ভারতে প্রবীণদের অবস্থা দেশের আইন অনুসারে যে সব ভারতীয় নাগরিকের বয়স ষাট বছর বা তার বেশি তাঁরাই প্রবীণ নাগরিক হিসাবে গণ্য হন। ইউনাইটেড নেশনস পপুলেশন ফান্ড এবং হেল্পএজ ইন্ডিয়ার একটি রিপোর্ট অনুযায়ী ভারতে ২০১১ সালে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা ছিল ৯ কোটি। ২০২৬ সালে তা ১৭ কোটি ৩০ লক্ষে পৌঁছে যাবে। ৯ কোটি প্রবীণ নাগরিকের মধ্যে ৩ কোটি মানুষই একা বসবাস করেন। এবং ৯০ শতাংশ প্রবীণ নাগরিককেই বেঁচে থাকার জন্য কাজ করতে হয়। ভারত সরকারের ‘পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রক’ প্রকাশিত ‘সিচুয়েশন অ্যানালিসিস অফ দি এলডারলি ইন ইন্ডিয়া’ রিপোর্ট অনুযায়ী ২০০১ সালে দেশের মোট জনসংখ্যার ৭.১ শতাংশই ছিলেন প্রবীণ নাগরিক। পুরুষদের ভিতর প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ৭.১ শতাংশের সামান্য কম আর মহিলাদের মধ্যে এই হার ছিল ৭.৮ শতাংশ। রাজ্যগুলির মধ্যে এই পরিসংখ্যানের হার ৪ শতাংশ থেকে ১০.৫ শতাংশ পর্যন্ত। মোট জনসংখ্যার মধ্যে শতাংশের হারে সবচেয়ে কম সংখ্যক প্রবীণ পাওয়া গিয়েছে দাদরা নগর হভেলি, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, নাগাল্যান্ডে। আবার সবচেয়ে বেশি প্রবীণ পাওয়া গিয়েছে কেরলে। ৬৫ শতাংশ প্রবীণ নাগরিককেই দৈনন্দিন জীবনধারণের জন্য অন্যের উপর নির্ভর করেন। ২০ শতাংশেরও কম প্রবীণ মহিলা নাগরিক অর্থনৈতিক ভাবে স্বাধীন। প্রবীণ পুরুষদের মধ্যে সংখ্যা গরিষ্ঠই আর্থিক ভাবে স্বাধীন। ষাট বছরের বেশি বয়স্কদের মধ্যে ৪০ শতাংশই জীবিকার জন্য কর্মরত (৬০ শতাংশ পুরুষ ও ১৯ শতাংশ মহিলা)। গ্রামীণ এলাকায় ৬৬ শতাংশ প্রবীণ পুরুষ নাগরিক ও ২৩ শতাংশ বয়স্কা মহিলা দৈনন্দিন অর্থনৈতিক কাজকর্মে অংশ নেন। শহরাঞ্চলে ৩৯ শতাংশ বয়স্ক পুরুষ ও ৭ শতাংশ বয়স্ক মহিলা অর্থনৈতিক কাজকর্মে নিয়োজিত। নাম থেকেই বোঝা যায়, ভারত সরকারের সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক সামাজিক অসাম্য, বৈষম্য, শোষণ ও অবিচারের শিকার সমাজের এমন অংশকে সমান আসনে বসানোর লক্ষ্যে কর্মরত। মন্ত্রকের সোশাল ডিফেন্স ব্যুরো মদ্যপানে ও অন্যান্য নেশায় আসক্ত ব্যক্তিদের কল্যাণের জন্য যেমন কাজ করে তেমনই প্রবীণদের কল্যাণের বিষয়টি দেখশোনা করে। এই ব্যুরোর নীতি ও কর্মসূচি হল এই ধরনের মানুষজন যাতে সম্মান ও শ্রদ্ধা নিয়ে দেশের কাজে সামিল হওয়া নাগরিক হিসাবে বেঁচে থাকতে পারেন তার ব্যবস্থা করা। এই প্রক্রিয়ায় ব্যুরো স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজকে তুলে ধরে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে। নীতি তৈরি করা ও তা রূপায়ণে রাজ্য সরকার, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, এনজিও এমনকী কর্পোরেট দুনিয়াও জড়িত। সমস্ত কর্মসূচির লক্ষ্য হল সেই সব বঞ্চিত মানুষজনকে সাহায্য করা, তাঁদের অবহেলা, দুর্ব্যবহার ও শোষণ থেকে মুক্ত করা এবং সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা। প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য ভারত সরকার ১৯৯৯ সালে জাতীয় প্রকল্প ঘোষণা করেছে। এই বছরটিকে আন্তজার্তিক প্রবীণ বর্ষ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ওই বছর রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী ভারত সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অন্যতম লক্ষ্য হল, সংবিধানে প্রদত্ত অধিকারগুলি প্রবীণদের জন্য সুরক্ষিত করা। সংবিধানের ৪১ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রবীণ নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বলা হয়েছে — ‘রাষ্ট্র তার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার মধ্যে থেকে প্রবীণদের ক্ষেত্রে সরকারি সাহায্য পাওয়ার সুনিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।’ সমতার অধিকারকে সংবিধানে মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়টি কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। পরবর্তী স্তরে বিভিন্ন আন্তজার্তিক কর্মকাণ্ড প্রবীণদের জন্য জাতীয় নীতিকে রূপায়ণের ব্যাপারে প্রভাবিত করেছে। এই আন্তজার্তিক কর্মসূচিগুলি হল- ২০০২ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদে গৃহীত ‘ইউনাইটেড নেশনস প্রিন্সিপালস ফর সিনিয়ার সিটিজেন্স’ এবং ‘মাদ্রিদ প্ল্যান অফ অ্যাকশন’, ১৯৯২ সালে সাধারণ পরিষদে গৃহীত ‘প্রোক্লামেশন অন এজিং অ্যান্ড জেনারেল টার্গেটস অন এজিং ফর দ্য ইয়ার ২০০১’, ‘সাংহাই প্ল্যান অফ অ্যাকশন’, ইউনেস্কাপ গৃহীত মাকাউ আউটকাম ডকুমেন্ট ২০০৭। এই ঘোষণাগুলির মাধ্যমে সরকারগুলিকে নিজস্ব নীতি তৈরি করা ও তা কার্যকর করার ব্যাপারে সময়ে সময়ে উৎসাহিত করা হয়েছে। ভারত সরকার এই প্রতিটি দলিলের স্বাক্ষরকারী হয়ে প্রবীণদের স্বার্থরক্ষায় তাঁর দায়বদ্ধতা দেখিয়েছে। সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক প্রবীণদের জন্য সুসংহত নিরাপত্তা মূলক প্রকল্প চালু করেছে। এ ছাড়া তাঁদের জন্য পেনশন, ভ্রমণে ভাড়ায় ছাড়, আয়করে ছাড়, চিকিৎসার সুযোগ, সেভিংসে অতিরিক্ত সুদ প্রদান চালু হয়েছে। পাশাপাশি বৃদ্ধাশ্রমগুলিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান, ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করা, মেডিক্যাল ভ্যানের ব্যবস্থা করা, হেল্প লাইন চালু করার ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে প্রবীণদের নেওয়া অন্য মন্ত্রকগুলির সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির সঙ্গে সুসংহত ভাবে কাজ করা যায়। এই মন্ত্রকের নেওয়া ‘মেইনটেনেন্স অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অফ পেরেন্টস অ্যাক্ট ২০০৭’ আইনটি একটি দিকদর্শী পদক্ষেপ। এই আইনটি বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে রূপায়িত করা হচ্ছে। প্রবীণদের জন্য সুবিধা ও ছাড় সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক প্রবীণ নাগরিকদের জন্য কল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ক্ষমতায়ন মন্ত্রকই হল প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত। এই মন্ত্রক প্রবীণ নাগরিকদের জন্য জাতীয় নীতি ঘোষণা করেছে যার লক্ষ্য হল প্রবীণদের কল্যাণ সম্পর্কিত প্রতিটি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া। জাতীয় নীতিতে বলা হয়েছে, ৬০ বছর বা তদোর্দ্ধ নাগরিকরা ‘প্রবীণ নাগরিক’। তাঁদের কল্যাণের লক্ষ্যে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি নেওয়া হচ্ছে --- প্রবীণদের জন্য সুসংহত কর্মসূচি (যোজনাভুক্ত প্রকল্প) -- আগের ‘অ্যাসিস্ট্যান্স টু ভোলান্টারি অর্গানাইজেশনস ফর প্রোগ্রামস রিলেটিং টু দ্য ওয়েলফেয়ার অফ দি এজেড’-কে পরিবর্তিত করে নতুন প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় বৃদ্ধাশ্রম, ডে-কেয়ার সেন্টার ও চলমান চিকিৎসা সহায়তা ইউনিট তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এবং প্রবীণদের অপ্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রকল্প খরচের ৯০ শতাংশ টাকা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে দেওয়া হয়। বৃদ্ধাশ্রম/প্রবীণদের জন্য বহুমুখী পরিষেবা কেন্দ্র গড়তে পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠান/স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা/স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে সহায়তা প্রকল্প (যোজনা-বহির্ভূত প্রকল্প) -- এই প্রকল্প অনুসারে বৃদ্ধাশ্রম/বহুমুখী পরিষেবা কেন্দ্র তৈরির জন্য রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারের সুপারিশক্রমে বেসরকারি সংস্থাকে এককালীন অনুদান দেওয়া হয়। অন্যান্য মন্ত্রক অর্থ মন্ত্রক বছরে ৩ লক্ষ টাকা আয় পর্যন্ত আয়করে ছাড় দেওয়া হয়েছে। সেভিংস স্কিমগুলিতে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বেশি সুদের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডাকঘর সঞ্চয় প্রকল্পে প্রবীণ নাগরিকদের সঞ্চয়ের উপর বছরে ৯ শতাংশ সুদ প্রদান করা হয়। সড়ক পরিবহণ ও হাইওয়ে মন্ত্রক রাজ্য সড়ক পরিবহণ সংস্থার সব বাসে সামনের দিকে দু’টি আসন প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা রয়েছে। কিছু কিছু রাজ্য সরকার প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সরকারি বাসে ভাড়ায় ছাড় দিচ্ছে এবং নতুন বাস মডেল চালু করেছে যাতে প্রবীণ নাগরিকদের উঠতে নামতে অসুবিধা না হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক হাসপাতালে নাম নথিভুক্ত করার জন্য এবং ক্লিনিকাল পরীক্ষার জন্য প্রবীণ নাগরিকদের আলাদা লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। টেলিযোগাযোগ দফতর ভিআইপি ফ্ল্যাগ বা সর্বাগ্রে সুযোগ প্রদানের সুবিধা দিয়ে প্রবীণ নাগরিকদের অভিযোগ বা ফল্ট সংক্রান্ত অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা। প্রবীণ নাগরিকরা তাঁদের টেলিফোন সংযোগ ‘নন- ওন ইওর টেলিফোন’ নামক বিশেষ বর্গের আওতায় নথিভুক্ত করাতে পারেন। এই বর্গে নথিভুক্তদের সবার আগে সুবিধা দেওয়া হয়। রেল মন্ত্রক ভারতীয় রেল প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ভাড়ায় ৩০ শতাংশ ছাড় দেয়। যে সব প্রবীণ ৬০ বছর বা তার বেশি বয়স্ক তাঁরা রাজধানী, শতাব্দী, জনশতাব্দী-সহ যে কোনও মেল বা এক্সপ্রেস ট্রেনে ভাড়ায় ছাড় পান। টিকিট কাটা, বুকিং করা, টিকিট ক্যান্সেল করার জন্য ভারতীয় রেল প্রবীণ নাগরিকদের সুবিধার্থে আলাদা কাউন্টারের ব্যবস্থা করেছে। জংশন স্টেশন, জেলার সদর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে প্রয়োজন আছে এমন ব্যক্তিদের জন্য এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের প্রবেশ দ্বারে হুইলচেয়ার নিয়ে যাওয়ার জন্য র্যাম্প বা ঢালের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হুইলচেয়ার ঢোকানো যায় এমন বিশেষ ব্যবস্থা যুক্ত কোচ, প্রতিবন্ধীরা ব্যবহার করতে পারেন এমন বিশেষ টয়লেট, হ্যান্ড রেলের ব্যবস্থা করা শুরু হয়েছে। অসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রক ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স সাধারণ ইকনমি ক্লাসের টিকিটে অভ্যন্তরীণ উড়ানে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য ৫০ সতাংশ ছাড় দেয়। প্রবীণ পুরুষ নাগরিকদের মধ্যে যাঁদের বয়স ৬৫ হয়েছে এবং মহিলা নাগরিকদের ক্ষেত্রে যাঁদের বয়স ৬৩ হয়েছে তাঁরা শর্তাধীনে এই ছাড়ের সুযোগ পাবেন। আমেরিকা, গ্রেট ব্রিটেন এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশের উড়ানের ক্ষেত্রে এয়ার ইন্ডিয়া ষাটোর্দ্ধ নাগরিকদের জন্য ভাড়ায় ছাড় দিয়ে থাকে। পাশাপাশি এয়ার ইন্ডিয়া তাদের অভ্যন্তরীণ উড়ানগুলির জন্যও ষাটোর্দ্ধ নাগরিকদের ক্ষেত্রে ভাড়ায় ছাড় দেওয়ার আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ক্রেতা সুরক্ষা, খাদ্য ও গণবন্টন ব্যবস্থা সম্পর্কিত মন্ত্রক অন্ত্যোদয় প্রকল্প অনুসারে দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী পরিবারগুলিপ্রবীণ নাগরিক-সহ) মাসে পরিবার পিছু ৩৫ কিলো খাদ্যশস্য পায়। চালের জন্য দাম নেওয়া হয় তিন টাকা প্রতি কিলো, গম দু’ টাকা প্রতি কিলো। চিহ্নিতকরণের ক্ষেত্রে দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী প্রবীণ নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। যে সব প্রবীণ নাগরিক পেনশন স্কিমের আওতায় আসেননি তাঁদের রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারগুলির চালু করা অন্নপূর্ণা প্রকল্প অনুযায়ী প্রতি মাসে নিখরচায় ১০ কেজি করে খাদ্যশস্য দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারগুলিকে বলা হয়েছে, রেশন দোকানে রেশন প্রদানের ক্ষেত্রে প্রবীণ রেশন কার্ডধারী ব্যক্তিদের সুবিধা দিতে। দিল্লি পুরসভা ও বিবিধ দিল্লি পুরসভা দিল্লি পুরসভা সম্পত্তিকর প্রদান করার ক্ষেত্রে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য আলাদা কাউন্টার খুলেছে। ৬৫ বছর বয়স্ক কোনও মানুষ যদি একক ভাবে একটি বাড়ির মালিক হন তবে তাঁর প্রদেয় সম্পত্তিকরে বিশেষ ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই ছাড়ের পরিমাণ ১০০ বর্গমিটার পর্যন্ত কভার্ড স্পেসের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ। বিবিধ প্রবীণ নাগরিকরা জড়িয়ে আছেন এমন মামলাগুলির ক্ষেত্রে দেশের আদালতগুলিতে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। প্রবীণদের পেনশন প্রকল্পে নিরাশ্রয়দের জন্য বিভিন্ন রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন বিভিন্ন হারে পেনশন প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। প্রবীণদের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস বিশ্ব জুড়ে ১ অক্টোবর দিনটিকে প্রবীণদের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস হিসাবে উদযাপন করা হয়। সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রক প্রবীণ নাগরিকদের জন্য গৃহীত প্রকল্পগুলির নোডাল এজেন্সি হিসাবে কর্মরত। সেই কারণে এই মন্ত্রকের তরফে এই দিনটিতে বেশ কয়েকটি কর্মসূচি পালন করা হয়। মন্ত্রকের পক্ষে এই দিন বয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে বিশিষ্টজনদের বয়ঃশ্রেষ্ঠ সম্মান প্রদান করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হল প্রবীণদের প্রতি সরকারের কর্তব্য ও দায়বদ্ধতার বিষয়টিকে তুলে ধরা এবং প্রবীণ ব্যক্তিরা সমাজকে যে সেবা দিয়ে এসেছেন তাকে স্বীকৃতি জানানো। মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ১ অক্টোবর আয়োজিত কর্মসূচিতে দু’টি অনুষ্ঠান হয় --- সকালে ‘ওয়াকাথন’ যেখানে প্রবীণ নাগরিকদের সঙ্গে স্কুলের বাচ্চারও অংশ নেয়। এর উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষের মধ্যে বন্ধনমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলা। সন্ধ্যায় সমাজকে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য সেবার জন্য প্রবীণ নাগরিকদের সম্মান জানানো এবং বয়ঃশ্রেষ্ঠ সম্মান প্রদান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সূত্র : Ministry of Social Justice and Empowerment