পশ্চাৎপট ওবিসিভুক্তদের শিক্ষাগত পশ্চাৎপদতার দিকে তাকিয়ে ১৯৯৮-১৯৯৯ সাল থেকে ওবিসি ভুক্ত ছেলে ও মেয়েদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্যে হোস্টেল নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বহু গ্রামীণ এলাকায় মাধ্যমিক স্তরের স্কুল বা কলেজ না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা বিশেষ করে যারা দুর্বল সম্প্রদায়ভুক্ত, হয় পড়াশোনা ছেড়ে দেয় আর না হয় দূরবর্তী কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েও মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় যুক্তিসঙ্গত খরচে থাকার মতো হোস্টেল না থাকায়। সুতরাং এই সব দূরবর্তী গ্রামীণ এলাকার গরিব পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে নিয়ে যেতে পারে সে দিকে লক্ষ্য রেখেই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। প্রকল্প চালু হওয়ার সময় থেকে ২০০৯-২০১০ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের সহায়তায় দেশ জুড়ে মোট ৮১১টি হোস্টেল চালু করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের হোস্টেল নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে ৫০:৫০ শেয়ারের ভিত্তিতে খরচ ভাগ করা হয়। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ টাকাই কেন্দ্রীয় সরকার দেয়। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেমন কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ক্ষেত্রেও এ ধরনের হোস্টেল নির্মাণের পুরো খরচ কেন্দ্রীয় সরকার বহন করে। ২০১০-২০১১ সালে প্রকল্পটি সংশোধিত হয়েছে। উদ্দেশ্য এই প্রকল্পের লক্ষ্য সামাজিক ও শিক্ষাগত ভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণের ব্যবস্থা করা, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়, যাতে এ ধরনের ছাত্র-ছাত্রীরা মাধ্যমিক ও তৎপরবর্তী উচ্চস্তরের শিক্ষালাভে সক্ষম হয়। সংশোধিত প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ২০১০-২০১১ সালে এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলি করা হয়েছে— আগে কেবলমাত্র রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বা বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রকল্পের অধীনে সহায়তা পেত। কিন্তু এখন থেকে ভালো ঐতিহ্য রয়েছে এমন বেসরকারি সংগঠনও (এনজিও) এই প্রকল্পের সাহায্য পেতে পারবে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য ও সিকিমে কেন্দ্রীয় সাহায্যের পরিমাণ ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা হয়েছে। একশো আসন বিশিষ্ট হোস্টেলের ক্ষেত্রে কাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার তালিকা তৈরি করা হয়েছে যাতে হোস্টেলগুলির গুণমান ও বসবাসের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো যায় এবং গোটা দেশজুড়ে এ ধরনের হোস্টেলগুলির সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য রাখা সম্ভব হয়। এই প্রকল্পের আওতায় হোস্টেলগুলিকে প্রতিটি আসন পিছু এককালীন ২৫০০ টাকা আসবাব ক্রয়ের জন্য অনুদান। যে সমস্ত এজেন্সি সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য তারা হল— রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন। বিধি দ্বারা স্থাপিত কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা যেমন-কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, আইআইটি, এনআইটি প্রভৃতি। ১৮৬০ সালের সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের দ্বারা বিধিবদ্ধ সংস্থাও এই সুযোগ পেতে পারে। ওবিসিদের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণের কাজ করে (বিশেষ করে শিক্ষাক্ষেত্রে) এমন ঐতিহ্যশালী এনজিও সাহায্য পেতে পারে। তবে অনুদানের জন্য আবেদন করার অন্তত দু’ বছর আগে তাদের রেজিস্টার্ড হতে হবে। এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হোস্টেলের স্থান ও সামর্থ্য হোস্টেলের অনুমোদন দেওয়ার সময় নিম্নলিখিত বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে- যে সব অঞ্চল বা জেলা এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পের আওতায় আসেনি এবং যে সব জেলা বা শহরে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। যত দূর সম্ভব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে হোস্টেল নির্মাণ করতে হবে। সর্বোচ্চ ১০০ আসনের হোস্টেলের অনুমোদন দেওয়া হবে। ২৫ বা ৫০ আসনের হোস্টেল নির্মাণের জন্যও অনুমোদন দেওয়া যেতে পারে। এই হোস্টেলে যে সব ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির সুযোগ পাবে তাদের যোগ্যতা : নিম্নলিখিত যোগ্যতামান পূরণ করলে তবেই ওবিসিভুক্ত ছাত্র-ছাত্রীরা এ ধরনের হোস্টেলে থাকার সুযোগ পাবে --- যে সব ছাত্র-ছাত্রী কেন্দ্রীয় বা রাজ্য তালিকা অনুযায়ী ওবিসি ভুক্ত। এবং যারা সমাজের অর্থবান স্তর থেকে আসেনি। হোস্টেল মূলত ম্যাট্রিক-পরবর্তী পাঠক্রমের ছাত্রদের জন্যই নির্দিষ্ট। তবে আসন খালি থাকলে সেকেন্ডারি বা মাধ্যমিক পর্যায়ভুক্ত ছাত্র-ছাত্রীদেরও ভর্তি নেওয়া যেতে পারে। কম আয়ের পরিবার থেকে আসা ওবিসি ছাত্র-ছাত্রীদের সুযোগ দেওয়ার ব্যাপারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অন্তত ৫ শতাংশ আসন প্রতিবন্ধী ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে। আরও তথ্যের জন্যঃ- কনস্ট্রাকশন অফ হোস্টেল ফর ওবিসি বয়েজ অ্যান্ড গার্লস সুত্রঃ পোর্টাল কনটেন্ট টিম