জন পরিষেবা অধিকার আইন নিয়ে প্রশ্নাবলি প্রশ্নাবলি ১ ১) পশ্চিমবঙ্গ জন পরিষেবা অধিকার আইন কী? ২০১৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এই আইনটি পাশ হয়েছিল। এই আইনটির উদ্দেশ্য হল পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকরা যাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞাপিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকারি পরিষেবা পান তার ব্যবস্থা করা। ২) এই আইন নাগরিকদের কী ভাবে সাহায্য করবে? এই আইন নির্দিষ্ট সময়ে বিজ্ঞাপিত জন পরিষেবা পেতে নাগরিকদের সাহায্য করবে। ৩) এই আইন অনুসারে কারা সরকারি কর্তৃপক্ষ যাঁরা নাগরিকদের পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন? ‘সরকারি কর্তৃপক্ষ’ মানে কোনও কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা বা স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান যা (১) সংবিধান দ্বারা বা সংবিধানের অধীনে, (২) রাজ্য বিধানসভা প্রণীত অন্য কোনও আইন দ্বারা, (৩) রাজ্য সরকারের তৈরি কোনও নির্দেশ বা জারি করা কোনও বিজ্ঞপ্তি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বা গঠিত এবং যার মধ্যে পড়ে (ক)রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন, রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রিত, রাজ্যের আর্থিক সাহায্যপ্রাপ্ত সংস্থা; (খ) রাজ্য সরকারের দ্বারা যথেষ্ট পরিমাণে আর্থিক সহায়তাপ্রাপ্ত অসরকারি সংস্থা। রাজ্য সরকার সরকারি গেজেটে সময়ে সময়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কে সরকারি কর্তৃপক্ষ, কী কী পরিষেবা তাদের প্রদেয়, কে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক, কে আপিল আধিকারিক, কে পুনর্বিবেচনা আধিকারিক, পরিষেবা পাওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা কী তা জানিয়ে দেবে। ৪) কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাকে এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে? বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে। যেমন --- ক) তফশিলি জাতি, তফশিলি উপজাতি ও অনগ্রসর শ্রেণি শংসাপত্র। খ) গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ইত্যাদি। গ) নতুন রেশন কার্ড, রেশন কার্ডে ঠিকানা, বয়স, পদবি, পরিবারের প্রধানের নাম পরিবর্তন, পরিবর্ত রেশন কার্ড, রেশন কার্ড ফিরিয়ে দেওয়া বা পরিবর্তন করা, রেশন কার্ড পুনরায় বৈধ করা। ঘ) প্লট সম্পর্কিত তথ্য, জমির অধিকারের নথির সার্টিফায়েড কপি (আরওআর), ডবলুবিএলআর ও ডবলুবিইএ আইন অনুযায়ী জারি করা নির্দেশের সার্টিফায়েড কপি। ঙ) মার্কশিটের প্রতিরূপ/মার্কশিট সংশোধন করা/অ্যাডমিট কার্ড/সার্টিফিকেট (মাধ্যমিক/উচ্চ মাধ্যমিক), মাইগ্রেশন সার্টিফিকেট(মাধ্যমিক/উচ্চ মাধ্যমিক)। চ) প্রতিবন্ধী শংসাপত্র, জননী সুরক্ষা যোজনা, জন্মের সার্টিফিকেট, মৃত্যুর সার্টিফিকেট, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত মেডিক্যাল সার্টিফিকেট, ড্রাগ লাইসেন্স ইস্যু করা প্রভৃতি। রাজ্য সরকার সরকারি গেজেটে সময়ে সময়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে কী কী পরিষেবা এবং সেই সব পরিষেবা পাওয়ার সময়সীমা কতটা তা জানিয়ে দেবে। প্রশ্নাবলি ২ কী করে এক জন নাগরিক এই পরিষেবা আইনের সুযোগ নেবেন? যোগ্যতাসম্পন্ন নাগরিক নির্দিষ্ট ফর্মে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের কাছে পরিষেবা পাওয়ার জন্য আবেদন করবেন। সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথিও প্রদান করবেন। প্রজ্ঞাপিত পরিষেবা পাওয়ার জন্য আবেদন করার পর নাগরিকরা কী পাবেন? দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত আধিকারিক আবেদন গ্রহণ করার পর নাগরিকরা ১ নম্বর ফর্মে একটি প্রাপ্তিস্বীকার পাবেন। প্রাপ্তিস্বীকারে কী থাকে? যদি আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব নথি সংযুক্ত করা থাকে আবেদনকারীকে পরিষেবা পাওয়ার তারিখ জানিয়ে ১ নম্বর ফর্মে প্রাপ্তিস্বীকার করা হবে। অন্যথায় পরিষেবা পাওয়ার তারিখের কোনও উল্লেখ থাকবে না। এক জন নাগরিক তাঁর আবেদনটি কোন অবস্থায় রয়েছে তা কী করে জানতে পারবেন? আবেদন পাওয়ার তারিখ ও আবেদনের নম্বর (প্রাপ্তিস্বীকারে উল্লিখিত) জানিয়ে কোনও নাগরিক তাঁর আবেদনের অবস্থা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের দফতর থেকে জানতে পারেন। সংশ্লিষ্ট দফতরের ওয়েবসাইট থেকেও এই তথ্য পাওয়া যেতে পারে। কী কী পরিষেবা এই আইনের আওতায় রয়েছে তা জানতে নাগরিকরা কোথায় যাবেন? কী কী পরিষেবা দিতে কত দিন সময় লাগবে, কে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক, কে আপিল আধিকারিক, কে পুনর্বিবেচনা আধিকারিক, এ সব যাবতীয় প্রাসঙ্গিক তথ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক জনসাধারণের সুবিধার জন্য অফিসের নোটিশ বোর্ডে জানিয়ে দেবেন। নির্দিষ্ট পরিষেবা পাওয়ার জন্য কী কী নথিপত্র আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে তা-ও নোটিশ বোর্ডে জানিয়ে দেবেন এবং বিধি অনুযায়ী সংযোজিত ফর্মগুলিও নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দেবেন। এ ছাড়াও, সংশ্লিষ্ট দফতরের ওয়েবসাইটে যাতে সব তথ্য পাওয়া যায় তাঁর ব্যবস্থা করবেন সংশ্লিষ্ট সচিব। প্রশ্নাবলি ৩ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের দফতরে কে আবেদন গ্রহণ করবেন? দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক তাঁর যে কোনও অধস্তন আধিকারিককে আবেদন গ্রহণ করা এবং প্রাপ্তিস্বীকার ইসু করার ব্যাপারে ক্ষমতা দিতে পারেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের নাম নোটিশ বোর্ডে জানিয়ে দিতে হবে। আবেদনের সঙ্গে কী কী নথি সংযুক্ত করতে হবে? প্রতিটি পরিষেবার জন্য আলাদা করে কী কী নথি আবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক তা নোটিশ বোর্ডে জানিয়ে দেবেন। সেই অনুযায়ী আবেদনকারী আবেদনের সঙ্গে সব নথি জমা দেবেন যাতে গোটা ব্যাপারটা সব দিক থেকে সঠিক থাকে। আবেদনপত্রের সঙ্গে সমস্ত নথি ঠিকঠাক দেওয়া থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক পরিষেবা পাওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ জানিয়ে দেবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক পরিষেবা দিতে ব্যর্থ হলে এক জন আবেদনকারী তা কী ভাবে জানতে পারবেন? দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক আবেদন গ্রহণ করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হয় পরিষেবা প্রদান করবেন নয়তো আবেনপত্রটি বাতিল করবেন। বাতিল করার সময় কেন তা বাতিল করা হল তার কারণ লিখিত ভাবে রেকর্ড করবেন এবং তা আবেদনকারীকে জানিয়েও দেবেন। পরিষেবা পাওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কি সরকারি ছুটির দিনও ধরা হয়? না। পরিষেবা প্রদানের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সরকারি ছুটির দিন ধরা হয় না। প্রশ্নাবলি ৪ কে আপিল করতে পারেন? যে আবেদনকারীর আবেদনটি দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বাতিল করে দিয়েছেন বা যিনি পরিষেবার জন্য আবেদন করেও নির্দিষ্ট সময়ে তা পাননি, তিনি আপিল করার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের নির্দেশের বিরুদ্ধে কত দিনের মধ্যে ক্ষুব্ধ আবেদনকারী আপিল করতে পারেন? আবেদন বাতিল করার নির্দেশ হাতে পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বা পরিষেবা প্রদানের নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করা যেতে পারে। রিভিশনের জন্য বা আপিল করার জন্য আবেদন করলে কি কোনও ফি দিতে হয়? রিভিশন বা আপিল করার জন্য কোনও ফি দিতে হয় না। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের নির্দেশের বিরুদ্ধে এক জন আবেদনকারী কী ভাবে আপিল করবেন? দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের নির্দেশে ক্ষুব্ধ হয়ে আবেদনকারী নিম্নলিখিত তথ্য/নথি দিয়ে ২ নম্বর ফর্মে আপিল আধিকারিকের কাছে আপিল করতে পারেন --- ক) আবেদনকারীর সম্পূর্ণ নাম ও ঠিকানা। খ) কী পরিষেবা দরকার তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ। গ) পরিষেবা পাওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের কাছে কবে আবেদন করেছিলেন সেই সম্পর্কিত তথ্য। ঘ) যে নির্দেশের বিরুদ্ধে প্রথম বার বা দ্বিতীয় বার আপিল করা হচ্ছে তার স্ব-প্রত্যয়িত নকল। ঙ) আপিলের কারণ। চ) কী সুরাহা চাইছেন তার উল্লেখ। ছ) আপিলের জন্য প্রয়োজনীয় অন্য যে কোনও তথ্য। যদি আবেদনটি দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক কর্তৃক প্রত্যাখ্যান করার বিরুদ্ধে আপিল করা হয় তা হলে আবেদনের তারিখ, যাঁরা কাছে আবেদন করা হয়েছিল সেই দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের নাম ও ঠিকানা দিতে হবে। আপিল আধিকারিকের কাজ কী? আপিল আধিকারিক হয় দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিষেবা প্রদান করার নির্দেশ দেবেন নতুবা আপিলটি বর্জন করবেন। প্রশ্নাবলি ৫ কে রিভিশন চাইতে পারেন? আপিল আধিকারিকের নির্দেশের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ আবেদনকারী পুনর্বিবেচনা আধিকারিকের কাছে দ্বিতীয় আপিল করতে পারেন। রিভিশনের জন্য কত দিনের মধ্যে আবেদন করতে হবে? আপিল আধিকারিকের সিদ্ধান্ত জানার ৬০ দিনের মধ্যে ক্ষুব্ধ আবেদনকারী পুনর্বিবেচনা আধিকারিকের কাছে আপিল করতে পারেন। আপিল আধিকারিকের নির্দেশের বিরুদ্ধে আবেদনকারী কী ভাবে রিভিশনের আবেদন করতে পারেন? আপিল আধিকারিকের নির্দেশে ক্ষুব্ধ হয়ে আবেদনকারী নিম্নলিখিত তথ্য/নথি দিয়ে ৩ নম্বর ফর্মে পুনর্বিবেচনা আধিকারিকের কাছে আপিল করতে পারেন --- ক) আবেদনকারীর সম্পূর্ণ নাম ও ঠিকানা। খ) যে পরিষেবার জন্য আবেদন করা হয়েছিল তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ। গ) পরিষেবা পাওয়ার জন্য কবে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। ঘ) যে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম আপিল বা দ্বিতীয় আপিল করা হয়েছে তা স্ব-প্রত্যয়িত নকল। ঙ) প্রথম আপিল বা দ্বিতীয় আপিল করার সময় যে সব নথি দেওয়া হয়েছিল তার নকল। চ) আপিল করার কারণ। ছ) কী সুরাহা চাইছেন। জ) আপিলের জন্য প্রয়োজনীয় অন্য যে কোনও তথ্য। যদি আবেদনটি দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক কর্তৃক প্রত্যাখ্যান করার বিরুদ্ধে আপিল করা হয় তা হলে আবেদনের তারিখ, যাঁরা কাছে আবেদন করা হয়েছিল সেই দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের নাম ও ঠিকানা দিতে হবে। আপিল বা রিভিশনের জন্য কী পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়? আপিলটি বিবেচনা করার ক্ষেত্রে আপিল আধিকারিক বা পুনর্বিবেচনা আধিকারিক ক) প্রাসঙ্গিক নথি, সরকারি নথি বা তার কপি পরীক্ষা করে দেখবেন। খ) আপিলের শুনানির দিন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক এবং আবেদনকারী বা তাঁর অনুমোদিত প্রতিনিধির বক্তব্য শুনবেন। আপিল ও রিভিশনের শুনানির জন্য ধার্য দিন কী ভাবে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হবে? আপিল বা রিভিশনের আবেদনের শুনানির জন্য নিম্নলিখিত উপায়ে নোটিশ দিতে হবে -- ক) প্রসেস সারভার বা বিশেষ দূত মারফত হাতে হাতে (দস্তি)। খ) উপযুক্ত অ্যাকনলেজমেন্ট-সহ রেজিস্টার্ড পোস্টের মাধ্যমে। খ) সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রে তাঁর নিয়ন্ত্রক আধিকারিকের মাধ্যমে। কত দিনের আগাম নোটিশ দিতে হবে? প্রতিটি ক্ষেত্রে শুনানির নির্ধারিত দিনের অন্তত সম্পূর্ণ সাত দিন আগে আবেদনকারীকে জানাতে হবে। আপিল ও রিভিশনের নির্দেশ জানানোর কোনও ব্যবস্থা আছে কি? হ্যাঁ। প্রথম বা দ্বিতীয় আপিলের নির্দেশ লিখিত ভাবে দিতে হবে। আপিলের ব্যাপারে আদেশের কপি আবেদনকারীকে, দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে অথবা আপিল আধিকারিককে দিতে হবে (যখন যিনি প্রযোজ্য)। প্রশ্নাবলি ৬ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা আপিল আধিকারিককে সাজা দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা আছে কি? ক) যদি পুনর্বিবেচনা আধিকারিক দেখেন যে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক যথেষ্ট ও যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই পরিষেবা প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছেন তা হলে তিনি ওই আধিকারিককে সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা ও সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করতে পারেন। খ) যদি পুনর্বিবেচনা আধিকারিক মনে করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক পরিষেবা দিতে দেরি করছেন তা হলে তিনি ওই আধিকারিককে দৈনিক ২৫০ টাকা (সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা পর্যন্ত) জরিমানা ধার্য করতে পারেন। গ) যদি পুনর্বিবেচনা আধিকারিক মনে করেন আপিল আধিকারিক যথেষ্ট ও যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আপিলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছেন তবে তিনি আপিল আধিকারিককে কমপক্ষে ২৫০টাকা, সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা জরিমানা করতে পারেন। ঘ) যদি পুনর্বিবেচনা আধিকারিক এই দেখে সন্তুষ্ট হন যে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা আপিল আধিকারিককে এই আইনের অধীনে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁরা তা যথেষ্ট ও যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন তা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে প্রযোজ্য চাকরির বিধি অনুসারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করতে পারেন। ঙ) তবে উপরিউক্ত ক্ষেত্রে কোনও সাজা ধার্য করার আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা আপিল আধিকারিককে তাঁদের বক্তব্য বলার যুক্তিসংগত সুযোগ দেওয়া হবে। কী ভাবে সাজা জারি হবে? জরিমানা আদায় করার ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনা আধিকারিক তাঁর নির্দেশের কপি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেবেন যাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা আপিল আধিকারিকের বেতন/সাম্মানিক/পারিশ্রমিক থেকে জরিমানার অর্থ কেটে নেওয়া হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা আপিল আধিকারিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সংক্রান্ত সুপারিশের ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনা আধিকারিক তাঁর নির্দেশের কপি সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেবেন। প্রশ্নাবলি ৭ আপিল আধিকারিক বা পুনর্বিবেচনা আধিকারিক আদালতের ক্ষমতা কতটা? ১৯০৮-এর ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে কোনও মামলা বিচারের সময় দেওয়ানি আদালতের যে ক্ষমতা থাকে, এই ধারা অনুযায়ী কোনও আপিল সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আপিল আধিকারিক বা পুনর্বিবেচনা আধিকারিকের নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে একই ক্ষমতা থাকবে --- ক) নথি পরীক্ষা করা বা তলব করা। খ) দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক ও আবেদনকারীকের কাছে শুনানির সমন পাঠানো। গ) বলা হয়েছে এমন যে কোনও বিষয়ে। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা আপিল আধিকারিককে সাজা দেওয়া সংক্রান্ত পুনর্বিবেচনা আধিকারিকের নির্দেশ সংশোধনের কোনও সুযোগ রয়েছে কি? এই আইন অনুসারে পুনর্বিবেচনা আধিকারিকের সাজা-নির্দেশে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা আপিল আধিকারিক যদি ক্ষুব্ধ হন তা হলে তিনি সে নির্দেশ সংশোধনের জন্য রাজ্য সরকার মনোনীত অফিসারের কাছে নির্দেশ জারি হওয়ার ষাট দিনের মধ্যে আবেদন করতে পারেন, তবে ওই অফিসারের পদমর্যাদা সরকারের যুগ্ম সচিব পর্যায়ের নীচে হলে চলবে না। যে আধিকারিক অবিচলিত ভাবে জনগণকে পরিষেবা দেন তাঁকে কাজে উৎসাহিত করতে কোনও পুরস্কারের ব্যবস্থা আছে কি? হ্যাঁ। যে সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে একটি আর্থিক বছরে কোনও গাফিলতির অভিযোগ আসবে না তাঁকে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার দেওয়ার জন্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ সুপারিশ করতে পারেন। এই সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার বা স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ যেটা উপযুক্ত ও যোগ্য মনে করবেন (তবে তা কখনওই উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সুপারিশ করা পরিমাণের বেশি নয়) সেই টাকা পুরস্কার হিসাবে মঞ্জুর করবেন। সঙ্গে একটি প্রশংসাসূচক শংসাপত্র দেওয়া হবে এবং তা তাঁর সার্ভিস বুকে রেকর্ড করা হবে। রাজ্য সরকার নগদ পুরস্কারের মাপকাঠি নির্ধারণ করে নির্দেশ জারি করবে। সূত্র : পশ্চিমবঙ্গ জন পরিষেবা অধিকার আইন ২০১৩ হিন্দু উত্তরাধিকার আইন, ১৯৫৬ এই আইন আনুসারে মৃত ব্যক্তির কোনও উইল বা ইচ্ছাপত্র না থাকলে, তার সম্পত্তি নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে বণ্টন করা হবে: প্রথমতঃ যে-সব আত্মীয়রা প্রথম শ্রেণীর উত্তরাধিকারী বলে গণ্য তাদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন করা হবে। মৃত ব্যক্তি যদি পুরুষ হয়, তাহলে প্রথম শ্রেণীর আত্মীয়রা হবে: পুত্র, কন্যা, বিধবা স্ত্রী, মাতা, মৃত পুত্রের পুত্র ও কন্যা, মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রী (যদি সে ইতিমধ্যে পুনর্বিবাহ না করে থাকে), মৃতা কন্যার পুত্র ও কন্যা, মৃত পুত্রের মৃত পুত্রের পুত্র ও কন্যা এবং মৃত পুত্রের মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রী (যদি সে ইতিমধ্যে পুনর্বিবাহ না করে থাকে)। যদি প্রথম শ্রেণীর কোনও উত্তরাধিকারী না থাকে, তাহলে পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয়, ইত্যাদি শ্রেণীভুক্ত আত্মীয়দের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন করা হবে। দ্বিতীয় শ্রেণীর উত্তরাধিকারীরা হল: (১) পিতা; (২) (ক) পুত্রের কন্যার পুত্র, (খ) পুত্রের কন্যার কন্যা, (গ) ভ্রাতা, (ঘ) ভগিনী; (৩) (ক) কন্যার পুত্রের পুত্র , (খ) কন্যার পুত্রের কন্যা, (গ) কন্যzর কন্যার পুত্র, (ঘ) কন্যার কন্যার কন্যা; (৪) (ক) ভ্রাতার পুত্র, (খ) ভগিনীর পুত্র, (গ) ভ্রাতার কন্যা, (ঘ) ভগিনীর কন্যা; (৫) পিতার পিতা; পিতার মাতা; (৬) পিতার বিধবা স্ত্রী - জন্মদাত্রী মা নয়। ভ্রাতার বিধবা স্ত্রী; (৭) পিতার ভ্রাতা, পিতার ভগিনী; (৮) মাতার পিতা; মাতার মাতা; (৯) মাতার ভ্রাতা; মাতার ভগিনী। প্রথমে সম্পত্তি সমানভাবে ভাগ করা হবে পুত্র, কন্যা, বিধবা স্ত্রী ও মাতার মধ্যে। পুত্র বা কন্যা মৃত হলে তাদের প্রাপ্য সম্পত্তি ভাগ করা হবে তাদের উত্তরাধিকারীদের মধ্যে, অর্থাৎ বিধবা স্ত্রী, পুত্র ও কন্যাদের মধ্যে। কন্যার মৃত্যু হয়ে থাকলে তার ভাগ সেইরকম ভাবে যাবে তার পুত্র ও কন্যার কাছে। প্রথম শ্রেণীর কোনও উত্তরাধিকারী না থাকলে দ্বিতীয় শ্রেণীর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন করা হবে। সেক্ষেত্রে তালিকা যেভাবে সাজানো আছে সেভাবে উত্তরাধিকারীরা গুরুত্ব পাবে। অর্থাত্ দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রথমে আছে পিতা। পিতা জীবিত থাকলে পিতা একাই পুরো সম্পত্তি পাবে। পিতা মৃত হলে দ্বিতীয় স্থানে যারা আছে, শুধু তারাই সবাই মিলে সমান ভাগে সম্পত্তি পাবে। দ্বিতীয় স্থানের যদি কেউ জীবিত না থাকে, সেক্ষেত্রে তৃতীয়স্থানে যারা আছে তারা সমান ভাগে সম্পত্তি পাবে। ইত্যাদি। দ্বিতীয় শ্রেণীর উত্তরাধিকারীদের কেউ না থাকলে তার অ্যাগনেটরা সম্পত্তি পাবে। অ্যাগনেট হল দুজন ব্যক্তি যদি সম্পূর্ণভাবে পুং পূর্বপুরুষের দ্বারা রক্তের সূত্রে অথবা দত্তকসূত্রে পরস্পরের সাথে সম্পর্কীত হয়। যদি কোনও অ্যাগনেট না থাকে, তাহলে কগনেটরা সম্পত্তি পাবে। কগনেট হল দুই ব্যক্তি যদি রক্তের সূত্রে বা দত্তকসূত্রে পরস্পরের অঙ্গে সম্পর্কীত হন, কিন্তু ঐ রক্তের সূত্র যদি সম্পূর্ণভাবে পুং পূর্বপুরুষ দ্বারা না হয়ে থাকে। মৃত ব্যক্তি যদি নারী হয়, তাহলে প্রথমে সেই নারীর সমস্ত সম্পত্তি (নিজের পিতা-মাতার কাছ থেকে পাওয়া, স্বামী বা শ্বশুর বাড়ি থেকে পাওয়া এবং স্বোপার্জিত) তার পুত্র ও কন্যা (জীবিত ও মৃত) এবং স্বামী সমান ভাবে পাবে। এ ধরণের উত্তরাধিকারীরা না থাকলে সম্পত্তি পাবে তার মৃত স্বামীর উত্তরাধিকারীরা। তারাও না থাকলে, সম্পত্তি যাবে নারীর পিতা ও মাতার কাছে (অন্যথায় তার পিতার উত্তরাধিকারীদের ও পরিশেষে তার মাতার উত্তরাধিকারীদের কাছে)। (বিশেষ দ্রষ্টব্য: হিন্দু পুরুষের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে পুত্র, কন্যা ও বিধবা স্ত্রীর মধ্যে সমভাবে সম্পত্তি বণ্টনের যে কথা উল্লেখ করা হয়েছে - সেটি হিন্দুরা যারা দায়ভাগ নিয়মের মধ্যে পড়েন (পশ্চিমবঙ্গে এই নিয়মটিই চালু আছে) - তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মিতাক্ষরা নিয়মে (পশ্চিমবঙ্গের বাইরে নানান জায়গায় প্রচলিত) যৌথপরিবারের সম্পত্তি (যেটি স্বোপার্জিত বা একান্ত হয়ে যাওয়া সম্পত্তি নয়) বণ্টনের প্রথা পুরনো নিয়মেই চলবে।) মোটামুটি ভাবে এই আইনে হিন্দু নারীদের সম্পত্তিতে পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে বসতবাড়ির উত্তরাধিকারের ব্যাপারে সমতা রক্ষা করা হয় নি। মৃত ব্যক্তি*র উত্তরাধিকারীদের মধ্যে যদি পুরুষ ও নারী উভয়েই থাকে এবং বসতবাড়িটি পরিবারের ব্যবহারের জন্য থাকে, তাহলে সেই বসতবাড়িতে নারীদের বাস করার অধিকার থাকবে, যদি সে অবিবাহিত, বিবাহ-বিচ্ছিন্না, স্বামী পরিত্যক্তা বা বিধবা হয়। অর্থাত্ বিবাহিত নারীদের সেই বাড়িতে বাস করার অধিকার থাকবে না। শুধু তাই নয়, এই বসতবাড়ির ওপরে নারীদের উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য অংশ থাকবে ঠিকই, কিন্তু সেই অংশ ভাগ করার দাবী তারা তুলতে পারবে না, যতক্ষণ না পর্যন্ত পুরুষ উত্তরাধিকারীরা বাড়িটি ভাগ করে নিজেদের অংশগুলি নেবার সিদ্ধান্ত না নেয়। *হিন্দু উত্তরাধিকার আইন, ১৯৫৬-র সংশোধন হয়েছে ২০০৫ সালে। এই সংশোধনীতে পুরনো আইনে যে লিঙ্গবৈষম্য ছিল সেটাকে সরিয়ে দিয়ে মেয়েদের নীচের অধিকারগুলি দেওয়া হয়েছে - যৌথ-সম্পত্তিতে কন্যা সন্তানের অধিকার পুত্র সন্তানেরই সমান। পুত্র ও কন্যাকে সমভাবে সম্পত্তি বন্টন করতে হবে। যৌথসম্পত্তির ধারদেনাও সমভাবে পুত্র ও কন্যাদের ওপর বর্তাবে। তথ্য সংকলন : বিকাসপিডিয়া টীম হিন্দু বিবাহ বিধি (হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্ট), ১৯৫৫ এই আইন জন্মু ও কাশ্মীর ছাড়া ভারতের অন্য সব জায়গাতেই প্রযোজ্য। কোনও হিন্দু যদি এই আইনের আওতায় পরে এমন কোনও স্থানে বসবাস করেন - তাহলে তিনি বাইরে থেকে এলেও এই আইন তাঁর প্রতি প্রযোজ্য হবে। অহিন্দু, অর্থাৎ, কৃশ্চান, মুসলমান, ইহুদী, পার্শীদের প্রতি এই আইন প্রযোজ্য নয়। হিন্দু ও অহিন্দুর মধ্যে বিবাহ একমাত্র সম্ভবপর "সিভিল ম্যারেজ"-এর সাহায্যে। ১৯৫৪ সালের স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী প্রদেশ সরকারের নিয়োজিত ম্যারেজ রেজিস্ট্রাররা এই বিবাহ দিতে পারেন। হিন্দু বিবাহ বিধিতে সামাজিক প্রথা ও নিয়ম অনুযায়ী হিন্দু বিবাহ সম্পন্ন হলে তাকে বৈধ হিসাবে গণ্য করা হয় এবং সপ্তপদী যে-সব বিবাহের একটি অঙ্গ, অগ্নি-সাক্ষী করে সপ্তপদী হয়ে যাবার পরেই বিবাহ সম্পূর্ণ হয়েছে বলে ধরা হয়। হিন্দু আইনে কোথাও বলা হয় নি যে, উভয়পক্ষের সন্মতি না থাকলে বিবাহ অসিদ্ধ হবে। কিন্তু যদি কোনও পক্ষের সন্মতি অসত্ উপায়ে বা জোর করে নেওয়া হয় - তাহলে সেই বিবাহ অবৈধ ঘোষিত হতে পারে। হিন্দু বিবাহ আইনের কতগুলি প্রয়োজনীয় তথ্য: বৈধ বিবাহের শর্ত: * হিন্দু হতে হবে। * ন্যূনতম বয়স: পাত্রের ক্ষেত্রে ১৮ (বর্তমান সীমা ২১) ও পাত্রীর ক্ষেত্রে ১৫ (বর্তমান সীমা ১৮) বছর হতে হবে (এর থেকে কম বয়সে বিবাহ করা দণ্ডনীয় অপরাধ, যদিও তার জন্য বিবাহটি অবৈধ নাও হতে পারে)। * বিবাহকালে পাত্রীর অন্য স্বামী বা পাত্রের অন্য স্ত্রী জীবিত থাকলে চলবে না। * পাত্র ও পাত্রী পরস্পরের নিকট আত্মীয় (যা আইনত নিষিদ্ধ) হবেন না। (বিভিন্ন লোকাচার অনুয়াযী এগুলি শিথিলযোগ্য। যেমন দক্ষিণ ভারতের অনেক জায়গায় মামা তাঁর ভাগ্নীকে বিবাহ করতে পারেন)। * উভয়ের কেউই সপিণ্ড হবেন না (কারোর সপিণ্ড সম্পর্ক বিচার করতে হলে প্রথমে দেখতে হবে সেই সেই ব্যক্তিকে প্রথম প্রজন্ম হিসেবে ধরে তার মায়ের দিক থেকে তিনটি প্রজন্ম (generation) আগে এবং বাবার দিক থেকে পাঁচটি প্রজন্ম আগে কারা ছিলেন। দুজনকে তখনই সপিণ্ড বলা হবে যদি একজনের সপিণ্ড সম্পর্কের কেউ অন্যজনের সপিণ্ড সম্পর্কের হয় অথবা একজন অন্যজনের সপিণ্ড সম্পর্কের কেউ হয়। )। নিষিদ্ধ সম্পর্কগুলির বিবরণ: * আপন সন্তান। * পুত্র-বধূ, জামাতা, পিতার স্ত্রী, মাতার স্বামী। * ভাই, বোন - আপন, মামাতো, মাসতুতো, পিসতুতো, খুড়তুতো, জ্যাঠতুতো সবাই। * মেয়েদের মামা, কাকা, ও জ্যাঠা। ছেলেদের মাসি ও পিসি। হিন্দু বিবাহ বিধিতে অসিদ্ধ (void) এবং অসিদ্ধ-সম্ভব (voidable) বিবাহের কথা বলা হয়েছে। বিবাহ অসিদ্ধ হবে যদি প্রাক-বিবাহ বাধা সত্বেও বিবাহ সংঘটিত হয়। এই বাধাগুলিকে আবার দুটো ভাগে ভাগ করা যেতে পারে: * নিরঙ্কুশ বাধা: এই বাধা সত্বেও কেউ বিবাহ করলে সেটি প্রথম থেকেই অবৈধ। যে কোনও পক্ষ আবেদন জানালে এটি অসিদ্ধ বলে জারি করা হবে। * আপেক্ষিক বাধা: এক্ষেত্রে বিবাহ অসিদ্ধ বলে ঘোষিত হতে পারে যদি কোনও পক্ষ তার জন্য আবেদন করে। নিরঙ্কুশ বাধাগুলি হল: * বিবাহকালে পাত্রের অন্য স্ত্রী বা পাত্রীর অন্য স্বামী জীবিত থাকলে চলবে না। * পাত্র-পাত্রী সপিণ্ড হবে না * পাত্র-পাত্রী সম্পর্ক নিষিদ্ধ সম্পর্কের মধ্যে পড়বে না * এছাড়াও অন্য কারণে বিবাহ অসিদ্ধ হতে পারে, যেমন, বিবাহ-অনুষ্ঠানের আবশ্যকীয় অংশগুলি পালন না করা। অসিদ্ধ (void) বিবাহের সঙ্গে অসিদ্ধ-সম্ভব (voidable) বিবাহের তফাত্ হল অসিদ্ধ-সম্ভব বিবাহ বৈধ বলে ধরা হবে যদি না কোনও এক পক্ষ এটি অসিদ্ধ ঘোষণা করার জন্য আবেদন জানায় এবং সেই আবেদন গৃহীত হয়ে বিবাহ বাতিল করা হয়। সেক্ষেত্রে বিবাহের দিন থেকেই এই বিবাহ অসিদ্ধ বলে ধরা হবে। অসিদ্ধ-সম্ভব বিবাহের মূলে চারটি কারণ থাকতে পারে: * স্বামী পুরুষত্বহীন হয়। * বিবাহের সময়ে কোনও পক্ষ পাগল বা জড়বুদ্ধিসম্পন্ন হয়। * বিবাহে সম্মতি আদায় করেছে শঠতার আশ্রয় নিয়ে বা জোর করে (এক্ষেত্রে: (১) শঠতা ধরা পরার বা বলপ্রয়োগের (যা শারীরিক মানসিক দুই হতে পারে) এক বছরের মধ্যে আবেদন জানাতে হবে); এবং (২) বলপ্রয়োগের বা শঠতা আবিষ্কৃত হবার পর আবেদনকারী স্বেচ্ছায় অন্যপক্ষের সঙ্গে সহবাসে লিপ্ত হন নি) * বিবাহের পূর্বে পাত্রী যদি অন্য পুরুষের দ্বারা গর্ভবতী হয়ে থাকে। (এক্ষেত্রে, (১) বিবাহের সময়ে পাত্রীকে গর্ভবতী থাকতে হবে, (২) গর্ভধারণ ঘটেছে স্বামী ছাড়া অন্য কোনও পুরুষের দ্বারা; (৩) আবেদনকারী বিবাহের সময়ে এই গর্ভধারণের কথা জানতেন না; (৪) স্ত্রী গর্ভবতী জানার পর স্বামী স্বেচ্ছায়ে স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হন নি); (৫) গর্ভবতী জানতে পারার এক বছরের মধ্যে স্বামীকে আবেদন করতে হবে। হিন্দু বিবাহ বিধিতে বিবাহ-বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করা চলতে পারে এবং উপযুক্ত কারণ দেখাতে পারলে আদালত তা মঞ্জুর করতে পারে। কিন্তু বিবাহ হবার পর থেকে তিন বছরের মধ্যে এই আবেদন করা চলবে না। নিম্নলিখিত কারণগুলি উপযুক্ত কারণ হিসেবে গণ্য করা হবে: * স্বামী বা স্ত্রী ব্যভিচারে লিপ্ত হলে। * ধর্মান্তর গ্রহণ করে আর হিন্দু না থাকলে। * আবেদনের প্রাক্কালীন তিন বছর ধরে স্বামী বা স্ত্রী কেউ যদি মস্তিষ্ক বিকৃতিতে বা আরোগ্যের অতীত কুষ্ঠ ব্যধিতে, কিংবা সংক্রামক যৌনব্যাধিতে ভুগলে। * স্বামী বা স্ত্রী সংসার ত্যাগ করলে বা কোনও ধর্ম-সম্প্রদায়ে যোগ দিলে। * স্বামী বা স্ত্রীর কেউ সাত বছর নিরুদ্দিষ্ট থাকলে। * আদালত কর্তৃক আলাদা হয়ে থাকার হুকুমনামার (জুডিশিয়াল সেপারেশন) পর উভয়পক্ষ আর স্বামী-স্ত্রী রূপে সহবাস না করলে। * আদালত দাম্পত্য-জীবন পুনপ্র্রতিষ্ঠার (রেস্টিট্যুশন অফ কনজুগাল রাইটস) হুকুম দেওয়া সত্বেও, হুকুম অমান্য করে দুই বছর আলাদা হয়ে বাস করলে। * স্বামী যৌন-অত্যাচার করলে। * স্ত্রী বর্তমান থাকা সত্বেও অন্য কাউকে বিবাহ করলে। (যদিও সেই দ্বিতীয় বিবাহ অসিদ্ধ, কিন্তু এটিও বিবাহ-বিচ্ছদে আবেদনের একটি উপযুক্ত কারণ)। * দুজনের সম্মিলিত ইচ্ছা। আদালতে যদি বিবাহ-বিচ্ছেদের নির্দেশ দেয় (এবং তার বিরুদ্ধে কোনও আপীল না করা হয়), তাহলে এক বছর অপেক্ষা করার উভয়পক্ষই আবার বিবাহ করতে পারে। প্রসঙ্গতঃ বিবাহ-বিচ্ছেদের নির্দেশ পাবার আগে যদি স্ত্রী গর্ভবতী হন, তাহলে সেই সন্তান স্বামীর বৈধ সন্তান বলে গণ্য হবে| তথ্য সংকলন : বিকাস পিডিয়া টীম ক্রেতা সুরক্ষা আইন উচিত দামে সঠিক পণ্য বা জিনিস পাওয়া হল ক্রেতাদের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার রক্ষার্থে ১৯৮৬ সালে একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। এই আইনটির পরিধি আরও বিস্তৃত করার জন্য ১৯৯৩ সালে এটি সংশোধিত হয়। বর্তমানে এই আইনটি শুধু ক্রেতাদের (buyers) মধ্যেই সীমিত নয়, এটি উপভোক্তাদের (consumers) অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। ক্রেতা বা উপভোক্তা কারা? যিনি বা যাঁরা নিজেদের ব্যবহারের জন্য দাম দিয়ে জিনিস কেনেন, অথবা কোনও কিছু ভাড়া নেন, কিংবা কোনও পরিষেবা গ্রহণ করেন - তাঁরা সকলেই হলেন ক্রেতা বা উপভোক্তা। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, পুরো দাম নগদ না দিলেও চলবে। পরে দাম দেবেন কথা দিয়ে আংশিক অগ্রিম দিলেও তাঁরা ক্রেতা বা উপভোক্তা হিসেবে গণ্য হবেন। কিন্তু ব্যবসার উদ্দেশ্যে জিনিস কিনলে বা পরিষেবা গ্রহণ করলে এই আইনের সংজ্ঞা অনুসারে তাঁরা ক্রেতা বা উপভোক্তা হিসেবে গণ্য হবেন না। ক্রেতা সুরক্ষার আইনের সুযোগ কারা পেতে পারেন? জম্মু ও কাশ্মীর বাদ দিয়ে অন্য যে-কোনও রাজ্যের ক্রেতা/ উপভোক্তা এই আইনের সুযোগ নিতে পারেন। ক্রেতা হিসেবে আপনি কোন কোন ক্ষেত্রে এই আইনের সুযোগ নিতে পারেন? আপনি নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলির ক্ষেত্রে এই আইনের সুযোগ নিতে পারেন। - আপনি যে জিনিস কিনেছেন বা কিনতে সন্মত হয়েছেন, তাতে যদি এক বা একাধিক দোষ বা ত্রুটি থাকে। - আপনি যে পরিষেবা ভাড়া করেছেন বা ভাড়া করার জন্য চুক্তি করেছেন, তাতে যদি কোন অপরিপূর্ণতা বা ঘাটতি থাকে। - যদি কোনও ব্যবসায়ী জিনিসের জন্য নির্ধারিত দামের অতিরিক্ত দাম আপনার কাছ থেকে নিয়ে থাকেন। (নির্ধারিত দাম বলতে এখানে বোঝাচ্ছে - জিনিসটির ওপর বা যে প্যাকেজের মধ্যে জিনিসটি আছে তার ওপর লিখিত দাম কিংবা আইনের দ্বারা স্বীকৃত দাম)। - ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে-সব জিনিস জীবনের পক্ষে বিপদ্জনক - নিরাপত্তা হানিকর সেই সমস্ত জিনিস যখন নির্দেশিত বিধি না মেনে বিক্রি করা হয় বা বিক্রির উদ্দেশ্যে তার তথ্যাদি প্রদর্শন করা হয়। - যদি কোনও ব্যবসায়ী অবৈধ ব্যবসা বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবসা চালায় বা অনুশীলন করে। কোন ধারার ওপর ভিত্তি করে আপনি আপনার অভিযোগপত্র জমা দেবেন? ক্রেতা সুরক্ষা আইনের ১২ নং ধারায় আপনার আবেদনপত্র বা অভিযোগপত্র জমা দিন। অভিযোগপত্র কার কাছে জমা দেবেন? - আপনার ক্ষতিপূরণের মূল্য যদি পাঁচ লক্ষ টাকার মধ্যে হয়, তাহলে আপনার অভিযোগপত্র জমা দেবেন জেলা কন্সিউমার ফোরামে। - আপনার ক্ষতিপূরণের মূল্য যদি পাঁচ লক্ষ থেকে কুড়ি লক্ষ টাকার মধ্যে হয়, তাহলে আপনার অভিযোগপত্র জমা দেবেন রাজ্য কমিশনে। - আপনার ক্ষতিপূরণের মূল্য যদি কুড়ি লক্ষ টাকার অধিক হয়, তাহলে আপনার অভিযোগপত্র জমা দেবেন জাতীয় কমিশনে। অভিযোগপত্র কিভাবে জমা দেবেন? আপনার অভিযোগপত্র সাদা পাতায় লিখিত ভাবে জমা দিলেই চলবে। অভিযোগপত্র জমা দেবার ফি কত? অভিযোগপত্র জমা দিতে কোনও কোর্ট ফি লাগে না। অভিযোগপত্র কত দিনের মধ্যে জমা দেবেন? ঘটনার সময় থেকে দু বছরের মধ্যে আপনার অভিযোগ পত্র দাখিল করতে পারেন। তবে বিচারক ইচ্ছে করলে এই সময়ের পরেও আপনার অভিযোগ পত্র গ্রহণ করতে পারেন। অভিযোগপত্র জমা দেবার জন্য কি কোনও উকিলের প্রায়োজন আছে? অভিযোগ দাখিলের জন্য (কিংবা তারপরেও) কোনও উকিল লাগে না। অভিযোগ পত্র জমা দেবার কত দিনের মধ্যে আপনি প্রতিবিধান পাবেন? সাধারণতঃ বিবাদীপক্ষ ফোরামের বিজ্ঞপ্তি পাবার পর থেকে ৯০ দিনের মধ্যে আপনি আপনার প্রতিবিধান পেতে পারেন। কারা উপভোক্তা বা ক্রেতা নন? ব্যবসার উদ্দেশ্যে কেউ কিছু ক্রয় করলে বা কোনও পরিষেবা গ্রহণ করলে - এই আইন অনুসারে তাকে ক্রেতা বা উপভোক্তা বলে গণ্য করা হয় না। কোন কোন সংস্থার ক্ষেত্রে আপনি এই আইনের সাহায্য পেতে পারেন? সাধারণ দোকান বা বিক্রয়কারী সংস্থাগুলি অবশ্যই এর আওতায় পড়ে। তবে এই আইনের বিস্তৃতি খুবই ব্যাপক। যেমন, ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, টেলিফোন, বিদ্যুত্, রান্নার গ্যাস, চিকিত্সক, ফ্রিজ, রেল, কেব্ল টিভি, ক্যুরিয়ার সার্ভিস, ইত্যাদির বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ থাকলে আপনি এদের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ পত্র দাখিল করতে পারেন। প্রভিডেণ্ট ফাণ্ড, গ্র্যাচুইটি, পেনসন অথবা অবসরকালীন সুবিধে না পাওয়ার জন্য মালিকের বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগ পত্র দাখিল করার অধিকার আছে। বেসরকারী হাসপাতাল, নার্সিংহোম, বেসরকারী চিকিত্সক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (কিছু ক্ষেত্রে) ইত্যাদির বিরুদ্ধে আপনার অভিযোগও এই আইনের আওতায় পরে। হেরে গেলে বা ক্ষতিপূরণ না পেলে আপনি কি করতে পারেন? আপনার অভিযোগের সুরাহা না হলে আপনি অবশ্যই আপীল করতে পারেন। আপীল করলে কোথায় তা করবেন? - জেলা ফোরামের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করতে হলে আপনাকে তা ৩০ দিনের মধ্যে করতে হবে রাজ্য কমিশনে। - রাজ্য কমিশনের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করতে হলে আপনাকে তা ৩০ দিনের মধ্যে করতে হবে জাতীয় কমিশনে। কেসের রায় কার্যকরী না করলে কোন শাস্তিমূলক বিধান এই আইনে আছে কি? কেসের সিদ্ধান্ত অভিযুক্ত না মানলে অভিযুক্তকে নিম্নোক্ত যে কোন একটি বা সব কটি শাস্তিই দেওয়া হতে পারে: - কম পক্ষে একমাস, সর্বাধিক তিন বছরের কারাবাস। - কম পক্ষে 2,000 (দু হাজার) টাকা, সর্বাধিক 10,000 (দশ হাজার) টাকা জরিমানা। অভিযোগ পত্রে কি কি লিখবেন? - আপনার নাম ও সম্পূর্ণ ঠিকানা। - যার বা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন, তার বা তাদের নাম ও সম্পূর্ণ ঠিকানা। - জিনিস কেনা/ভাড়া নেওয়া/পরিষেবা গ্রহণের তারিখ। - দাম হিসেবে দেওয়া টাকার পরিমান। - কেনা বা ভাড়া নেওয়া জিনিসটির বর্ণনা ও তার পরিমাণ/পরিমাপ বা পরিষেবার প্রকৃতি। - অভিযোগ কি ধরণের; অসাধু ব্যবসা সম্পর্কে/ত্রুটিপূর্ণ দ্রব্য সম্পর্কে/পরিষেবা ক্ষেত্রে ঘাটতির বিষয়/বেশী দাম নেওয়া সম্পর্কে। - মূল্যপত্র বা বিল/ভাউচার/রসিদ আর এই ব্যাপারে চিঠিপত্র যদি কিছু থাকে। - আপনি কি ধরণের প্রতিবিধান চাইছেন। মনে রাখবেন: তুচ্ছ কারণে বা হয়রাণি করার উদ্দেশ্যে অভিযোগ দায়ের করলে অভিযোগকারীরই জরিমানা হতে পারে। কয়েকটি ক্রেতা-সুরক্ষা জেলা ফোরামের (কনসিউমার ডিসপিউট্স রিড্রেসাল ফোরাম) ঠিকানা: উত্তর ২৪ পরগনা: ৭ কে.বি. বোস রোড, বারাসত। দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ১৮ জজেস কোর্ট রোড, আলিপুর, কলকাতা ৭০০০২৭, ফোন ২৪৭৯-৪৩৩৫ । হাওড়া: রেড কোর্ট বিল্ডিং, হাওড়া, ৭১১০০১ , ফোন ২৬৬০ -০৮৯২ । কলকাতা (ইউনিট ১ ): ভবানী ভবন (এক তলা), কলকাতা ৭০০০২৭ , ফোন ২৪৭৯-৪৮৬২ । কলকাতা (ইউনিট ২ ): ৮বি নেলী সেনগুপ্ত সরণী (সাত তলা), কলকাতা ৭০০০৮৭। পশ্চিমবঙ্গের ক্রেতা-সুরক্ষা রাজ্য কমিশনের ঠিকানা: স্টেট কনসিউমার ডিস্প্যুটস রিড্রেসাল কমিশন: ভবানী ভবন (এক তলা), কলকাতা ৭০০০২৭ , ফোন ২৪৭৯ -৪৯১৬ । অন্যান্য জেলা ফোরামের ঠিকানার জন্য ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরে যোগাযোগ করুন: ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের ঠিকানা: ১১এ মির্জা গালিব স্ট্রিট কলকাতা ৭০০০৮৭ ইমেইল sec.cons@wb.nic.in সূত্র: ওয়েবসাইট ক্রেতা-সুরক্ষা আইন সংক্রান্ত কিছু কথার সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যা ক্রেতা-সুরক্ষা আইনের প্রধান উদ্দেশ্য হল স্বল্প ব্যয়ে সহজে ও অল্প সময়ে ক্রেতা সমস্যার নিäপত্তি। এই আইনটি কি তা ক্রেতা সুরক্ষা আইন পাতায় মোটামুটি ভাবে দেওয়া হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে এইখানে কিছু শব্দের অর্থ আরও বিষদ ভাবে দেওয়া হল: ক্রেতা কারা? সুরক্ষা আইনের সংজ্ঞা অনুসারে যদি কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কোনও মূল্যের (consideration) বিনিময়ে বা মূল্য দেবেন এই প্রতিশ্রুতিতে বা কিস্তিবন্দীতে কোনও পণ্য ক্রয় বা সংগ্রহ করেন, তাহলে তিনি ক্রেতা বলে বিবেচিত হবেন। এই আইনে আরও বলা হয়েছে যে, প্রকৃত ক্রেতা ছাড়াও যে-সব ব্যক্তি ঐ পণ্য ব্যবহার করবেন, তাঁরাও ক্রেতার মর্যাদা পাবেন। পণ্য ক্রয় ছাড়াও আরেক ধরণের ক্রয় লোকেরা করে। যেমন, বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিষেবা লোকেরা ক্রয় বা ভাড়া করে। রেল, টেলিফোন, ডাক ও তার ইত্যাদি বিভাগের পরিষেবা অর্থ দিয়ে ক্রয় করতে হয়। বাড়ি করার সময় টাকা দিয়ে কনট্রাক্টরের পরিষেবা লোকে গ্রহণ করে। বেসরকারী প্রতিষ্ঠান - নার্সিংহোম, ক্যুরিয়ার সার্ভিস, কার-রেণ্টাল (ভাড়ার গাড়ি) এজেন্সি, ইত্যাদির পরিষেবা পেতে হলে মূল্য ধরে দিতে হয়। সুরক্ষা আইনে পরিষেবা গ্রাহকরাও ক্রেতা (consideration) বলে বিবেচিত হবেন। তবে এ ব্যাপারে দুটি সর্ত মানা হচ্ছে কিনা দেখতে হবে: (1) ক্রেতাকে নগদ বা প্রতিশ্রুত মূল্যের বিনিময়ে পণ্য বা পরিষেবা পেতে হবে।(বিশেষ দ্রষ্টব্য:সরকারী বা দাতব্য চিকিত্সালয়ে যেখানে বিনা-মূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে পরিষেবা পাওয়া যায়, সেই পরিষেবার গ্রাহকরা ক্রেতা বলে বিবেচিত হবেন না।) (2) ক্রীত পণ্য বা পরিষেবা কোনও বাণিজ্যিক বা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা চলবে না। পরিষেবা কি? পরিষেবা (service) কথাটির অর্থ হল সহায়তা বা সাহায্য এবং পালনীয় কর্তব্য। ক্রেতা সুরক্ষা আইনে মূল্য বা ভাড়ার বিনিময়ে যে সাহায্য বা সহায়তা পাওয়া যায়, তাকেই পরিষেবা বলে গণ্য করা হয়। এই পরিষেবা সরকারী বা বেসরকারী - দুই হতে পারে। তবে 'মূল্যটা' অপর্যাপ্ত হলে (যেমন, সরকারী বা দাতব্য চিকিত্সালয়ের নামমাত্র ফি), সেই পরিষেবার গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ক্রেতা-সুরক্ষা আইন প্রযোজ্য হবে না। ত্রুটিপূর্ণ পণ্য বা পরিষেবা বলতে কি বোঝায়? পণ্য যদি সঠিক গুণমানের (quality and standard) না হয়, যদি ওজনে কম থাকে কিংবা ভেজাল হয় - তবে সেই পণ্য ত্রুটিপূর্ণ। সঠিক গুণমান বলতে বোঝায় যে, সাধারণভাবে সেই পণ্যে লোকেরা যে গুণগত উত্কর্ষতা আশা করে। যেমন, রঙিন টিভিতে ছবির রঙ ভালোভাবে আসা, ফ্রিজ ঠিকমত ঠাণ্ডা হওয়া, বা ফ্যান চলতে গিয়ে ভীষণ আওয়াজ না করা, ইত্যাদি। প্রসঙ্গত, পণ্যের গুণমান নির্ধারণে সরকারী অনুমোদিত পরীক্ষাগারের মতামতই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। পরিষেবার ক্ষেত্রে ত্রুটিপূর্ণ বলতে বোঝাবে গুণগত, পরিমানগত বা মানগত অসম্পূর্ণতা বা অপ্রতুলতা। কেউ জরুরি টেলিগ্রাম পাঠালে সেটি যদি বহু দিন বাদে গিয়ে পৌঁছয়, তাহলে সেই পরিষেবা 'মানের' বিচারে অবশ্যই অপ্রতুল, এবং এই পরিষেবার গ্রাহক হিসেবে ক্ষতিপূরণ চাইবার অধিকার আপনার রয়েছে। ইলেকট্রিকের কোম্পানী যদি কোন কারণ ছাড়া বে-আইনী ভাবে আপনার লাইন কেটে দেয়, তাহলে পরিষেবার ঘাটতির জন্য আপনি ক্ষতিপূরণ দাবী করতে পারেন। কিন্তু যুক্তিসঙ্গত কারণে যদি পরিষেবা অপ্রতুল হয়, তাহলে তার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবী করা যায় না। যেমন, রেল-অবরোধের জন্য ট্রেনের দেরি হলে, বা বন্যার জন্য টেলিগ্রাম পৌঁছতে বিলম্ব ঘটলে - তার জন্য কোনও অভিযোগ গ্রাহ্য হবে না। অর্থাত্ পরিষেবায় অপ্রতুলতা থাকলেই চলবে না, সেখানে প্রমাণ করতে হবে যে, সেটি অবহেলার জন্য ঘটেছে কিনা। অবহেলা কি? সাধারণভাবে অবহেলা বলতে বোঝাচ্ছে যে কোনও বিষয়ে যথেষ্ঠ যত্ন বা সাবধানতা অবলম্বনে ব্যর্থতা। আবার 'অবহেলা' আর 'ইচ্ছাকৃত অবহেলা'-র মধ্যে পার্থক্য আছে। সাধারণ বোধ-বিবেচনা যুক্ত কোনও ব্যক্তি যদি উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্বেও সেটি না নেন এবং তার জন্য কেউ ভুক্তোভোগী হন, তাহলে ইচ্ছাকৃত অবহেলার দায়ে প্রথম জন অভিযুক্ত হবেন। কোথায় অভিযোগ করা যায়: ক্রেতা-সুরক্ষা আইনে ক্রেতাদের অভিযোগ নিষ্পত্তি করার জন্য ত্রি-স্তরীয় ব্যবস্থা রয়েছে। প্রাথমিক স্তরে রয়েছে জেলা ফোরাম (District Forum)। দ্বিতীয় বা মধ্য স্তরে রয়েছে স্টেট কমিশন (State Commission)। তৃতীয় স্তরে রয়েছে জাতীয় কমিশন (National Commission)। জেলা স্তরে যে ফোরাম আছে তার সদস্য সংখ্যা তিনজন। কোন প্রাক্তন জেলা স্তরের বিচারপতি বা বিচারপতি হবার যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি এর সভাপতি হন। তিন-ব্যক্তি সম্পন্ন রাজ্য কমিশনের সভাপতি হন কোনও অবসর-প্রাপ্ত হাই কোর্টের বিচারপতি। পাঁচ ব্যক্তি নিয়ে গঠিত জাতীয় কমিশনের সভাপতি হন সুপ্রিম কোর্টের কোনও কর্মরত বা অবসর-প্রাপ্ত বিচাপতি। এই তিনটি জায়গার মধ্যে কোথায় অভিযোগ দায়ের করা যায় জানতে হলে কতগুলি জিনিস পরিষ্কার ভাবে বুঝতে হবে - যেমন, এই ফোরাম বা কমিশন দুটির অধিকারক্ষেত্র (jurisdiction), ঘটনার স্থান ও সময়, বিবাদের স্বরূপ, এবং বিবাদের বিষয়টি অন্য কোন আদালতের বিচারাধীন কিনা। ফোরাম বা কমিশনের অধিকারক্ষেত্র বা এক্তিয়ার (jurisdiction): অধিকারক্ষেত্র বলতে বিচারালয়ের বিবাদ নিäপত্তি করার ক্ষমতা, অধিকার ও কর্তৃত্বের সীমা বোঝায়। অধিকারক্ষেত্র তিন ধরণের হয়: (1) সীমানাগত (territorial), (2) আর্থিক (pecuniary), এবং (3) বিষয়-অধিকার (subject matter)। সীমানাগত: জেলা ফোরাম বা রাজ্য কমিশন স্ব-স্ব জেলায় বা রাজ্যে সংঘটিত বিবাদের নিäপত্তি করার অধিকারী। কিন্তু কোন কোন ক্ষেত্রে নিজের ভৌগলিক সীমানার বাইরের বিবাদের নিäপত্তি তারা করতে পারে। যেমন, বিবাদের উত্পত্তি যেখানেই হোক না কেন, যাঁর বা যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে, তাঁদের এক বা একাধিক ব্যক্তি যেখানে বসবাস করেন বা কাজ করেন অথবা ব্যবসা করেন, সেই স্থান যে জেলা বা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত - সেই জেলা বা রাজ্য কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা যায়। আর্থিক: দাবীর পরিমানের ওপর নির্ভর করছে কোথায় অভিযোগ দায়ের করা যাবে। বিষয়-অধিকার: কেবল পণ্য বা পরিষেবার ত্রুটি সংক্রান্ত বিষয়েই এই ফোরাম বা কমিশনের বিচারের বিষয়বস্তু হবে। যে-সব বিষয়ে অভিযোগ গ্রাহ্য হবে না: (1) ক্রেতা বা গ্রাহীতা যদি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে কোন ঝুঁকি নেন এবং তার জন্য আঘাতপ্রাপ্ত হন বা তাঁর স্বার্থহানি ঘটে। (2) ক্রীত পণ্যের ব্যবহার-পদ্ধতি না মেনে তাকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করার পর সেই পণ্যে কোনও ত্রুটি দেখা দেয়। (3) অভিযোগকারীর অভিযোগ জানানোর অধিকার না থাকে। (4) অভিযোগ যদি কোনও জটিল আইন সংক্রান্ত হয়। (5) অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত-পক্ষের উল্লেখ না থাকে এবং অভিযুক্ত-পক্ষকে অভিযোগ সম্পর্কে অবহিত না করা হয়। অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি: - ক্রেতা নিজে বা তাঁর মনোনিত কোনও ব্যক্তি বা আইনজীবির মারফত্ অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। - অভিযোগ দায়ের করার আগে ক্রেতার দায়িত্ব হল যে, অভিযুক্ত-পক্ষকে অভিযোগ সম্পর্কে জানানো। অভিযুক্ত-পক্ষ যদি তা সত্বেও তার প্রতিকার করতে অসমর্থ হয়, তাহলেই অভিযোগ দায়ের করা চলবে। - অভিযোগ জানানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক অভিযোগপত্র তৈরী করে জমা দিতে হবে (জেলা ফোরাম বা রাজ্য কমিশনের জন্য তিনটি করে কপি; জাতীয় কমিশনের জন্যে পাঁচটি কপি) - কোনও স্ট্যাম্প ডিউটি বা কোর্ট ফি-র প্রয়োজন নেই। - অভিযোগপত্রে ঘটনাগুলি কালক্রমে সাজিয়ে লিখে তারপর অভিযোগ পেশ করতে হবে। অভিযোগ পত্রে মোট দাবীর পরিমান জানাতে হবে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলি কি অভিযোগ জানাতে পারেন? যে কোনও স্বীকৃত কনসিউমার এসোসিয়েশন এক বা একাধিক ক্রেতাদের হয়ে নির্দিষ্ট বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন. তবে এই এসোসিয়েশনকে 1956 সালের কোম্পনি এক্ট (Company Act) বা অন্য কোনও সংস্থা সম্পর্কীত আইনে রেজিস্ট্রিকৃত হতে হবে। সতর্কতা: অভিযোগ ভ্রান্ত প্রমাণিত হলে বা হয়রাণি করার উদ্দেশ্যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে প্রতিপন্ন হলে ফোরাম বা কমিশন অভিযোগকারীর জরিমানা করতে পারেন। এর জন্য অভিযুক্ত-পক্ষের যা খরচা হয়েছে (দশ হাজার টাকা পর্যন্ত) তা দেবার জন্য ফোরাম বা কমিশন অভিযোগকারীকে নির্দেশ দিতে পারেন। এ বিষয়ে আরও বিশদভাবে জানতে হলে নিম্নলিখিত ঠিকানায় যোগাযোগ করুন: ক্রেতা বিষয়ক দপ্তর, 11 মির্জা গালিব স্ট্রিট, কলকাতা 700087, ফোন 2252-2304 ও 2252-0053 তথ্য সংকলন : বিকাসপিডিয়া টীম হিন্দু দত্তক আইন (১৯৫৬) সম্পর্কিত কিছু তথ্য ১৯৫৬ সালের ২১ শে ডিসেম্বরে হিন্দু দত্তক আইনটি বলবত্ হয়। এই আইনের আগে শুধু ছেলেদেরই দত্তক নেওয়া যেত, মেয়েদের নয়। এই আইনের বলে এখন মেয়েদেরও দত্তক নেওয়া সম্ভব। হিন্দু দত্তক আইন জম্মু ও কাশ্মীর ছাড়া ভারতবর্ষের অন্য সব প্রদেশেই প্রযোজ্য। হিন্দু , জৈন , বৌদ্ধ ও শিখ - সব ধর্মাবলম্বীরাই এই আইনের আওতায় পড়ে। কিন্তু মুসলিম, কৃশ্চান, পার্সী ও ইহুদীদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না। দত্তক গ্রহণ বৈধ বলে বিবেচিত হবে নিচের সব শর্তাবলীগুলি মানা হলে: যে দত্তক নেবে, তার দত্তক নেবার আইনত ক্ষমতা বা যোগ্যতা আছে। যে দত্তক দেবে, তার সেরকম যোগ্যতা আছে। যাকে দত্তক নেওয়া হবে, তারও সেরকম যোগ্যতা আছে। দত্তক নেওয়া হচ্ছে আইনসঙ্গত ভাবে। দত্তক গ্রহণ করার যোগ্যতা: হিন্দু পুরুষের ক্ষেত্রে: যে কোনও সুস্থমস্তিষ্ক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ স্ত্রীর সন্মতি নিয়ে শিশুপুত্র বা শিশুকন্যাকে দত্তক নিতে পারে। স্ত্রীর সন্মতির প্রয়োজন হয় না, যদি তাঁর স্ত্রী কোর্টের বিচারে সুস্থমনা না হয় অথবা সংসার পরিত্যাগ করে থাকে কিংবা হিন্দুত্ব বর্জন করে থাকে। হিন্দু নারীর ক্ষেত্রে: একজন সুস্থমনা প্রাপ্তবয়স্কা হিন্দু নারী শিশুপুত্র বা শিশুকন্যাকে দত্তক নিতে পারে, যদি সে অবিবাহিতা হয় বা বিবাহ-বিচ্ছিন্না হয় অথবা বিধবা হয়। স্বামীর বর্তমানেও হিন্দু নারীর পক্ষে দত্তক নেওয়া সম্ভব, যদি তার স্বামী সংসার পরিত্যাগ করে থাকে, অথবা হিন্দুত্ব বর্জন করে থাকে, কিংবা কোর্টের চোখে অসুস্থমস্তিষ্ক বলে পরিগণিত হয়। যদি হিন্দুনারী বিবাহিতা হয়, তাহলে তাকে স্বামীর সন্মতি নিয়ে দত্তক নিতে হবে। দত্তক দেবার অধিকার: সন্তানকে দত্তক হিসেবে দেবার অধিকার শুধু পিতা বা মাতা বা অভিভাবকের আছে। পিতা সন্তানকে দত্তক হিসেবে দান করতে পারে মাতার সন্মতি নিয়ে। মাতা যদি সংসার ত্যাগ করে থাকে, অথবা হিন্দুত্ব বর্জন করে থাকে, কিংবা কোর্টের বিচারে অসুস্থমস্তিষ্ক বলে পরিগণিত হয়, তাহলে তার সন্মতির কোনও প্রয়োজন নেই। বিধবা নারী তার সন্তানকে দত্তক দিতে পারে। বিবাহিত নারীও তা পারে, যদি তার স্বামী সংসার ত্যাগ করে থাকে, অথবা হিন্দুত্ব বর্জন করে থাকে, কিংবা কোর্টের বিচারে অসুস্থমস্তিষ্ক বলে পরিগণিত হয়। ১৯৬২ সালের শিশু আইন (children act, 1962) অনুসারে, যদি শিশুর মাতা ও পিতা দুজনের কেউই বেঁচে না থাকে বা সংসার ত্যাগ করে থাকে বা শিশুকে পরিত্যাগ করে থাকে, অথবা কোর্টের বিচারে মানসিকভাবে অসুস্থ পরিগণিত হয়, বা শিশুর সঠিক পিতা মাতার পরিচয় অজ্ঞাত থাকে, তাহলে সেই শিশুর অভিভাবক সেই শিশুকে দত্তক হিসেবে দান করতে পারে - কোর্টের অনুমতি নিয়ে। কোর্ট এই অনুমতি দেবে শিশুর বয়স ও বিচারবুদ্ধি অনুয়ায়ী তার ইচ্ছার কথা বিবেচনা করে এবং তার মঙ্গলের কথা চিন্তা করে। এই অনুমতি পেতে হলে কোর্টকে সন্তুষ্ট করতে হবে যে, দত্তক-সংক্রান্ত ব্যাপারে বে-আইনী ভাবে পয়সার কোনও লেনদেন হচ্ছে না। দত্তক হিসেবে কাউকে নেওয়া যাবে না- যদি সে হিন্দু না হয়। যদি সে ইতিপূর্বেই আর করোর দত্তক হয়। যদি সে বিবাহিত হয় (ব্যতিক্রম: যদি এ ব্যাপারে অন্য কোনও সামাজিক নিয়ম না থাকে)। যদি তার বয়স পনেরোর কম না হয় (ব্যতিক্রম: যদি এ ব্যাপারে অন্য কোনও সামাজিক নিয়ম না থাকে) দত্তক সম্পর্কিত অন্যান্য আইন: শিশুপুত্রকে দত্তক নেবার ক্ষেত্রে যে পিতা বা মাতা দত্তক নিচ্ছে, তাদের কোনও হিন্দু পুত্র, পৌত্র, বা প্রপৌত্র জীবিত থাকলে দত্তক গ্রহণ বৈধ হবে না। শিশুকন্যাকে দত্তক নেবার ক্ষেত্রে যে পিতা বা মাতা দত্তক নিচ্ছে, তাদের কোনও হিন্দু কন্যা (পুত্রী), পৌত্রী, বা প্রপৌত্রী জীবিত থাকলে দত্তক গ্রহণ বৈধ হবে না। যে পুরুষ (বা নারী) শিশু-পুত্রকে দত্তক নিচ্ছে, তার বয়স দত্তকের থেকে অন্তত ২১ বছরের বেশি হতে হবে। একই শিশুকে একাধিক দম্পতী দত্তক নিতে পারবে না। দত্তক দেওয়া বা নেওয়ার উদ্দেশ্য হতে হবে জন্ম-পিতামাতার কাছ থেকে নিয়ে শিশুকে সরিয়ে নেওয়া। (ভারতবর্ষে মুসলিম, কৃশ্চান, পার্সী ও ইহুদীদের জন্য দত্তক নেবার কোনও আলাদা আইন নেই। এরা অনাথ-আশ্রম থেকে দত্তক নিতে পারে Guardians and Wards Act অনুসারে কোর্টের অনুমতি নিয়ে।) তথ্য সংকলন : বিকাস পিডিয়া টীম টেলি যোগাযোগ সংক্রান্ত গ্রাহকদের জ্ঞাতব্য বিষয় মুখবন্ধ টেলিযোগাযোগ পরিষেবার গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করা ভারতীয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ট্রোই)-এর অন্যতম প্রাথমিক দায়িত্ব। এই উদ্দেশ্যে ট্রাই, গ্রাহকদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন সময়ে নানা বিষয়ে আদেশ, নির্দেশ ও নিয়মাবলী জারি করে আসছে। ট্রাই প্রদত্ত এই সুবিধাগুলির সম্পূর্ণ উপকার নেওয়ার জন্য গ্রাহক ও উপভোক্তা সংস্থাগুলির এই বিষয়ে অবহিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। গ্রাহকদের কাছে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক তথ্য পৌছে দেওয়া একটি বহুমুখি প্রচেষ্টা। ট্রাই তাদের প্রচার কর্মসূচি ও বিভিন্ন প্রকাশনার মাধ্যমে এই তথ্যগুলি গ্রাহকের কাছে পোছে দেওয়ার চেষ্টা করে। টেলিযোগাযোগ সংক্রান্ত এই গ্রাহক সহায়ক পুস্তিকাটি ওই কর্মসূচির অংশ হিসাবে প্রকাশ করা হয়েছে। খুব সাধারণ ও সরল ভাষায় এই পুস্তিকাটি লেখা হয়েছে যাতে সহজেই বোঝা যায়। কোন টেলিযোগাযোগ পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার পরিষেবা ব্যবহার করতে গেলে যে সব তথ্য জানা প্রয়োজন সেগুলি এই পুস্তিকাটি তে দেওয়া আছে। ট্রাই আয়েজিত বিভিন্ন আঞ্চলিক গ্রাহক শিক্ষা কৰ্মশালায় নথিভুক্ত হওয়া উপভোক্ত সংগঠন ও গ্রাহকদের এই পুস্তিকাটি বিনা মুল্যে বিতরণ করা হবে। আমি নিশ্চিত যে নিজেদের অধিকার ও সুযোগ সুবিধার বিষয়ে টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রের গ্রাহকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়তে এই পুস্তিকাটি কার্যকরী হবে। সূত্রঃ ভারতীয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ টেলি যোগাযোগ পরিষেবায় গ্রাহক হিসেবে নথিভুক্তিকরন টেলিযোগাযোগ পরিষেবা প্রদান করে থাকে। এই ধরনের কোন পরিষেবা গ্রহণ করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি কে প্রথমে তার পছন্দের পরিষেবা প্রদানকারী বা তাদের বিক্রয় কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে এবং কাস্টমার অ্যাকুইজিশন ফর্ম পুরণ করে জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে ছবি এবং ঠিকানা ও পরিচয়ের প্রমান-পত্র জমা দিতে হবে। মোবাইল সংযোগের ক্ষেত্রে গ্রাহক পোস্ট পেইড বা প্রি-পেইড কানেকশন, এই দুয়ের মধ্যে যে কোন এক ধরনের সংযোগ বেছে নিতে পারেন। মোবাইল সংযোগ গ্রহণ একটি পরিষেবা অঞ্চলে, সাধারণত যা একটি রাজ্য কে নিয়ে গঠিত, বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা টেলিযোগাযোগ পরিষেবা প্রদান করে থাকে। ভারত সরকার (টেলিকম ডিপার্টমেন্ট) এই সংস্থাগুলি কে টেলিযোগাযোগ পরিষেবা প্রদান করার জন্য লাইসেন্স প্রদান করেছেন। এই সংস্থাগুলি লাইসেন্সের ভিত্তিতে বেসিক (ল্যান্ড লাইন) বা মোবাইল টেলিফোন বা ইন্টারনেট/ ব্রডব্যান্ড পরিষেবা কিংবা এইসব যাবতীয় পরিষেবা মিলিয়ে স্টার্ট আপ কিট গ্রাহক একটি স্টার্ট আপ কিট পাবেন, যার মধ্যে থাকবে: সিম কার্ড মোবাইল নম্বর (মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটির ক্ষেত্র ব্যতীত) সংযোগের ধরন; প্রি-পেইড বা পোস্ট পেইড গ্রাহক পরিষেবা নম্বর, সাধারন তথ্য নম্বর এবং অ্যাপিলেট কর্তৃপক্ষ সংক্রান্ত তথ্য টেলিযোগাযোগ গ্রাহক সনদের সংক্ষিপ্ত সংস্করন স্টার্ট আপ কিটে কোন স্পেশাল ট্যারিফ ভাউচার থাকে না। এতে ট্যারিফ প্ল্যান দেওয়া থাকতে পারে। স্টার্ট আপ কিটের সঙ্গে গ্রাহক কে কাস্টমার অ্যাকুইজিশন ফর্মের প্রতিলিপি প্রদান করা হবে। ভাউচার (প্রি-পেইড মোবাইল গ্রাহকদের জন্য) পরিষেবা ব্যবহার করার জন্য গ্রাহক কে তার প্রয়োজন মত ভাউচার আলাদা করে কিনতে হবে। পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা শুধুমাত্র এই চার রকমের ভাউচার সরবরাহ করতে পারেনঃ প্ল্যান ভাউচার (লাল রং) কোন ট্যারিফ প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। এই ভাউচারের থেকে কোন আর্থিক মুল্য যুক্ত হয়না। এই ভাউচার ব্যবহার করে গ্রাহক তার ত্যারিফ প্ল্যান পরিবর্তন করতে পারেন। টপ আপ ভাউচার (সবুজ রং) এই ভাউচারের মাধ্যমে শুধু মাত্র আর্থিক মুল্য পাওয়া যায় । এই ভাউচারের ব্যবহারের সময়সীমা ও বৈধতার ওপর কোন বাধনিষেধ নেই। এই ভাউচার শুধুমাত্র ১০ টাকার গুনিতকে পাওয়া যায়। অন্য কোন ভাউচার ১০ টাকার গুনিতকে পাওয়া যায়না। স্পেশাল ট্যারিফ ভাউচার (এসটিভি) (হলুদ রং) এর মাধ্যমে গ্রাহক শুধুমাত্র ট্যারিফের সুবিধা পাবেন এবং তিনি ট্যারিফ প্ল্যানের এক বা একাধিক কম্পোনেন্ট পরিবর্তন করতে পারবেন। উদাহরণ- ৪০ টাকার এসটিভি প্রয়োগ করলে এসটিডি ট্যারিফ ৩০ দিনের জন্য ৪০ পয়সা প্রতি মিনিট, ৩০ টাকার এসটিভি প্রয়োগ করলে ৭ দিনের জন্য ৫০০ এসএমএস ফ্রী ইত্যাদি। এসটিভি প্রি-পেইড অ্যাকাউন্টে আর্থিক মূল্যও তে, কোন ট্যারিফ প্ল্যানের জন্য এটি যোগ হয়। প্রযোজ্য, বিভিন্ন পরিষেবার ট্যারিফ ও এর বৈধতা, যা সর্বাধিক ৯০ দিন পর্যন্ত হতে পারে উল্লেখ করা থাকে। এসএমএস বা ডাটা-র জন্য ব্যবহৃত হওয়া ৭ দিনের বেশি বৈধতার এসটিভির ক্ষেত্রে, রিনিউ করার পূর্বে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা কে গ্রাহকের স্পষ্ট সম্মতি গ্রহণ করতে হবে । সংস্থা প্রি-পেইড গ্রাহক কে জানানের জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতিগুলি হল "YES" মাধ্যমে এই তথ্যগুলি জানাবে"yes" লিখে এসএমএস পাঠানো, ইমেল, ফ্যাক্স এবং ওয়েব ভিত্তিক প্রোগ্রাম। "yes" বোতাম ক্লিক করতে হবে। গ্রাহক চাইলে আই ভি আর বা নিঃশুল্ক শর্ট কোডে এসএমএস পাঠিয়ে বা ওয়েবলি ঙ্কের মাধ্যমে অনুরোধ পাঠিয়ে যে কোন পারেন। কম্বো ভাউচার (নীল রং) সর্বাধিক ৯০ দিনের জন্য ট্যারিফ প্ল্যানের এক বা তার বেশি আইটেম পরিবর্তন করার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। এই ভাউচার ব্যবহারে প্রি-পেইড অ্যাকাউন্টে আর্থিক মূল্যও যোগ হয় । ভাউচার অ্যাক্টিভেশনের পরে প্রি-পেইড গ্রাহকের প্রাপ্য তথ্য প্ল্যান ভাউচার অ্যাক্টিভেশনের পরে প্ল্যানের শিরোনাম ওয়েব ভিত্তিক প্রোগ্রামে সম্পমতির জন্য প্ল্যানের বৈধতার সময়সীমা টপ আপ ভাউচার অ্যাক্টিভেশনের পরে মোট প্রদেয় অর্থের পরিমাণ প্রসেসিং ফী বা প্রশাশনিক খরচ, যেটা প্রযোজ্য হবে টাক্সের পরিমাণ সংযোজিত নিট অর্থ মূল্য ব্যবহার যোগ্য মোট অর্থ মূল্য স্পেশাল ট্যারিফ ভাউচার অ্যাক্টিভেট হলে মোট প্রদেয় অর্থর পরিমাণ ভাউচারটির বৈধতার সময়সীমা ভাউচারের সুবিধাসমূহ কম্বো ভাউচার অ্যাক্টিভেট হলে মোট প্রদেয় অর্থর পরিমাণ ভাউচারের সুবিধাসমূহ নির্দিষ্ট সুবিধাগুলির বৈধতার সময়সীমা সংযোজিত নিট অর্থমূল্য আর্থিক ব্যবহার বা সময়সীমা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ পরিসেবা ব্যবহার সংক্রান্ত প্রি-পেইড গ্রাহকদের প্রাপ্য তথ্য প্রি-পেইড গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট থেকে কোন রকমের ডিডাকশন করার সঙ্গে সঙ্গে,এস এম এস বা ইউএসএসডি - র মাধ্যমে, পরিষেবা প্রদানকারী এই তথ্যগুলো জানাবেন প্রতি কলের পর কলের মেয়াদ কলের জন্য ডিডাক্ট করা চার্জ অ্যাকাউন্টে অবশিষ্ট অর্থমূল্য স্পেশাল ট্যারিফ ভাউচারের ক্ষেত্রে, ব্যবহৃত মিনিট এবং অবশিষ্ট্র মিনিট মোবাইল - এ ডাটা আদান প্রদানের প্রতি সেশনের পর ডাটা আদান প্রদানের পরিমান ডিডাক্ট করা চার্জ অ্যাকাউন্টে অবশিষ্ট রাশির পরিমাণ মূল্য যুক্ত পরিষেবা সহ যে কোন পরিষেবা অ্যাক্টিভেশনের পর (ভি এএস) ডিডাক্ট করা অর্থের পরিমাণ যে উদ্দেশ্যে এই পরিমাণ কাটা হয়েছে অ্যাকাউন্টে অবশিষ্ট অর্থের মূল্যযুক্ত পরিষেবার বৈধতার মেয়াদ দ্রষ্টব্যঃ নিজের পরিষেবা এলাকার বাইরে রোমিং-এ থাকাকালীন এই নিয়মগুলি গ্রাহকের জন্য প্রযোজ্য হবে না । প্রি-পেইড গ্রাহক কে প্রতি মাসে বিল পাঠানো হয়না। তবে তিনি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা থেকে ন্যায্য মূল্যের বিনিময়ে সর্বাধিক ৫০ টাকা, নিম্নলিখিত তথ্যগুলো পেতে পারেন – (ক) সব কলের দফাওয়ার প্রদেয় মূল্য (খ) প্রেরিত এসএমএস-এর সংখ্যা ও ওই জন্য প্রদেয় মূল্য (গ) ব্যবহৃত মূল্যযুক্ত পরিষেবা ও তার জন্য প্রদেয় মুল্য (ঘ) ব্যবহৃত প্রিমিয়াম রেট পরিষেবা ও তার পরিমাণ জন্য প্রদেয় মূল্য (ঙ) রোমিং-এর জন্য প্রদেয় মূল্য এ সম্পর্কিত অনুরোধ প্রাপ্তির তিরিশ দিনের মধ্যে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা কে প্রার্থিত তথ্য জানাতে হবে। তবে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার পক্ষে অনুরোধ পাওয়ার ছয় মাস পূর্বের কোন তথ্য জানানো বাধ্যতামূলক নয়। গ্রাহকের অ্যাকাউন্টস সংক্রান্ত তথ্য গ্রাহক নির্দিষ্ট নিঃশুল্ক নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে এই তথ্য গুলি পেতে পারেনঃ- তাঁর নির্বাচিত ট্যারিফ প্লেন এবং প্লান অনুযায়ী স্থানীয় ও দুরবর্তী কলের এসএমএসের (এসটিডি) রেট, নিজস্ব বা অন্য নেটওয়াকে কলের রেট সহ এসএমএস - এর রেট ডাটা পরিষেবার রেট প্রি-পেইড গ্রাহকের অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স টাকার পরিমাণ, এবং তাঁর টেলিফোন নম্বরে সক্রিয় মুল্যযুক্ত পরিষেবা(১৫৫২২৩) দ্রষ্টব্যঃ দেশের বাইরে রেমিং-এ থাকা গ্রাহক কে এই সব তথ্য জানানো পরিষেবা প্রদানকারীর পক্ষে বাধ্যতামূলক নয়। ব্যবহার না হওয়ার কারণে সেলুলার মোবাইল সংযোগের ডিঅ্যাক্টিভেশন কম পক্ষে ৯০ দিন অব্যবহৃত না থাকলে কোন প্রি-পেইড সংযোগ বন্ধ করা যাবেনা। ব্যবহার না হওয়া মানে কোন ফোনে ইনকামিং বা আউটগোইং কল না হওয়া তথা ফোন থেকে কোন আউটগোইং এসএমএস না পাঠানো অথবা ডেটা পরিষেবা বা মূল্যযুক্ত পরিষেবা ব্যবহার না করা, কিংবা রেন্টাল চার্জ না দেওয়া। প্রথম ৯০ দিনের সময়সীমার পরে, গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে, যথেষ্ট ব্যালেন্স থাকলে, সর্বাধিক ২০ টাকা কেটে নেওয়া হবে এবং অব্যবহারের জন্য বন্ধ না হওয়ার সময়সীমা আরো ৩০ দিন বাড়িয়ে দেওয়া হবে। পোস্ট পেইড মোবাইল টেলিফোন সংযোগের ক্ষেত্রে সেফ কাস্টডি প্রকল্প পোস্ট পেইড মোবাইল গ্রাহক প্রতি তিন মাসের জন্য অনধিক ১৫০ টাকার বিনিময়ে তাদের নম্বর কে সেফ কাস্টডি তে রাখতে দিতে পারেন। পুনঃসংযোগের জন্য গ্রেস পরিয়েড ৪ কোন গ্রাহকের কানেকশন ডিঅ্যাক্টিভেট হয়ে গেলে, তাকে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় দেওয়া হবে এবং গ্রাহক এই সময়সীমার মধ্যে অনুর্ধ ২০ টাকার বিনিময়ে নম্বরটি পুনরায় অ্যাক্টিভেট করতে পারবেন। সূত্রঃ ভারতীয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ অভিযোগ প্রতিবিধান গ্রাহকের অভিযোগ প্রতিবিধান করার পদ্ধতি কি হবে, গ্রাহকের অনুরোধ কি ভাবে কার্যকারী করতে হবে এবং পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা কি কি তথ্য গ্রাহক কে প্রদান করবেন, এই বিষয়গুলো টেলিকম কনজিউমার কমপ্লেইন্ট রিড়েসাল রেগুলেশনসে বিস্তারিত ভাবে দেওয়া আছে। অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার অভিযোগ প্রতিবিধান ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপটি হল অভিযোগ কেন্দ্র। অভিযোগ কেন্দ্রে-র একটি নিঃশুল্ক গ্রাহক পরিষেবা নম্বর থাকে যার মাধ্যমে অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়। এছাড়াও সশরীরে এবং ইমেলের মাধ্যমে বা ডাকযোগে অভিযোগ কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। পরিষেবা সংক্রান্ত কোন অভিযোগ থাকলে গ্রাহক নিঃশুল্ক গ্রাহক সেবা নম্বরে ফোন করে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার অভিযোগ কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। এই অভিযোগ কেন্দ্রটি সপ্তাহের সব দিনই সকাল ৮ থেকে রাত ১২ পর্যন্ত খোলা থাকবে। কোন কারনে তার টেলিফোন/মোবাইল খারাপ থাকলে তিনি অন্য কোন পরিষেবা প্রদানকারীর নম্বর থেকেও অভিযোগ কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। এই জন্য একটি আলাদা নম্বরের ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক। অভিযোগ কেন্দ্রর সঙ্গে গ্রাহক হিন্দি, ইংরাজী বা স্থানীয় ভাষায় কথা বলতে পারেন। অভিযোগ কেন্দ্র অভিযোগ কেন্দ্রটি সপ্তাহের সব দিনই সকাল ৮ থেকে রাত ১২ পর্যন্ত খোলা থাকবে অভিযোগ কেন্দ্রে অভিযোগ গ্রহণ নথিভুক্ত প্রতিটি অভিযোগ কে ইউনিক ডকেট নম্বর প্রদান করা হয়। নথিভুক্ত হওয়ার পরে অভিযোগ কেন্দ্র থেকে এসএমএস-এর মাধ্যমে এই ইউনিক ডকেট নম্বর, নথিভুক্ত করার তারিখ ও সময় এবং অভিযোগ প্রতিবিধানের সময়সীমা বিষয়ে তথ্য সহ অভিযোগকর্তা কে জানিয়ে দেওয়া হবে। অভিযোগ কেন্দ্রে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের পর এসএমএস এর মাধ্যমে বা ইমেল করে অথবা ডাকযোগে গ্রাহক কে গৃহীত ব্যবস্থা এবং অ্যাপিলেট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার পদ্ধতি জানিয়ে দেওয়া হবে। প্রতিটি ডকেট নম্বরে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের বিশদ তথ্য অন্তত তিন মাস সিস্টেমে রাখতে হবে। ট্রাই-এর পক্ষ থেকে গ্রাহক কে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, তিনি যেন ডকেট নম্বর ও অভিযোগের নম্বরে ফোন করে গ্রাহক নিজের প্রয়োজনীয় ভিত্তিতে গৃহীত ব্যবস্থা সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত রাখেন যাতে নিষ্পত্তির বিষয়ে সন্তুষ্ট না হলে আবেদন করার সময় এই তথ্যগুলো ব্যবহার করতে পারেন। অভিযোগ নিম্পত্তি ও পরিষেবার অনুরোধ সংক্রান্ত সময়সীমা অভিযোগের নিম্পত্তি ও প্রতিবিধানের জন্য অনুরোধ সংক্রান্ত সময়সীমা, প্রতিবিধানের গুনমান সংক্রান্ত বিধিসমূহের সংযোজনী ১ ও ২ এ উল্লেখ করা আছে। ওই বিধিতে সময়সীমা নির্ধারিত নেই এমন ক্ষেত্রগুলিতে অভিযোগ বা পরিষেবার অনুরোধ তিন দিনের মধ্যে নিম্পত্তি করতে হবে। পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার সাধারন তথ্যের নম্বরে ফোন করে গ্রাহক নিজেদের প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারেন। কোন কারনে তিনি যদি তথ্য জানার জন্য গ্রাহক পরিষেবা নম্বরে ফোন করেন তাহলে সেই কলটি সাধারণ তথ্য নম্বরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। গ্রাহক পরিষেবা এজেন্টের সঙ্গে কথা বলার জন্য পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা গ্রাহকের কাছে চার্জ ধার্য্য করতে পারেন। আইভি আরএস মেনুতে, গ্রাহক পরিষেবা এজেন্টের সঙ্গে কথা বলার বিকল্পের বোতাম টিপলেই ধাৰ্য্য হবে। গ্রাহক পরিষেবা নম্বরে আই.ভি.আর.এস-এর ব্যবহার গ্রাহক পরিষেবা নম্বরে ইন্টারঅ্যাক্টিভ ভয়েস রেস্পন্স সিস্টেম (আইভিআরএস)-এর কার্য পদ্ধতিঃ ১) আইভিআরএস-এর প্রথম পর্যায়ে ভাষা নির্ধারনের ব্যবস্থা ২) আইভিআরএস-এর দ্বিতীয় পর্যায়ে অভিযোগ ও পরিষেবা সংক্রান্ত অনুরোধের বিস্তাৱিত ক্যাটাগরি নির্বাচনের ব্যবস্থা ৩) আইডিআরএস-এর তৃতীয় পর্যায়ে গ্রাহক পরিষেবা এজেন্টের সঙ্গে কথা বলার বিকল্প সহ অভিযোগ ও পরিষেবা সংক্রান্ত অনুরোধের সাব-মেনুর ব্যবস্থা অ্যাপিলেট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন কোন গ্রাহক তার অভিযোগ নিম্পত্তির বিষয়ে যদি সন্তুষ্ট না হন বা তার অভিযোগ নিষ্পত্তি না হয়ে থাকে বা নির্দিষ্ট সময়ের ভিতরে তার অভিযোগ নিম্পত্তির বিষয়ে তাকে অবহিত না করা হয়, তাহলে তিনি তার অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্য অ্যাপিলেট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদন করতে পারেন। স্টার্ট-আপ কিটে পরিষেবা প্রদানকারীর ওয়েব সাইটে ও তাদের বিক্রয় কেন্দ্রগুলিতে অ্যাপিলেট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাবে। আবেদন করার জন্য কোন চার্জ বা ফী প্রদান করতে হয় না। প্রস্তাবিত সময় সীমার মধ্যে গ্রাহকের অভিযোগ নিম্পত্তি না হলে তিনি, মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ইমেল বা ফ্যাক্স বা ডাক যোগে বা ব্যক্তিগত ভাবে এসে বা গ্রাহক পরিষেবা নম্বরে ফোন করে অ্যাপিল করতে পারেন। আবেদন করার জন্য ব্যক্তিগত ভাবে আসার প্রয়োজন নেই, তবে তিনি চাইলে অ্যাপিলেট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যক্তিগত ভাবে এসে তার আবেদন জানাতে পারেন। পরামর্শদাতা কমিটি প্রতিটি পরিষেবা অঞ্চলে অ্যাপিলেট কর্তৃপক্ষ কে পরামর্শ দেওয়ার জন্য একটি পরামর্শদাতা কমিটি থাকবে। এই কমিটি তে দু জন প্রতিনিধি থাকবেন-এক জন পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধি ও অন্য জন ট্রাই-এ নথিভুক্ত কনজিউমার অ্যাডভোকেসী গ্রুপের (সিএজি) প্রতিনিধি। পরামর্শদাতা কমিটি প্রতিটি অ্যাপিলের ওপর অ্যাপিলেট কর্তৃপক্ষ কে তাদের পরামর্শ জানাবেন। → আবেদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটি ইউনিক অ্যাপিল নম্বর দিয়ে সেটি নথিভুক্ত করা → আবেদন পাওযার তিন দিনের মধ্যে গ্রাহক কে এসএমএস বা ইমেলের মাধ্যমে ইউনিক অ্যাপিল নম্বর পাঠিয়ে আবেদনের প্রাপ্তি স্বীকার। → আবেদন প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে আবেদনের একটি কপি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা কে সাত দিনের মধ্যে সম্পর্কিত তথ্য, ডকুমেন্ট বা রেকর্ড সহ জবাব দাখিল করার জন্য পাঠানো এবং → পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার জবাব পাওয়ার দুদিনের মধ্যে আবেদনটি জবাব সহ পরামর্শদাতা কমিটির বিবেচনার জন্য পেশ করা। পনেরো দিনের মধ্যে পরামর্শদাতা কমিটি কে প্রতিটি বিষয়ে পরামর্শ দিতে হবে। পরামর্শদাতা কমিটির পরামর্শ পাওয়ার পর দু দিনের মধ্যে সচিবালয় সেগুলো অ্যাপিলেট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা করবেন। অ্যাপিলেট কর্তৃপক্ষ দ্বারা আবেদনের নিষ্পত্তি অ্যাপিলেট কর্তৃপক্ষ কোন আবেদনের নিষ্পত্তি করার জন্য প্রথমে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ক্রবেন ও ১০ দিনের মধ্যে লিখিত আদেশনামা জারির মাধ্যমে কারণ সহ তার সিদ্ধান্ত জানাবেন। পরামর্শদাতা কমিটির প্রদান করা পরামর্শ কে অ্যাপিলেট কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন। কোন কারনে পরামর্শদাতা কমিটির পরামর্শ যদি অ্যাপিলেট কর্তৃপক্ষ গ্রহণ না করেন, তাহলে সংস্থার আদেশনামাতে তার যৌক্তিকতা উল্লেখ করতে হবে। অ্যাপিলেট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত এসএমএস বা ইমেল বা ডাকযোগের মাধ্যমে গ্রাহক ও পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা কে জানিয়ে দেওয়া হবে। ওয়েব ভিত্তিক অভিযোগ প্রতিটি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা কে একটি ওয়েব ভিত্তিক অভিযোগ নজরদারির ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহক তাদের করা অভিযোগ কোন অবস্থায় আছে তা জানতে পারবেন । এই অভিযোগ নজরদারি ব্যবস্থার পদ্ধতি ছয় মাস অন্তর সংবাদপত্রে প্রকাশ করতে হবে। টেলিযোগাযোগ গ্রাহক সনদপত্র প্রতিটি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাকে হিন্দি, ইংরাজি এবং পরিষেবা অঞ্চলের স্থানীয় ভাষায় টেলিকম কনজিউমার চারটার বা টেলি যোগাযোগ গ্রাহক সনদপত্র প্রকাশ করতে হবে। এই সনদপত্রে নিম্নবর্তী তথ্যগুলো থাকবে: পরিষেবার শর্তাবলীঅভিযোগ প্রতিবিধান ব্যবস্থা সংক্রান্ত তথ্যঅভিযোগ প্রতিবিধান পদ্ধতিট্রাই নির্দিষ্ট বিভিন্ন আভিযোগ নিম্পত্তির সময় সীমাগ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রের নিঃশুল্ক নম্বরসাধারণ তথ্যের নম্বর - নিঃশুল্ক বা চার্জ যুক্তপরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার বিভিন্ন পরিষেবা, যেমন মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি, বিশেয বিশেষ পরিষেবা বন্ধ করা ইত্যাদি সংক্রান্ত পদ্ধতিট্রাই এর বিভিন্ন নিয়ম, নির্দেশিকা ইত্যদির অধীনে গ্রাহকদের অধিকারট্রাই এর বিভিন্ন নিয়ম, আদেশ, নির্দেশিকা ইত্যদির অধীনে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার কর্তব্য ও দায়বদ্ধতা কানেকশন নেওয়ার সময় মোবাইল গ্রাহক যে স্টার্ট আপ কিট পাবেন, তাতে টেলিকম কনজিউমার চার্টার-এর সংক্ষিপ্ত সংস্করণ দেওয়া থাকবে। সংবাদ পত্র ও ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ পরিষেবা প্রদানকারী কে প্রথম সারির সংবাদ পত্রে এই তথ্যগুলো প্রকাশিত করতে হবে ব্যবস্থা পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা কে নিম্নলিখিত তথ্যগুলি প্রতি ছয় মাসে একবার প্রথম সারির হিন্দি বা ইংরাজি সংবাদ পত্রে এবং স্থানীয় ভাষার একটি সংবাদপত্রে প্রকাশ করতে হবে এবং তাদের ওয়েব সাইটেও দিতে হবে: গ্রাহক পরিষেবা নম্বর সাধারন তথ্যের নম্বর অ্যাপিলেট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের ওয়েব ভিত্তিক অভিযোগ নজরদারির ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিযোগ মনিটর করার পদ্ধতি সূত্রঃ ভারতীয় টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ পরিষেবার গুনমান এবং বিলিংয়ের যথার্থতা ট্রাই অ্যাক্ট এ টেলিযোগাযোগ গ্রাহকদের স্বাৰ্থ সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশ্যে নিয়ন্ত্রণ কতৃপক্ষকে বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ পরিষেবার গুনমান নির্দিষ্ট করে দেওয়া এবং পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার বিভিন্ন পরিষেবার গুনমান সময়ে সময়ে সমীক্ষা করে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পরিষেবার গুনমান (কিউ ও এস) ট্রাই বিভিন্ন সময়ে পরিষেবার মান সংক্রান্ত বিধিসমূহের মাধ্যামে বিভিন্ন পরিষেবার গুনমান স্ট্যান্ডার্ড নির্ধারিত করে দিয়েছেন । অয়ারলাইন (বেসিক), সেলুলার মোবাইল টেলিফোন পরিষেবা (২জি ও ৩জি), ব্রড ব্যান্ড ও সম্প্রতি অয়্যারলাইন ডাটা পরিষেবার জন্য ট্রাই আলাদা আলাদা বিধি সমূহ জারি করা হয়েছে। পরিশিষ্ঠ ১ ও ২ তে পরিষেবার গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপক এবং তাদের মাপদন্ডগুলি দেওয়া হল। পরিষেবার গুনমানের ওপর পরিষেবার গুনমান ট্রাই-এর নজরদারি পরিষেবার গুনমান সুনিশ্চিত করতে ও পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির কার্যকলাপের ওপর নজরদারি করার জন্য, মূলতঃ তিনটি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় i. পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা থেকে ত্রৈমাসিক কার্যকলাপ নজরদারি রিপোর্ট ii. তৃতীয় পক্ষীয় সংস্থার দ্বারা পরিষেবা গুনমান নিরীক্ষা এবং iii. তৃতীয় পক্ষীয় সংস্থার মাধ্যমে গ্রাহক সন্তুষ্টির সমীক্ষা । এছাড়াও প্রতি মাসে, পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি থেকে পয়েন্ট অফ ইন্টারকানেকশন (পিওআই) কনজেশন রিপোর্ট নেওয়া হয়। মোবাইল টেলিফোন পরিষেবার কিউওএস-এর জন্য নেটওয়ার্ক-এর অডিট সব পরিষেবা অঞ্চলে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে হয়। এই অডিট ব্রডব্যান্ড ও বেসিক পরিষেবার জন্য বছরে এক বার হয়। প্রতি ছয় মাসে গ্রাহক সন্তুষ্টির সমীক্ষা করা হয়। সমীক্ষা ও অডিট নিরপেক্ষ সংস্থা দিয়ে করানো হয় এবং এর রিপোর্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার পরিষেবার গুনমান নির্ধারিত মানের চেয়ে কম হলে বিধিসমূহে সংশ্লিষ্ট পরিষেবা প্রদানকারীর আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থা আছে। বিলিং-এর যথার্থতা ত্রুটিপূর্ণ বিলিং ও অন্যান্য অন্যায্য চার্জ থেকে গ্রাহককে রক্ষা করার জন্য, নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ মিটারিং ও বিলিং-এ যথার্থতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে একটি অভিন্ন আচরন বিধি তৈরি করে দিয়েছেন। পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে তাদের মিটারিং ও বিলিং ব্যবস্থা প্রতি বছর, ট্রাই তালিকাভুক্ত কোন অডিটরের মাধ্যমে অডিট করাতে হবে। এবং প্রতি আর্থিক বর্ষের জন্য, ৩১ জুলাই এর মধ্যে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে অডিট সার্টিফিকেট জমা করতে হবে। রিপোর্টে অডিটর কোন অসম্পূর্ণতা উল্লেখ করলে, সেই বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপ প্রতি বছর ১৫ নভেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে। অডিটের সময়, নিচের ট্যারিফ প্ল্যানগুলির এক মাসের কল ডাটা অডিট করতে হবে। (a) ত্রৈমাসের শুরুতে সর্বাধিক গ্রাহক সংখ্যা বিশিষ্ট্র তিনটি প্রিপেইড প্ল্যান ও দুটি পোস্ট পেইড প্ল্যান । (b) ওই ত্রৈমাসিকে চালু হওয়া দুটি নতুন প্রিপেইড ও পোস্ট পেইড প্ল্যান। (c) ত্রৈমাসের শুরুতে সর্বাধিক গ্রাহক সংখ্যা বিশিষ্ট্র দুটি স্পেশাল ট্যারিফ ভাউচার। (d) ত্রৈমাস শুরু হওয়ার সময় সর্বাধিক গ্রাহক সংখ্যার দুটি প্রি-পেইড ডাটা প্ল্যান। অডিটের জন্য বিস্তারিত চেকলিস্ট এবং মিটারিং অডিটে পদ্ধতিগত কোন অসঙ্গতি ধরা পড়লে, ও বিলিং-এর নির্দেশাবলি ট্রাই-এর পক্ষ থেকে সেটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঠিক করে নিতে হবে। জারি করা হয়েছে। এই অডিট-এ অতিরিক্ত বিলিং, প্রকাশিত ট্যারিফের তুলনায় গ্রাহক কে ধার্য করা, রোমিং চার্জ, মূল্য যুক্ত পরিষেবার চার্জ, বিল ডেলিভারির প্রক্রিয়া, বিলিং-এর অভিযোগেরনিম্পত্তি, অভিযোগ নিম্পত্তির পদ্ধতি, রিচার্জের অ্যাক্টিভেশনের জন্য সময় ইত্যাদি পরীক্ষা করা হয়। অডিটের পদ্ধতিগত কোন অসঙ্গতি ধরা পড়লে, সেটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঠিক করে নিতে হবে। মিটারিং এবং বিলিং সিস্টেম-এর অডিট থেকে অনেক পদ্ধতিগত ক্রটি সামনে এসেছে যা পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থারগুলির বিলিং পদ্ধতির উন্নতিতে সাহায্য হয়েছে। পরিনামে, বিলিং সংক্রান্ত অভিযোগ অনেক কমে এসেছে। মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি এমন এক সুবিধা যার সাহায্যে একটি লাইসেন্স প্রাপ্ত পরিষেবা অঞ্চলের কোন গ্রাহক, মোবাইল প্রযুক্তি নির্বিশেষে, তার মোবাইল নম্বর অপরিবর্তিত রেখে, এক পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা থেকে অন্য পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার নেটওয়াকে তার সংযোগটি স্থানান্তরিত করতে পারেন, বা একই পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার এক ধরনের সেলুলার মোবাইল প্রযুক্তি থেকে অন্য মোবাইল প্রযুক্তি তে নিজের সংযোগ নিয়ে যেতে পারেন। পোর্টেবিলিটি প্রক্রিয়ায় যুক্ত পক্ষগুলি হলো, (১) স্থানান্তরণে ইচ্ছুক গ্রাহক, (২) দাতা অপারেটর বা যে পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা থেকে গ্রাহক যেতে চাইছেন এবং (৩) গ্রহীতা অপারেটর নতুন পরিষেবা প্রদানকারী) যার কাছে গ্রাহক যেতে চাইছেন। গোটিং পদ্ধতি গ্রাহক নিজের নম্বর পোর্ট করতে আগ্রহী হলে যা করতে হবেঃ প্রথমে গ্রহীতা অপারেটার, যার পরিষেবায় নিজের নম্বর পোর্ট করতে চান তার সঙ্গে যোগাযোগ করুন গ্রহীতা আপারেটারের থেকে কাস্টমার অ্যাকুইজিশন (সিএএফ) ও পোর্টিং ফর্ম সংগ্রহ করুন মনোযোগ দিয়ে যোগ্যতার মাপকাঠি, বাতিল করার শর্ত ও অন্যান্য শর্তগুলো পড়ুন দাতা অপারেটারের কাছ থেকে ইউনিক পোর্টিং কোড নিন। যে মোবাইল নম্বর পোর্ট করা হবে সেই নম্বর থেকে এসএমএস করে দাতা অপারেটার থেকে ইউনিক পোর্টিং কোড(ইউপিসি)সংগ্রহ করতে হবে। ইউপিসি পাওয়ার জন্য ১৯০০ নম্বরে এসএমএস করুন। লিখুন পোর্ট স্পেস দিয়ে পোর্ট করতে চাওয়া ১০ সংখ্যার মোবাইল নম্বর জন্মু কাশ্মীর, উত্তর পূর্বাঞ্চল ও অসম ছাড়া অন্য সব পরিষেবা অঞ্চলের জন্য এই ইউপিসি ১৫ দিনের জন্য বৈধ থাকবে। জম্মু কাশ্মীর, উত্তর পূর্বাঞ্চল ও অসম-এর ক্ষেত্রে ইউপিসি ৩০ দিনের জন্য বৈধ থাকবে। দ্রষ্টব্য- জম্মু কাশ্মীরে যেহেতু প্রি-পেইড সংযোগের ক্ষেত্রে এসএমএস-এর সুবিধা উপলব্ধ নেই, তাই গ্রাহক কে ইউপিসি-র জন্য ১৯০০ নম্বর ডায়াল করতে হবে। ১৯০০ নম্বরের অপারেটর, গ্রাহকের নম্বর যাচাই করে ইউপিসি প্রদান করবেন। পোর্টিং-এর জন্য যোগ্য হলে, ইউপিসি উল্লেখ করে সিএএফ ও পোর্টিং ফর্ম পুরণ করুন সম্পূর্ণ করা সিএএফ ও পোর্টিং ফর্ম গ্রহীতা অপারেটারের কাছে জমা দিন, সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রমান পত্র জমা দেবেন। পোস্ট পেইড গ্রাহক কে পোর্টিং ফর্ম এবং সিএএফ এর সাথে সর্বশেষ বিলের পরিশোধ করা কপি জমা দিতে হবে। গ্রহীতা অপারেটর থেকে নতুন সিম কার্ড সংগ্রহ করুন করপোরেট গ্রাহক করপোরেট মোবাইল নম্বর পোর্টিং-এর ক্ষেত্রে, অর্থাৎ সেই সব মোবাইল নম্বর যা কোন করপোরেট সংস্থা. কোম্পানি, বা কোন প্রতিষ্ঠানের নামে দেওয়া হয়েছে, পোর্টিং এর অনুরোধের সঙ্গে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে করপোরেট গ্রাহকের অনুমোদিত সাক্ষরকর্তার অনুমতি পত্র জমা দিতে হবে। করপোরেট মোবাইল নম্বর পোর্টিং আবেদনের ক্ষেত্রে, এক সাথে ৫০টির বেশি মোবাইল নম্বর পোর্ট করা যাবেন এবং প্রতিটি মোবাইলের জন্য পোর্টিং চার্জ দিতে হবে। একের অধিক করপোরেট মোবাইল নম্বরের পোর্টিং-এর ক্ষেত্রে, কানেকশনগুলো একই দাতা অপারেটারের হতে হবে। গোটিং-এর যোগ্যতা মোবাইল নম্বর অ্যাক্টিভেশনের ৯০ দিন পরে, গ্রাহক তার মোবাইল নম্বর পোর্ট করার জন্য যোগ্য হবেন। কোন মোবাইল নম্বর এক বার পোর্ট করা হলে, পোর্টিং-এর দিন থেকে ৯০ দিন পর পুনরায় সেই নম্বর পোর্ট করা যেতে পারে। পোস্ট পেইড গ্রাহকের পোর্টিং আবেদনের সময়, তাকে এই মর্মে একটি প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তিনি তার মোবাইল সংযোগের সর্বশেষ বিল দাতা অপারেটার কে মিটিয়ে দিয়েছেন ও পোর্টিং হওয়া পর্যন্ত সব রকমের বকেয়া দাতা অপারেটার কে মিটিয়ে দিতে বাধ্য থাকবেন। তিনি এও সন্মত আছেন যে, কোন অবস্থায় দাতা অপারেটারের বকেয়া পরিশোধ না হলে, গ্রহীতা অপারেটর তার মোবাইল সংযোগ বিছিন্ন করে দিতে পারেন। প্রি-পেইড গ্রাহকের ক্ষেত্রে, তাকে এই মর্মে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে, পোর্টিং-এর সময় তার অ্যাকাউন্টে অবশিষ্ঠ টকটাইম বাতিল হয়ে যাবে, এই তথ্যটি তিনি জানেন। পোটিং-এর অনুরোধ বাতিল করার কারণ পোর্টিং-এর অনুরোধ বাতিল হতে পারে যদি (ক) ১০ টাকা বা তার বেশি বকেয়া থাকে (খ) নতুন কানেকশন অ্যাক্টিভেশনের ৯০ দিন পূর্ণ হওয়ার পূর্বে পোর্টিং-এর জন্য অনুরোধ করা হয় । (গ) মোবাইল নম্বরের মালিকানা বদলের প্রক্রিয়া চলতে থাকে (ঘ) যে মোবাইল নম্বর পোর্ট করার অনুরোধ করা হয়েছে সেটাতে আইনি বাধানিষেধ থাকে (ঙ) আন্তঃ পরিষেবা অঞ্চলে পোর্টের জন্য অনুরোধ করা হয় (চ) যে মোবাইল নম্বর পোর্ট করা হবে, তার অনুরোধে উল্লেখ করা ইউনিক পোর্টিং কোড ও দাতা অপারেটর দ্বারা প্রদান করা কোড এক না হয় বা ইউপিসি-র বৈধতার মেয়াদ পেরিয়ে যায় (চ) দাতা অপারেটারের কাছে পৌছানর পূর্বে ইউনিক পোর্টিং কোডের বৈধতা শেষ হয়ে যায় পোটিং-এর অনুরোধ প্রত্যাহার গ্রহীতা অপারেটর কে ২৪ ঘন্টার মধ্যে লিখিত ভাবে জানিয়ে কোন গ্রাহক তার পোর্টিং-এর অনুরোধ প্রত্যাহার করে নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রদও পোটিং-এর চার্জ পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা ফেরত দিতে বাধ্য নয়। পোর্টিং এর সময়সীমা রেগুলেশন অনুযায়ী জম্মু কাশ্মীর, অসম ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলি ব্যতীত অন্য সব পরিষেবা অঞ্চলে ৭ দিনের মধ্যে পোর্টিং-এর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে। জম্মু কাশ্মীর, অসম ও উত্তর পূর্বাঞ্চল রাজ্যের ক্ষেত্রে পোর্টিং এর প্রক্রিয় ১৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ করতে হবে। পোর্ট করা নম্বরের অ্যাক্টিভেশন গ্রহীতা অপারেটর গ্রাহক কে পোর্ট করার তারিখ ও সময় জানাবেন পোর্টিং-এর দিন, রাত্রি বেলায় ২ ঘন্টার জন্য পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে নির্দিষ্ট দিন ও সময়ের পরে পুরনো সিমের পরির্বতে গ্রহীতা অপারেটরের কাছ থেকে পাওয়া নতুন সিম ব্যবহার করুন। দ্রষ্টব্যঃ প্রি-পেইড সংযোগের ক্ষেত্রে পুরনো সিমের অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স নতুন সিমে স্থানান্তরিত হবে না। সুত্রঃ টেলি যোগাযোগ সংক্রান্ত গ্রাহক পুস্তিকা পশ্চিমবঙ্গ জন পরিষেবা অধিকার আইন ২০১৩ আইনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য রাজ্য সরকার সরকারি পরিষেবা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করতে ওয়েস্ট বেঙ্গল রাইট টু পাবলিক সার্ভিস অ্যারক্ট ২০১৩ বা পশ্চিমবঙ্গ জন পরিষেবা অধিকার আইন প্রনয়ণ করেছে। এই আইনের বিধিও সম্প্রতি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনসাধারণকে জানানো হয়েছে। আইনের মূল কথা হল, রাজ্য সরকারের সমস্ত দপ্তর, স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থা যেমন পঞ্চায়েত, পুরনিগম বা পুরসভা, রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন, রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রিত, রাজ্যের আর্থিক সাহায্যপ্রাপ্ত সংস্থা এবং রাজ্য সরকারের দ্বারা যথেষ্ট পরিমাণে আর্থিক সহায়তাপ্রাপ্ত অসরকারি সংস্থার কর্মীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেথ জনসাধারণের কাজ করে দেওয়ার জন্য দায়বদ্ধ। সেই কাজ যদি ঠিক সময়ে কোনও কারণ ছাড়াই তাঁরা করতে না পারেন তা হলে জবাবদিহি করতে হবে। প্রয়োজনে তাঁদের শাস্তির সম্মুখীনও হতে হবে। আর যে সব দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেে কাজ করে দেবেন, যাঁর বিরুদ্ধে কেউ গাফিলতির কোনও অভিযোগ করেননি, তিনি পুরস্কৃত হবেন। রাজ্য সরকারি দপ্তর বা উপরিউক্ত সংস্থাসমূহের কাছ থেকে নাগরিকরা কী কী পরিষেবা পাবেন এবং কোন সময়সীমার মধ্যে পাবেন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। রাজ্য সরকারের উপভোক্তা দফতর প্রণীত আইনে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার সময়ে সময়ে কোন কাজের জন্য কে দায়িত্বপ্রাপ্ত তা সাধারণ মানুষকে জানিয়ে দেবে। তাঁর কাছে নাগরিককে আবেদন করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ওই পরিষেবা দেবেন। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ওই পরিষেবা না পেলে ওই নাগরিক আপিল আধিকারিকের কাছে আবেদন জানাবেন। আপিল আধিকারিক বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আদেশ দেবেন। কার কাছে আপিল করতে হবে অর্থাৎ আপিল আধিকারিক কে, তা-ও রাজ্য সরকার জানিয়ে দেবে। আপিল আধিকারিকের আদেশে সন্তুষ্ট না হলে বা সময়মতো পরিষেবাটি না পেলে নাগরিক পুনর্বিবেচনা আধিকারিকের কাছে আবার আবেদন করতে পারবেন। এই কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত কে অর্থাৎ কে পুনর্বিবেচনা আধিকারিক তা গেজেটে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে রাজ্য সরকার জানিয়ে দেবে। আবেদনের ব্যবস্থা জন পরিষেবা অধিকার আইনের ৪ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট পরিষেবা পাওয়ার জন্য জনসাধারণকে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের কাছে আবেদন করতে হবে। প্রতিটি অফিসের প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক মনোনীত হবেন। সময়সীমা গণনা যে দিন লিখিত ভাবে বা অনলাইনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের কাছে আবেদন করা হয়েছে, সেই দিন থেকেই নির্দিষ্ট সময়সীমার গণনা শুরু হবে। আইনের ৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, প্রয়োজনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক আবেদন অগ্রাহ্য করতে পারেন। তবে কেন তিনি আবেদন অগ্রাহ্য করলেন তা লিখিত ভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানিয়ে দিতে হবে। আইনের ৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক আবেদন ফিরিয়ে দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আপিল আধিকারিকের কাছে ৩০ দিনের মধ্যেছ পুনর্বিবেচনার জন্য দরখাস্ত পেশ করতে পারেন। আপিল আধিকারিক সেই দরখাস্ত গ্রহণ করতে পারেন বা ফিরিয়ে দিতে পারেন। যদি আপিল ফিরিয়ে দেওয়া হয় সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পুনর্বিবেচনা আধিকারিকের কাছে ৬০ দিনের মধ্যে গোটা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে ফের আপিলটি গ্রহণ করার জন্য দরখাস্ত করতে পারেন। একই পদ্ধতিতে পুনর্বিবেচনা আধিকারিক হয় আপিলটি গ্রহণ করে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে বিষয়টি দেখতে বলবেন আর নয়তো তা অগ্রাহ্য করবেন। প্রয়োজনে কাজ না করার জন্য পুনর্বিবেচনা আধিকারিক দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা আরোপ করতে পারেন। যদি কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক আবেদন গ্রহণ করা সত্ত্বেও কাজ না করেন তা হলে সরাসরি পুনর্বিবেচনা আধিকারিকের কাছে অভিযোগ করা যেতে পারে। দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা আইনের ৬ নম্বর ধারাতেই বলা হয়েছে, আপিল আধিকারিক ও পুনর্বিবেচনা আধিকারিকের ফৌজদারি কার্যবিধি ১৯০৮ মোতাবেক কয়েকটি ব্যানপারে দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা রয়েছে। বিষয়গুলি হল— ক) তথ্য ও দলিল চেয়ে পাঠানো ও তা পরীক্ষা করে দেখা। খ) প্রয়োজনে সমন পাঠানো। গ) এ ছাড়াও যে কোনও উপযুক্ত বিষয়ে। জরিমানা ও শাস্তি আইনের ৭ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, পুনর্বিবেচনা আধিকারিক যদি দেখেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক পরিষেবা প্রদানে দেরি করেছেন তা হলে তিনি তাঁর উপর জরিমানা ধার্য করতে পারেন। কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী যদি পরিষেবা দিতে ইচ্ছাকৃত দেরি করেন তা হলে দৈনিক ২৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা জরিমানা করার অধিকার পুনর্বিবেচনা আধিকারিককে দেওয়া হয়েছে। তেমন বুঝলে পুনর্বিবেচনা আধিকারিক আপিল আধিকারিককেও জরিমানার আওতায় আনতে পারেন। পুনর্বিবেচনা আধিকারিক যদি দেখেন আপিল আধিকারিক যথেষ্ট ও যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিষেবাটি দিতে পারেননি, তবে তিনি আপিল আধিকারিকের উপর জরিমানা ধার্য করতে পারেন। সেই জরিমানার পরিমাণ ২৫০ টাকার কম বা ১০০০ টাকার বেশি হবে না। জরিমানা ধার্য করার আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে বা আপিল আধিকারিককে তাঁদের নিজ নিজ বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হবে। শাস্তিরও ব্যবস্থা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা আপিল আধিকারিকের বিরুদ্ধে শুধু আর্থিক জরিমানা চাপানোই নয়, পুনর্বিবেচনা আধিকারিক যদি দেখেন যথেষ্ট ও যুক্তিসংগত কারণ ছাড়াই দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা আপিল আধিকারিক কাজ করেননি তা হলে সার্ভিস রুলের আওতায় তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করতে পারেন তিনি। যদি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা আপিল আধিকারিক পুনর্বিবেচনা আধিকারিকের শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যা্পারে আপত্তি জানাতে চান তা হলে নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় ঊর্ধ্বতন অফিসারের কাছে আবেদন করতে হবে। এই উর্ধ্বতন অফিসারকে অবশ্যই যুগ্ম সচিব পর্যায়ের আধিকারিক হতে হবে। আইনের ৮ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, পুনর্বিবেচনা আধিকারিকের সুপারিশের বিরুদ্ধে ৬০ দিনের মধ্যেন যুগ্ম সচিবের কাছে উপযুক্ত কারণ দর্শিয়ে আবেদন পেশ করতে হবে। পুরস্কারের ব্যবস্থা আইনের ৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কেউ কোনও পরিষেবার জন্য আবেদন পেশ করলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে অনলাইনে বা অন্য ভাবে কাজের গতিপ্রকৃতি লক্ষ্য রাখার উদ্দেশ্যে একটি নম্বর প্রদান করা হবে। এই ধারাতেই বলা হয়েছে, যে সমস্ত সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে একটি অর্থবর্ষে এই সম্পর্কিত কোনও গাফিলতি পাওয়া যাবে না, যথাযথ আধিকারিক তাঁর জন্য অনধিক ১০০০ টাকা পুরস্কারের সুপারিশ করতে পারেন। পরিষেবা আইনের ১০ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থা যেমন পঞ্চায়েত, পুরনিগম বা পুরসভা, রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন, রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রিত, রাজ্যের আর্থিক সাহায্যপ্রাপ্ত সংস্থা এবং রাজ্য সরকারের দ্বারা যথেষ্ট পরিমাণে আর্থিক সহায়তাপ্রাপ্ত অসরকারি সংস্থার কর্মচারীরাও এই আইনের আওতায় পড়বেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা স্বশাসিত সংস্থা ওই সুপারিশ অনুযায়ী ওই অর্থ ওই কর্মীকে দেবে। একই সঙ্গে একটি শংসাপত্রও দেওয়া হবে। আইনের ১১ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোন দফতরের কোন কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীকে কত দিন সময় ধার্য করা হয়েছে তা সেই দফতরের সচিব বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনসাধারণকে জানিয়ে দেবেন। সময়ে সময়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে পরিষেবা প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা পাল্টানো যেতে পারে। নজরদারিতে কমিশন আইনের ১২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, রাজ্য সরকার পরিষেবা প্রদানের উপর নজরদারি চলানোর জন্য রাইট টু পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন করতে পারে। এই কমিশনের কাজ হবে দফতরগুলি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী নিয়োগ করেছে কিনা, আপিল আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছে কিনা বা পুনর্বিবেচনা আধিকারিক নিয়োজিত হয়েছে কিনা সে ব্যাাপারে নজরদারি চালানো। কমিশনার নিযুক্ত হবেন এক জন সচিব পর্যায়ের অফিসার। মানবাধিকার কমিশন বা তথ্যেনর অধিকার কমিশনের মতো এই কমিশনও স্বশাসিত কর্তৃপক্ষ হিসাবে কাজ করবে। কমিশনার নিয়োগ করার দায়িত্ব থাকবে রাজ্য সরকারের। আইনে বলা হয়েছে, কমিশনের মূল দফতর হবে কলকাতায়। আইনের মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারীরা যে জনসাধারণের কর্মচারী তা সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া। তাঁরা যে জনসাধারণের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য দায়বদ্ধ সে কথাও এই আইনের মাধ্যমে ভালো ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আইনটি কার্যকর হয়েছে ২০১৩-এর ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে। সূত্র : পশ্চিমবঙ্গ জন পরিষেবা অধিকার আইন ২০১৩