ, গ্রাম উন্নয়নের গুণগত ও পরিমাণগত মানবৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগই সংস্থা থেকে সংসদ। ভারত নির্মাণ স্বেচ্ছাসেবক কারা এখন অবধি গ্রামোন্নয়নের জন্য নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ব্যতিরেকে যাঁরা কাজ করছেন তাঁরা বাইরে থেকে এসেছেন। সেটাই প্রশাসনিক কাঠামোর রীতি, নীতি, পদ্ধতি। উন্নয়নের চিন্তাভাবনা ও তার নির্বাহ শহরে বসে করা হয়েছে। পঞ্চায়েত ব্যবস্থা গ্রামের ভিতর থেকে সেটি করার একটি নীতি তৈরি করেছে। কিন্তু সেই নীতি রীতিতে পরিণত হয়নি। তার কারণ গ্রামের মানুষের এই উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় কেবলমাত্র গ্রহীতার ভূমিকায় থেকে যাওয়া, কর্তার ভূমিকায় না আসতে পারা। কোনও উন্নয়নই স্থায়ী হতে পারে না, কোনও নিয়মই রীতি ও অভ্যাসে পরিণত হয় না যতক্ষণ না নিজে করা হয়। গ্রামকে নিজের উন্নয়ন করতে গেলে গ্রামবাসীদের সেটি জানাতে হবে। সংস্থা থেকে সংসদের সমগ্র প্রক্রিয়াকে সাহায্য করার জন্য গ্রামের মানুষের প্রতিনিধি প্রয়োজন। এবং সেই প্রতিনিধিদের নির্বাচন করছেন গ্রামবাসীরাই। তাঁরা স্বেচ্ছায় নিজের গ্রামকে পরিষেবা দেওয়ার জন্য এই উদ্যোগে সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে যুক্ত হয়েছেন। ভারত নির্মাণ স্বেচ্ছাসেবকরা সংস্থা থেকে সংসদ উদ্যোগের প্রধান কর্মী বলা যায়। শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতির ১১৪টি সংসদ থেকে, সংসদের সদস্য তথা নির্বাচকদের দ্বারা নির্বাচিত হয়েছেন তাঁরা। কোনও পারিশ্রমিকের প্রত্যাশা না করে তাঁরা তাঁদের নিজ নিজ সংসদের গ্রামোন্নয়নের সকল কাজে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছায় সহায়কের ভূমিকা পালন করবেন, এই অঙ্গীকার করে তাঁরা এসেছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক মহিলা। তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি (খুব কম সংখ্যক), মাধ্যমিক (বেশি), উচ্চ মাধ্যমিক (বেশি) ও স্নাতক (অল্প সংখ্যক)। তাঁদের বয়স ১৯ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। গ্রাম পঞ্চায়েতের সংসদ সভা থেকে নির্বাচিত মোট ২৬০ জন ভারত নির্মাণ স্বেচ্ছাসেবক। ভারত নির্মাণ স্বেচ্ছাসেবকদের সংখ্যা আরও বাড়ানোর জন্য ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। কাজটি অনেকটা বয়েজ স্কাউটদের মতো। বহু স্বেচ্ছাসেবা মূলক কাজে ভারত স্কাউট যেমনভাবে অংশগ্রহণ করে তেমনভাবেই সপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবীরা দেশের কাজ করবে অনুমিত হয়। ভারত নির্মাণ স্বেচ্ছাসেবকদের কাজ ভারত নির্মাণ সেবকরা যে যে কাজ করবেন বা যে যে উদ্দেশ্যে তাঁদের নির্বাচন করা হয়েছে- ১) সাধারণ মানুষ ও পঞ্চায়েতের তিনটি স্তরের কার্যালয়ের সঙ্গে এবং অপরাপর গ্রামোন্নয়ন অফিসের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা ও সমন্বয় স্থাপন করবেন তাঁরা। উভয়কে গ্রামোন্নয়নের কাজে সাহায্য করবেন। ২) নিজ নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সকল বিষয়ে প্রচার প্রসারের মাধ্যমে ক্রমাগত সাধারণ মানুষের জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধি করবেন। ৩) নিজ নিজ এলাকার পরিবার ও গ্রাম সমীক্ষা করে, গ্রামোন্নয়ন সমিতিকে সহায়তা দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজের এবং ব্যক্তিগত উপকারের তালিকা তথা গ্রাম সংসদের পরিকল্পনা তৈরিতে উদ্যোগ নেবেন। গ্রাম পঞ্চায়েতকে বাৎসরিক পরিকল্পনা রচনায় সাহায্য করবেন। ৪) গ্রাম সংসদ আহ্বান করা, নির্বাচকদের গ্রাম সংসদে আলোচনায় অংশগ্রহণ করানো, তার সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় সহায়তা দেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের কাজ। ৫) পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় গ্রামোন্নয়ন সমিতিকে তার তদারকির কাজে সাহায্য করবেন। নির্বাহী সংস্থাকে প্রয়োগের কাজে সাহায্য করবেন। ৬) একই প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে উন্নয়নের এই ধারাকে একটি স্থায়ী রীতি ও অভ্যাসে পরিণত করার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। সংস্থা থেকে সংসদ দু’ বছর পরে যখন শেষ হয়ে যাবে তখনও সক্রিয় থেকে এই উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে স্থায়ী করে তোলার উদ্যোগ নেবেন। ৭) এই সামগ্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার ও ‘নিজেদের উদ্যোগ নিজেদের করার’ মূল দর্শনকে বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রে যোগ্য সহায়ক হয়ে উঠবেন। স্বেচ্ছাসেবীরা সহায়ক স্বেচ্ছাসেবীরা সাধারণ মানুষ, গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির হয়ে কাজ করবেন। তাঁরা সহায়কমাত্র। সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী নন। কোনও কিছু করে দেওয়ার, করার অধিকারী নন। সেবকমাত্র তাঁরা। প্রশাসন যা চাইবে সেই কাজে তাঁরা সহায়তা করবেন। গ্রামে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী নেই বলে সাধারণ মানুষ ও প্রশাসন চূড়ান্ত অসুবিধার মধ্যে পড়েন। সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের তথ্য পৌঁছয় না। সাধারণ মানুষের তথ্যও আবার প্রশাসনের কাছে পৌঁছয় না। স্বেচ্ছাসেবীরা এই সেতুর কাজ করবেন। রাজ্য পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন সংস্থা তাঁদের প্রশিক্ষণ দেবে এবং পরামর্শ দেওয়ার ভূমিকা পালন করবে মাত্র। গ্রামের সকল মানুষ ও নির্বাচিত প্রতিনিধিরা যদি এঁদের ব্যবহার করেন ও কাজ করার সুযোগ ও স্বাধীনতা দেন, যদি এঁদের নিরপেক্ষ থাকতে উদ্বুদ্ধ করেন, তা হলে উন্নয়নের গুণগত মান ও পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। অনেক ভুল সংশোধিত হবে। অনেক বঞ্চিত মানুষ প্রাপ্য সুযোগ পাবেন। কিন্তু বাধা দিলে, নিরপেক্ষ থাকার পথে অন্তরায় হলে, এঁদের না রাখলে কোনও উপকারই গ্রাম এই সব স্বেচ্ছাসেবকদের কাছ থেকে পাবে না। মহাত্মা গান্ধীর আদর্শকে সামনে রেখে দেশে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। গান্ধীজি স্বয়ং বিশ্বাস করতেন উন্নয়ন উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া যায় না। উন্নয়নের প্রথম হাতিয়ার হল সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের পথে আমাদের দারিদ্রপীড়িত দেশ স্বাবলম্বী হবে। গ্রামে গ্রামে বিরাজ করবে শান্তি ও সহমর্মিতার পরিবেশ। শুধু রাষ্ট্র উপর থেকে চাপিয়ে দিয়ে পঞ্চায়েত স্তরের সমস্ত কিছু রূপায়ণ করতে পারে না। গ্রামের মানুষ যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ না নেন এবং তাঁকে সহায়তা করার জন্য দেশপ্রেমী যুবকরা যদি এগিয়ে না আসেন তা হলে উন্নয়ন হওয়া সম্ভব নয়। ভারত গোটা বিশ্বের কাছে উন্নয়নের এই বিকল্প মডেল তুলে ধরে আগামী দিনে প্রগতির পথে এগিয়ে যাবে এটাই সবার দৃঢ় বিশ্বাস। পঞ্চায়েত ও তথ্য জানার অধিকার আইন তথ্য জানার অধিকার আইন, ২০০৫ এর ধারা ২ (জ) অনুযায়ী পঞ্চায়েত সমিতি ‘পাবলিক অথরিটি’-এর মর্যাদাসম্পন্ন বলে এই আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী এই আইন চালু হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যেই পঞ্চায়েত সমিতি তার সরকারি সমস্ত তথ্য ভাণ্ডার সংরক্ষণ করবে ও কিছু তথ্য প্রকাশ করবে। এই কাজগুলি ২০০৫ সালের মধ্যে হয়ে যাওয়ার কথা; কিন্তু প্রতি মুহূর্তেই তথ্যের পরিবর্তন হচ্ছে, বা নতুন তথ্যের আগমন ঘটছে। এই কারণে এই কাজটি ক্রমাগত করেই যেতে হয়। নিম্নে এই আইন অনুযায়ী পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষে অর্থ, সংস্থা, উন্নয়ন ও পরিকল্পনা স্থায়ী সমিতির কাজগুলি দেওয়া হল : পঞ্চায়েত সমিতির সমস্ত ধরণের তথ্য তালিকা তৈরি করে সাজিয়ে রাখতে হবে যাতে এই আইন অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ মসৃণ ভাবে করা যায়। কম্পিউটারে তথ্য সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কম্পিউটারে সংরক্ষিত তথ্য নেট ওয়ার্কের মাধ্যমে সরবরাহের সুযোগ তৈরি করতে হবে। আইন চালু হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে প্রকাশিত তথ্যসমূহ (এই আইনের ৪ (১)(খ) এর আলোকে পঞ্চায়েত সমিতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য): প্রতিষ্ঠানের বিশদ বিবরণ, কাজ ও দায়িত্ব। প্রতিষ্ঠানের আধিকারিক ও কর্মচারীদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব। সিদ্ধান্ত নেবার পদ্ধতি; তদারকি ও দায়বদ্ধতার পর্যায়ক্রম। কাজ করবার স্থিরীকৃত নিয়ম। আধিকারিক ও কর্মচারীর কাজে ব্যবহৃত নিয়মাবলি, আদেশ, বিধিনিয়ম, ম্যানুয়াল বা রেকর্ড। যে তথ্য/নথি পঞ্চায়েত সমিতির কাছে বা নিয়ন্ত্রণে আছে তার বিবরণ। পঞ্চায়েত সমিতির কাজের পরিকল্পনা বা রূপায়ণে জনগণের অংশগ্রহণের কোনও সুযোগ থাকলে তার বিবরণ (যেমন – বাই-ল, বাজেট, প্রভৃতিতে জনগণের মতামত প্রকাশের সুযোগ)। কমিটির তালিকা। আধিকারিক ও কর্মচারীর তালিকা। আধিকারিক ও কর্মচারীর মাসিক বেতন। বাজেট, পরিকল্পনা এবং কাজের রিপোর্ট। ব্যক্তিগত উপভোক্তা প্রকল্পের খরচ ও উপভোক্তার বিবরণ। ইলেকট্রনিক মাধ্যমে থাকা তথ্যের তালিকা। পাবলিক ইনফরমেশন আধিকারিকের তথ্য। (পঞ্চায়েত সমিতির ক্ষেত্রে স্টেট পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার হলেন যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধাকারিক এবং স্টেট অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার হলেন ব্লক ইনফরেমটিকস অফিসার) জনগণের উপর প্রভাব বিস্তার করে এমন পরিকল্পনা বা কর্মপন্থা তৈরি হলে তার বিষয় বস্তু। উপরে বলা এই সকল তথ্য কেবল মাত্র প্রকাশ করলেই হবে না, এই তথ্যভাণ্ডার সর্বদা হাল নাগাদ করা চাই। তথ্য জানার অধিকার আইনের সঠিক রূপায়ণ করতে গেলে পঞ্চায়েত সমিতির তথ্যভাণ্ডারকে সুপরিকল্পিত উপায়ে সাজাতে হবে। অর্থ, সংস্থা, উন্নয়ন ও পরিকল্পনা স্থায়ী সমিতির কাজ হল, পঞ্চায়েত সমিতির সঙ্গে যুক্ত সমস্ত বিভাগের তথ্যকে একত্রীকরণ করা ও তার সময়ানুগ পরিমার্জন ও সংরক্ষণ। তথ্যের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই সুপরিকল্পিত উন্নয়ন সম্ভব। সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া প্রয়োজনীয় দফতরের ওয়েবসাইটের ঠিকানা ক্রমিক সংখ্যা দফতর ঠিকানা ওয়েব সাইটের ঠিকানা ১ রাজ্য সরকার নবান্ন, হাওড়া ৭১১১০২ www.banglarmukh.com ২ পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর জেসপ বিল্ডিং, ৬৩ এন এস রোড, কলকাতা ১ www.wbprd.nic.in ৩ অর্থ দফতর নবান্ন, হাওড়া ৭১১১০২ www.wbfin.nic.in ৪ স্বাস্থ্য দফতর স্বাস্থ্য ভবন, জিএন-২৯, সেক্টর ৫, সল্টলেক, কলকাতা ৯১। www.wbhealth.gov.in ৫ পরিবেশ দফতর www.enviswb.gov.in ৬ পূর্ত দফতর www.pwdwb.in ৭ পরিবহন দফতর পরিবহন ভবন, ১২ আর এন মুখার্জি রোড, কলকাতা ১ www.vahan.wb.nic.in ৮ কৃষি দফতর নবান্ন, হাওড়া ৭১১১০২ www.wbagrisnet.gov.in ৯ সেচ দফতর জলসম্পদ ভবন, ব্লক ডিএফ, সেক্টর ৩, সল্টলেক, কলকাতা ৯১। www.wbiwd.gov.in ১০ সমবায় দফতর নিউ সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং, কলকাতা ১ www.coopwb.org ১১ মত্স্য দফতর ৩১, ব্লক জিএন, সেক্টর ৫, সল্টলেক, কলকাতা ৯১। www.wbfisheries.gov.in ১২ প্রাণী সম্পদ দফতর এলবি ২, সেক্টর ৩, সল্টলেক, কলকাতা ৯১। www.wbard.gov.in ১৩ খাদ্য দফতর খাদ্য ভবন, ১১এ মির্জা গালিব স্ট্রিট, কলকাতা ৮৭ www.wbfood.gov.in ১৪ শিক্ষা দফতর বিকাশ ভবন, সল্টলেক, কলকাতা ৯১। www.wbsed.gov.in ১৫ তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর নবান্ন, হাওড়া ৭১১১০২ www.tathyabangla.gov.in ১৬ যুব কল্যাণ দফতর ৩২/১ বিবিডি বাগ (সাউথ), স্ট্যান্ডার্ড বিল্ডিং, দ্বিতীয় তল, কলকাতা ১। www.wbyouthservices.in ১৭ নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজ কল্যাণ দফতর বিকাশ ভবন, নর্থ ব্লক, দশম তল, সেক্টর ২, সল্টলেক, কলকাতা ৯১। www.wbsc.gov.in ১৮ বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর www.wbdma.gov.in ১৯ ক্ষুদ্র শিল্প দফতর www.mssewb.org ২০ বিদ্যুৎ দফতর বিদ্যুৎ ভবন, সল্টলেক, কলকাতা ৯১। www.wbpower.nic.in ২১ অচিরাচরিত শক্তি দফতর নিউ সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিং, কলকাতা ১ www.wbreda.org ২২ সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতর অম্বর, ডিডি-২৭/ই, সেক্টর ১, সল্টলেক, কলকাতা ৯১। www.wbmdfc.org ২৩ অনগ্রসর কল্যাণ দফতর প্রশাসনিক ভবন, এসডিও বিধাননগর, চতুর্থ তল, ডিজে-৪, সেক্টর ২, সল্টলেক, কলকাতা ৯১। www.anagrasarkalyan.gov.in সুত্রঃ পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ, কল্যাণী, নদিয়া