পরিবহণ শ্রমিক কারা বাণিজ্যিক কারণে ব্যবহৃত যানবাহন যথা বাস, ট্যাক্সি, লাক্সারি ট্যাক্সি, হাল্কা বাণিজ্যিক যানাহন, ভ্যান, অটোরিক্সা, টেম্পো, লরি, ট্রাক প্রভৃতির সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকগণ এই প্রকল্প অনুযায়ী পরিবহণ শ্রমিক। পরিবহণ শ্রমিকের পরিবার বলতে কাদের বোঝায়? পরিবহণ শ্রমিকের পরিবার বলতে শ্রমিকের স্ত্রী বা স্বামী, একুশ বছর বয়সি পর্যন্ত পুত্র, অবিবাহিত বা বিধবা কন্যা, নির্ভরশীল পিতামাতা, মৃত সন্তানের বিধবা ও তাঁর ছেলেমেয়েদের বোঝায়। প্রকল্পের সুবিধা কী ভাবে পাওয়া যায় প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য এই প্রকল্পের অধীনে নথিভুক্ত হওয়া প্রয়োজন। প্রকল্পে নথিভুক্ত হওয়ার জন্য শ্রমিককে ফর্ম-১-এ যথাযথ পূরণ করে সংশ্লিষ্ট শ্রম কমিশনারের অফিসে জমা দিতে হবে। সঙ্গে দিতে হবে— ক) ৩০টাকা রেজিস্ট্রেশন ফি খ) শ্রমিকের তিন কপি ছবি ও তাঁর উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের দু’কপি করে ছবি। গ) বয়সের প্রমাণপত্র ঘ) ঠিকানার প্রমাণপত্র আবেদনপত্র ও টাকা কোথায় জমা দিতে হবে? পঞ্চায়েত এলাকায় ব্লকে অবস্থিত শ্রমিক কল্যাণ সহায়তা কেন্দ্রে এবং পৌরসভা এলাকায় শ্রমিক কল্যাণ সহায়তা কেন্দ্রে বা উপ/সহ শ্রম কমিশনারের অফিসে। সদস্যপদ পুনর্নবীকরণ কী ভাবে হবে? সদস্যপদ অন্তর্ভুক্তির এক বছর পর পরিবহণ শ্রমিককে পুনরায় ৩০ টাকা দিয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রমিক হিসাবে ফর্ম ৩-র মাধ্যমে সদস্যপদ পুনর্নবীকরণ করতে হবে। নথিভুক্ত শ্রমিকরা কী কী সুবিধা পাবেন ১) পেনশন: এক টানা পাঁচ বছর সদস্য থাকলে ৬০ বছরের পর নির্দিষ্ট হারে পেনশন। চিরস্থায়ী প্রতিবন্ধকতা জনিত পেনশন: দুর্ঘটনাজনিত কারণে ষাট বছর পূরণ হওয়ার আগেই প্রাপ্য। ২) দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যু ও চিরস্থায়ী প্রতিবন্ধকতা জনিত সাহায্য: দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে মৃত শ্রমিকের মনোনীত ব্যক্তি (নমিনি)/নির্ভরশীল/আইনি উত্তরাধিকারীর জন্য এককালীন এক লক্ষ টাকা অনুদান। নথিভুক্ত অবস্থায় স্বাভাবিক মৃত্যু হলে ৩০ হাজার টাকা অনুদান, দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতির ক্ষেত্রে অঙ্গহানির পরিমাণ অনুযায়ী ৪ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান। ৩) চিকিৎসা সংক্রান্ত সুযোগ সুবিধা: দুরারোগ্য ব্যধির জন্য যে ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা প্রয়োজন সে ক্ষেত্রে শ্রমিক পিছু ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান। অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুদান। ৪) মাতৃত্বকালীন সুবিধা: সর্বোচ্চ দু’বার তিন হাজার টাকা পর্যন্ত হারে প্রাপ্য। ৫) চশমা ক্রয় বাবদ: পাঁচ বছরে এক বার পাঁচশো টাকা পর্যন্ত সাহায্য। ৬) মৃত শ্রমিকের সৎকার বাবদ: তিন হাজার টাকা সাহায্য। ৭) সন্তানদের পড়াশোনার জন্য সাহায্য: সর্বাধিক দুই সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য দু’হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাহায্য। ৮) কন্যার বিবাহে সাহায্য: সর্বাধিক দুই কন্যা সন্তানের বিবাহের জন্য প্রতি ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার টাকা করে সহায়তা। সুত্রঃ পোর্টাল কনটেন্ট টিম